নাজি ... নাৎসি ... হিটলার ... জার্মানী ...
কি রহস্য আছে এই শব্দগুলোতে কে যানে !!! এতো বছর পরেও নিত্য নতুন রহস্য উৎঘাটন হয়েই চলছে। ইহুদি নিধনের নামে যে নিষ্ঠুরতার ইতিহাস তারা জন্ম দিয়েছিল তার কোন বর্ননাই চলে না। নাজি বাহিনীতে মনে হয় সবই ছিল নিষ্ঠুর। আজ বলবো নাজি ক্যাম্পে কর্মরত কিছু নিষ্ঠুর নারীর কথা যারা তাদের নির্মমতার জন্য পরিচিত ছিল। আসুন পরিচিত হওয়া যাক নাজি ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম কিছু "ইভিল ওমেন"এর সাথে।
১) Ilse Koch
তাকে ডাকা হতো “The Witch of Buchenwald,” “The Bitch of Buchenwald,” “The Beast of Buchenwald” নামে। এ কিন্তু নাজি বাহিনীতে ছিল না, SS এ জয়েন করার মত ক্ষমতাও তার ছিল না। সে ছিল Buchenwald এর কমান্ডার Karl Koch এর বৌ। এই বেটা তার বৌ এর ভিতর লুকিয়ে থাকা এই প্রতিভা দেখতে পেয়ে তাকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে দায়িত্ব দেয়া হয়। সে নিষ্ঠুরতাকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায় যা বিশ্বাস করা যায় না।
কনসেনট্রেশন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় যদি কোন বন্দির চামড়া পছন্দ হতো বা যদি কারো গায়ে ট্যাটু না উল্কি আঁকা থাকতো তাহলে এই মহিলা তাদের হত্যা করতো, তাদের গায়ের চামড়া দিয়ে বইয়ের মলাট বা ছবি আঁকার জন্য আর্ট পেপার বানাতো।


১৯৪৩ সালে তার স্বামীকে SS গ্রেফতার করে সম্পত্তি আত্মসাত করার অপরাধে। সাথে তাকেও ধরে নিয়ে যায়। পরে তার স্বামীকে হত্যা করা হলেও তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ছাড়া পেয়েই সে এলিট বাহিনীর হাতে আবার গ্রেফতার হয়। যুদ্ধাপরাধের জন্য তার যাবৎজীবন কারাদন্ড হয়।
১৯৬৭ সালে সে আত্মহত্যা করে।
২) Dorothea Binz
১৯৪৩ সালে এই মহিলা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের গার্ড হিসাবে ক্যারিয়ার শরু করে এবং প্রমোশন পেয়ে সে প্রথমে Ravensbruck এবং পরে Buchenwald এর ডেপুটি চিফ ওয়ারস হয়। সে পরিচিত ছিল বন্দিনীদের প্রহার, গুলি করা ও পিটিয়ে হত্যা করা জন্য। কথিত আছে সে একজন বন্দিনীকে কুড়াল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে সে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হয় এবং ২রা মে, ১৯৪৭ সালে তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
৩) Elisabeth Volkenrath
উপরের জনের ছাএী ছিল ইনি। সে জল্লাদ ছিল কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের। ম্যাডামের মত তাকেও তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
৪) Ruth Neudeck
১৯৪৪ সালে সে হিটলারের নজরে পরে। অবশ্যই তার নির্মমতার জন্য। যুদ্ধের পর যখন এর বিচার চলছিল তখন একজন বন্দিনী তার জবানবন্দিতে বলে যে, সে নাকি এক বন্দিনীর গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে শাবল দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে মেরে ফেলেছিল। যুদ্ধের পর সে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার হয় এবং তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
৫) Maria Mandel
The Beast বলা হতো তাকে। তাকে বলা হয় কমান্ডার অফ Auschwitz-Birkenau concentration camp। সে আগে থেকেই বিখ্যাত ছিল তার নিষ্ঠুরতার জন্য। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে তার হাতে, তার প্রত্যক্ষ অর্ডারে ৫,০০,০০০ জন বন্দির মৃত্যু ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলে যে সে বন্দিদের ভিতর থেকে কিছু বন্দিকে সিলেকশন করতো তার যৌন-বিকৃত চাহিদা পূরনের জন্য এবং যখন সে বিরক্ত হয়ে যেত তখন তাদের গ্যাসচেম্বারে পাঠিয়ে দিত। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
৬) Alice Orlowski
নিত্যনতুন পদ্ধতিতে বন্দিদের উপর নির্যাতন চালানো ছিল এর হবি। তার প্রিয় নির্যাতনের পদ্ধতি ছিল, সে বন্দিদের চোখের উপর বারি দিত। এটা শুধু পেইনফুলই ছিল না, এতে অনেক সময় বন্দিরা কাজ করতে ব্যর্থ হতো ফলে তাদের মেরে ফেলা হতো। তার আর একটা আবিষ্কার ছিল “space saving operation” মানে গ্যাসচেম্বারে যখন জায়গা হতো না তখন বাচ্চাদের বন্দিদের কাধে চরানো হতো।

১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষের দিকে তার ভিতর পরিবর্তন আসে। সে বন্দিদের সুযোগ সুবিধা দিতে শুরু করে। তাদের জন্য পানির ব্যবস্থা করে, এমন কি বন্দিদের সাথে মাটিতে ঘুমাতো। কেন এই পরিবর্তন তা নেট ঘেটে পেলাম না কিন্তু তাতে বন্দিদের সামান্য লাভ হলেও এই নিষ্ঠুর মহিলার অনেক লাভ হইছিল। অন্যদের মত তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় নি, তার যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। ১০ বছর সাজা ভোগের পর সে মুক্তি পায়। পরে অন্য একটি মামলার ট্রায়ালের সময় ১৯৭৬ সালে সে মারা যায়।
