somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সিনেমা প্রেম (দ্বিতীয় পর্ব)

২৬ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বিতীয় পর্ব শুরু করার আগে প্রথম পর্বের কিছু ফাক ফোকরের (ভুলে যাওয়া) কথা জানিয়ে দেই।
সিনেমা দেখার শুরু আমার বড় ফুপুর বাসায়। সেখানেই এক দুপুরে একটি ভিসিপির আগমন ঘটে। প্রথম যে সিনেমাটি দেখা হয়, তার নাম ছিল ‌'সত্যমেভ জয়তে' বিনোদ খান্না, মিনাক্ষি শেষাদ্রি, অনিতা রাজ, মাধবী, শক্তি কাপুর ও অনুমপ খের ছিলেন সে সিনেমার অভিনয় শিল্পী। এক বসায় টানা তিনটি সিনেমা দেখা হয়। দ্বিতীয়টি ছিল সুনিল দত্ত ও নতুনের ‌'খান্দান'। তৃতীয়টি সম্ভবত একটি বাংলা সিনেমা ছিল নাম মনে পরছে না। তারপর ‌'শো' চলে রাতের বেলা।

ভিডিও ভিনটেজের কথা উল্লেখ করেছি। সেখানে এলাকার কয়েকজন বড় ভাইকে পেয়েছিলাম। মঞ্জু ভাই, দুর্দান্ত ফুটবল খেলতেন তিনি। ঢাকার মাঠ কাপানো সাব্বির, মনু এরা সব এক সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন। তবে লেথাপড়াও সমান ভাবে চালানো কারণেই হয়তো পেশাদার ফুটবল কখনো খেলেননি। ঢাবি থেকে একাউন্টিংয়ে এম এ করছেন। অবসর সময়ে ভিনটেজে বসতেন। আমি থাকতাম ১৭ নম্বরে আর মঞ্জু ভাই থাকতেন ১৯ এ। ১৮ তে থাকতেন টিপু-শিপু দুই ভাই। এনারাও ভিনটেজে বসতেন। শেখ সাহেব বাজারের পরভেজ ভাই ছিলেন মঞ্জু ভাইয়ের স্কুল বন্ধু। আমার সিনেমা দেখার গুরু এরাই।

কিচুদিন পরে ভিনটেজে যুক্ত হন তৌফিক ভাই। ইনি তখন এমবিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। থাকতেন কলোনিতেই, সম্ভবত ৬৭ নম্বরে। তৌফিক ভাইয়ের দুই ব্যচ সিনিয়র সাব্বু ভাইয়ের সঙ্গেও পরিচয় ভিনটেজেই। বলতেই হবে, আমার মধ্যে ইংরেজি সিনেমার, ভাল সিনেমার ভুতটা অনেকটা ইনেজেক্ট করে ঢোকান তৌফিক ভাই ও সাব্বু ভাই। দুজনেই প্রচুর মুভি দেখতেন আর আমাকে দেখার উৎসাহ দিতেন।

প্রথম দেখা ইংরেজি সিনেমা সম্ভবত 'ওয়ার বাস'। ভিয়েতনাম ওয়ার নিয়ে প্রপাগান্ডা টাইপ একটা মুভি। এটা বেছে নেওয়ার কারণ হলো, কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বাসায় 'ক্যাসেট'টি দেখেছিলাম, কিন্তু মুভিটি দেখার সুযোগ পাইনাই। যখন ফুপাতো ভাই ইংরেজি সিনেমার কথা বলেছিল, প্রথম নামটা সেটাই এসেছিল মাথায়। তবে এক কথায় ফালতু সিরনমা। তবে তখন খুব মজা পেয়েছিলাম।

যাই হোক রাত দিন সিনেমা দেখি। হিন্দ, ইংরেজি, বাংলা.. সমান তালে সবই চলে। বড় ফুপুর বড় ছেলে, ফিল্ম ফেয়ার থেকে মেম্বার হলেন। তখনো ফিল্ম ফেয়ারের ধানমস্ডি শাখা হয়নি। সোবহানবাগেই তাদের একমাত্র শাখাটি। সেই ফিল্ম ফেয়ারের গা ঘেষেই ছিল আরেকটি লাইব্রেরি, সেখানেই বসতেন এলাকার আরেক ছেলে নাম গুড্ডু। বয়সে অমার চাইতে বড় হলেও এক সঙ্গে খেলার সুবাদে নাম ধরেই ডাকতাম। পরে াবশ্য লাইব্রেরিটি লালমাটিয়ায় স্থানান্তরীত হয়।

