জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন এক ঝাক তরুনদের রক্তের উপড় দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এ জ্বালাময়ী কর্মসুচী দিচ্ছিল , তখন বিএনপির মির্জা ফখরুল বলেছিলেন বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি জড়িত না দাবি করে দলের মহাসচিব বলেন, আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দোষারোপ করছে। সুত্র ঃ আমাদের সময়
বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও সম্প্রতি তার '' মাতৃভুমি না মৃত্যূ'' বইতে উল্লেখ করেছেন যে, ৫ই অগাস্টে তারেক রহমানের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজনৈ্তিক দল, ছাত্র ও সিভিল সোসাইটির সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় সরকারের প্রস্তাবে তারেক রহমান অসম্মতি জানিয়েছিল। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিতো দেখা যাচ্ছে জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবের স্টেক হোল্ডার নয়। তারাতো এই আন্দোলনকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। আন্দোলনে বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের যেসব নেতা কর্মীরা যোগ দিয়েছিল , তারা সাধারন ছাত্র জনতার ব্যানারে যোগ দিয়েছিল। বিগত ১৭ বছরে এই তৃনমুল নেতা কর্মীরাই গুম, খুন , নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপির হাই কমান্ড বহাল তবিয়তেই ছিল। এই কারনেই এই দুধের মাছিরা এক রক্তক্ষয়ী অভ্যূত্থানে অংশ নিয়ে জীবনের ঝুকি নিতে চায়নি।
কয়েক হাজার তরুন প্রান দিয়েছে জুলাই-অগাস্টর বিপ্লবে। হাত , পা , চক্ষু হারিয়েছে আরো কয়েক হাজার। এই নিশৃংষ হত্যাকান্ড ও সহিংষতার বিচার এখনও হয়নি। অথচ এই শহীদদের রক্তের উপড় দাড়িয়ে বিএনপি বিচার চায় না, পতিত স্বৈরাচারের ধংশ করে যাওয়া সিস্টেমে কোন সংস্কার চায় না! তারা কেবল নির্বাচন চায় ! বিগত ১৭ বছরে বিএনপি জনগনকে কখনই তাদের দলের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। এর মুল কারন হচ্ছে জনগনের অধিকার , স্বার্থ , চাওয়া পাওয়া নিয়ে কখনই তাদের কথা বলতে দেখা যায়নি। তখনও তাদের দাবী ছিল কেবল বিদেশে নেত্রীর চিকিৎসা ও নির্বাচন!! জিয়া পরিবারের একনিষ্ঠ সেবক এই দল কি মনে করে পুরো দেশব্যপী লাখ লাখ তরুন শহিদী মৃত্যূর প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল স্রেফ ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে ? এক দুর্নীতিবাজ পরিবারের বদলে আরেক দুর্নীতিবাজ পরিবারকে ক্ষমতায় বসাতে? তারা কি মনে করে বাংলাদেশকে একদা দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যম্পিয়ন বানানোর ইতিহাস জনগন ভুলে গেছে ?
ডঃ ইউনূস বাংলার মাটির জন্য এক বিশাল আশির্বাদ। আমাদের অসীম সৌভাগ্য যে, ডঃ ইউনুসের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকে আমরা প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে পেয়েছি। ডঃ ইউনুস ক্ষমতা গ্রহনের পর অবিশ্বাষ্য সব পরিবর্তন আমরা দেখতে পারছি ।মাত্র ছয় মাসেই বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, লুট হওয়া ব্যাংকগুলোর নিশ্চিত ধ্বংস হতে রক্ষা করেছেন ,বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পতন থেকে রক্ষা করেছেন, ডলারের দামের উর্ধগতি ঠেকিয়েছেন। শুধুমাত্র ডক্টর ইউনুসের অনুরোধেই এই বিশ্বের সকল সভ্য দেশ বাংলাদেশের প্রতি সাহায্য , সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সাস্টেইনবেল বিদেশি বিনিয়োগের এক অসীম সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে দেশের জন্য। এই প্রথম বাংলাদেশের কোন সরকার প্রধানের সাথে বৈঠক হতে যাচ্ছে চায়নার প্রেসিডেন্ট শিং যে পিং এর সাথে। চীনের রাস্ট্রদুত বলেছেন যে, দুই দেশের জন্যই একটা মাইলফলক রচিত হবে এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা থমকে যাবে যদি দ্রুত একটা যেনতেন নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেনদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থেই পরিবর্তন দরকার, সংস্কার দরকার। সংস্কার বা পরিবর্তন করা মানেই নতুন করে সাজানো, গোছানো। দেশের মালিকানা দেশের জনগণের কাছে ফেরত দিতেই সংস্কার করতে হবে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে রাষ্ট্র আকারে আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। যার ফলে এই রাষ্ট্র নাগরিকের কোনো অধিকার দেওয়ার পরিবর্তে তা হরণে ব্যস্ত ছিল। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। তাই আমরা ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। আমরা এমন সংস্কার করতে চাই, যাতে কেউ ক্ষমতায় এসেই তার খেয়ালখুশিমতো জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে আবার স্বৈরাচারের উত্থান ঘটবে সুত্র ঃ কালবেলা
সম্প্রতি এনসিপির হান্নান মাসউদ বিএনপি'র কিছু নেতা কর্মীদের দ্বারা অতর্কিত হামলা্র শিকার হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাজমারাতে। এতে হান্নান মাসউদ সহ ৫০+ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। হান্নান এক সাক্ষাৎকারে বলেছে যে , ইফতারের পরে বাজার এলাকায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তারা অতর্কিত হামলার শিকার হয়। সে সময় তার সাথে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ লিটনের ভাই উপস্থিত ছিল। তারা কেউই হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। নির্বাচনের ডেট এখনও ঘোষিত হয়নি। এখুনি যদি এই অবস্থা হয়, তবে সামনে কি হবে তা বলাই বাহুল্য।
এমন একটা নির্বাচনই কি আমরা চাই যেখানে আবারো পেশি শক্তি ও টাকার খেলার মহড়া চলবে ? কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে মনোয়ন পত্র বিক্রি হবে দুর্নিতিবাজদের কাছে? তাহলে আর আবু সাঈদ , মুগ্ধদের মত হাজারো সম্ভাবনাময় তরুনদের রাজপথে রক্ত দেবার কি দরকার ছিল ? এত শহীদের আত্মত্যাগতো পুরোপুরি বৃথা যাবে যদি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হয়। নির্বাচনের নামে দেশটাকে আর শিয়াল , শকুনের কাছে হাত বদল করা যাবে না । সবাই একযগে আওয়াজ তুলুন আগে বিচার , সংস্কার তারপরেই নির্বাচন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৫৭