৭) Wanda Klaff
“I am very intelligent and very devoted to my work in the camps. I struck at least two prisoners every day.” এই কথা গুলো এর ডায়রিতে লেখা ছিল। সে জার্মান বাহিনীতে কাজ করা শুরু করে ১৯৪৪ থেকে এবং যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সে কাজ করে যায়। ১৯৪৫ সালে সে গ্রেফতার হয় এবং সে বছরই তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
৮) Hildegard Lächert
তাকে বন্দিরা নাম দিয়েছিল “Bloody Brigette”/“Beast”। ১৯৪২ সালে সে নাজি বাহিনীতে যোগ দেয় এবং বর্বরাতার জন্য অল্প দিনেই পরিচিত হয়ে উঠে। যুদ্ধের পর তার ১৪ বছরের জেল হয় কিন্তু অগ্যত কারনে ৯ বছরেই সে বের হয়ে আসে। ১৯৭৫ সালে সে পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু তারপরও তার নিষ্ঠুরতা কমে নাই, মুক্তির পর সে তার কুকুর লেলিয়ে দিত মানুষের পিছনে যে কারনে তার আরও ১২ বছরের জেল হয়।
৯) Herta Bothe
বন্দিরা তাকে বলতো "Sadist of Stutthoff"। একজন নার্স যার হাত রোগীর সেবায় না উঠে বেছে নিয়েছিল নির্মমতাকে। যুদ্ধের ৬০ বছর পর এক ইন্টারভিউ এ তাকে প্রশ্ন কার হয় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কেন কাজ করতে হয়েছিল, তার জবাব ছিল, “Did I make a mistake? No. The mistake was that it was a concentration camp, but I had to go to it, otherwise I would have been put into it myself. That was my mistake.”[এই পোগ্রামটি আমি দেখেছি] তাকে গ্রেফতার করা হয় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নির্মম ব্যবহারের জন্য। তার দশ বছর জেল হয় কিন্তু ছয় বছর পর সে মুক্তি পায়।
১০) Greta Bosel
“If they cannot work let them rot.”-- বন্দী দের প্রতি বলা এই কথাটাই তার নিষ্ঠুরতার দলিল হিসাবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। পেশায় একজন নার্স হলেও সে নাজি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কাজ করতো “work imput overseer” হিসাবে। “work imput overseer”এর কাজ ছিল বন্দিদের ভিতর কারা গ্যাসচেম্বারে যাবে আর কারা শ্রমিক হিসাবে কারখানায় যাবে তা নির্ধারন করা। ৩ই মে ১৯৪৫ সালে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
১১) Juana Bormann
তাকে বলা হতো “Wiesel” “The Woman with the Dogs”। ১৯৩৯ সালে সে SSএ যোগ দেয়। তার ছিল জার্মান শেফার্ড কুকুর। সে বন্দিদের পিছনে তার কুকুর লেলিয়া দিত। সে নিষ্ঠুরতার জন্য এতোটাই বিখ্যাত ছিল যে সে যখন ক্যাম্প পরিদর্শনে যেত তখন সেখানে বন্দিরা যেখানে পারতো লুকানোর চেষ্টা করতো এমন কি মানুষ পোড়ানো চুলার ভিতরেও। ১৯৪৫ সালের ১৩ই ডিসেম্বার তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়।
সবাইকে শুভকামনা , আজ এ পর্যন্তই ...
আমার "কত অজানা রে" সিরিজ:
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-উৎসব (কত অজানা রে পার্ট-১)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-কম্পিউটার মাউস (কত অজানা রে পার্ট-২)
পৃথিবীর যত কিছু আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-প্রাকৃতিক গরম পানির লেক (কত অজানা রে পার্ট-৩)
পৃথিবীর যত কিছু আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়- জাপানের কিছু পুকুর যাকে তারা 'হেল' বা নরক বা জিগোকু বলে (কত অজানা রে পার্ট-৪)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-দুবাই ওয়াল্ড (দেখলেও পস্তাইবেন না দেখলেও পস্তাইবেন) (কত অজানা রে পার্ট-৫)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-ক্রেজিয়েষ্ট ম্যানমেইড ফাউনটে (কত অজানা রে পার্ট-৬)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয় - জিওলজিকাল বিশ্ময় (এর অনেক গুলো আজ প্রথম দেখবেন) (কত অজানা রে পার্ট-৭)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-এক্সট্রিম বডিবিল্ডার (কত অজানা রে পার্ট-৮)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-জীবন্ত পাথর (পাথর কেটে বানানো বিশাল মূর্তি) (কত অজানা রে পার্ট-৯)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-ভুতুড়ে শহর (কত অজানা রে পার্ট-১০)
পৃথিবীর যত সব আজব-অদ্ভুত ... আজকের বিষয়-"পারফেক্ট" ক্রাইম (কত অজানা রে পার্ট-১১)