ফুপাতো ভাই (বড়জন) ঢাকা কলেজে পরেন। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অলোকিত মানুষ হওয়ার দলেও যোগ দিয়েছেন। গড ফাদারও সে সময়েই দেখা। সে সময়েই তার কাছ থেকেই ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা, জর্জ লুকাস, স্টিফেন স্পিলবার্গ, উডি অ্যালেনের সঙ্গে পরিচয়। সে সময়েই অন্য ভাষার মুভিও টুকটাক দেখা শুরু হয়ে গেছে। বলা বহুল্য, তারকোভস্কি, ত্রুফো আর গদারের নামের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেছে একই সঙ্গে। একই ভাবে প্রচুর হিন্দি সিনেমাও দেখা চলছে। আগেই বলেছি, সিনেমার সঙ্গে আমার সখ্যতা অনেক পুরোনো দিনের। বাসায় চিত্রালি, পূর্বানি দুটোই রাখা হতো। সেখানেও মাঝে মধ্যে বলিউডি তারকাদের ছবিও থাকতো। সেগুলো পড়ে পড়ে 'জ্ঞ্যান' অর্জনই ছিল আমার লক্ষ্য।

ভিনটেজ থেকে যেমন জ্বালাকার রাখ কার দু্ঙ্গা, জ্বিনে নেহি দু্ঙ্গা, ম্রায় বলবান হু ধরনের মুভি দেখেছি, একই সময়ে অর্থ, মাণ্ডি, ভবনি ভবায়ী, অর্ধসত্যও দেখেছি। মোট কথা, প্রতিদিন সিনেমা দেখতে হবে, সেটা কি দেখছি সেটা আমাদের দুই ভাইয়ের কাছে মুখ্য ছিল না। একটি বা দুটি সিনেমার টাকা দিতেন ফুপা। ফুফুও মাঝে মধ্যে টাকা দিতেন। ফুপাতো ভাই হাত খরচ পেতো। আর হাতে টাকা না থাকলে দাদির কাছে তো হাত পাতাই যায়।


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরায়েলকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীর মত থাকাই দরকার।

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ৯:১৮



একটি জনগণ কিভাবে নিজেদের জন্য নরক ডেকে আনতে পারে-
গাজার জনগণ তার জ্বলন্ত প্রমান। এরা হামাসকে নিরংকুশ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে কারণ হামাস ইসরায়েলের ভৌগলিক এবং রাজনৈতিক অস্ত্বিত্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প: শেষ রাতের সুর

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:০১

রাফি সাহেবের বয়স এখন সত্তরের কাছাকাছি। ঢাকার অদূরে, গাজীপুরের একটি ছোট্ট গ্রামে তাঁর বাড়ি। শেষ রাতে তিনি আজও কান খাড়া করে শুয়ে থাকেন। কে গায়? কোথা থেকে যেন একটা অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১১:৪৯

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

কথা সাহিত্যিক শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বহু বছর আগে তার “শ্রীকান্ত” উপন্যাসে ইন্দ্রকে দিয়ে সর্বকালীন এবং সর্বজন গৃহীত একটি উক্তি করিয়েছিলেন, সেটি হলো,- ”মরার আবার জাত কি”!

মৃতদেহ সৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প: শেষ রাতের সুর (পর্ব ২)

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৫০

রাফি সাহেবের পড়ে যাওয়ার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। সকালের মিষ্টি রোদ গাজীপুরের এই ছোট্ট গ্রামে যখন পড়ছে, তখনই কাজের লোক রহিমা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল। সিঁড়ির নিচে রাফি সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপসকামী বিরোধী রাজনীতিবিদদের জন্য পাঁচ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়.....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:০১


..... বলেছেন নাগরিক জাতীয় পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ মিয়া বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস ও ফখরুল সাহেব কে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন। নাগরিক জাতীয় পার্টির নেতারা নিজেদের পচানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×