এক দেশে ছিল একটা ঘন সবুজ বন। সেই বনে অনেক পশু পাখির সাথে সাথে সুন্দর সাদা তুলতুলে একটা খরগোশ, আর লাল একটা হোৎকা শিয়ালও বাস করতো। এদের দু'জনার মধ্যে ছিল খুব বন্ধু।
তারা এক সাথে বনের মধ্যে ছোট ঝিরঝির করে বয়ে যাওয়া যে নদীটা ছিল তার তীরে প্রতিদিন খেলতো। এক সাথে খাওয়া দাওয়া করতো, আবার গাছের ছায়ায় ঘুমাতো।
এভাবে বেশ ভাল ভাবেই তাদের দিন গুলো কেটে যাচ্ছিল।
হেমন্তের মিঠে হাওয়ার দিন শেষ হয়ে এক সময়ে শুরু হলো শীত কাল।
খুব শীত পরলো সেবার, বরফ টরফ পরে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা!!
এই সময়ে তো আর বাইরে ঘোয়াঘুরি করা যায় না, তাই খরগোশ, শিয়ালকে বললো "চল ভাই আমরা দুজনে দুটো ঘর বানাই। তারপর একদিন আমি তোমার বাড়ি গিয়ে থাকবো, আরেক দিন তুমি আমার বাড়ি। খুব মজা হবে"!
যেই কথা সেই কাজ, শিয়াল বরফ দিয়ে খুব সুন্দর একটা বাংলোবাড়ি তৈরি করলো। রোদ পরে সেই সাদা বাড়ি চিকচিক করে উঠলো।

আর খরগোশ বানালো কাঠের একটা সাদামাটা ঘর।
সেটা দেখে শিয়াল তো হেসেই বাচে না, বলে "এটা কি বানিয়েছিস!! ছি ছি তোর রুচি এত খারাপ!!"

যাই হোক এই বাড়ি গুলোতেই তারা শীতকালটা পার করলো!
এর পরে শীত গিয়ে গ্রীষ্ম আসলো, আর রোদের তাপে শিয়ালে বরফের ঘয় গেলো গলে। তখন পাজী শিয়ালটা করলো কি, পুরানো বন্ধুতের কথা ভুলে খরগোশে বাড়িটা দখল করে নিল। আর খরগোশকে বাড়ি থেকে দিল বের করে।

বেচারা খরগোশ মনের দু:খে কাদতে কাদতে বনে মধ্যে দিয়ে হেটে হেটে এমন সময় দেখা হলো এক গন্ডারের সাথে। গন্ডার বললো কাঁদছিস কেনরে খরগোশ।
তখন খরগোশ সব ঘটনা খুলে বললো, শুনে গন্ডার বলে, " শিয়ালটা এতো পাজী!! চল, দেখাচ্ছি ওকে মজা"
খরগোশ তখন গন্ডারকে পথ দেখিয়ে ওর বাড়ির কাছে নিয়ে আসলো।
বাড়ির সামনে এসে গন্ডার শিয়ালকে বললো " পাজি, হতচ্ছাড়া বের হয়ে আয়! আজ তোর একদিন কি আমার একদিন"
আর শিয়াল বেরতো হলোই না উল্টো গন্ডার কে দিল একটা ঝারি , বললো "ভাগ তুই এখান থেকে নোংড়া গন্ডার, না হলে তোকে এমন হাকরান হাকরাবো যে তোর হাড় একদিকে করবো, মাংস আরেক দিকে করবো"।

এই কথা শুনে গন্ডারের গেলো পিলে চমকে, সে পালিয়ে গেলো।
তখন খরগোশ আবার কাঁদতে কাঁদতে হাটতে শুরু করলো, এবার তার সাথে দেখে হলো হাতির। হাতিও তাকে সাহায্য করতে আসলো, কিন্ত শিয়াল আবারও হাতিকে দিল তাড়িয়ে। এভাবে ভাল্লুক, বাঘ, মোষ সবাই একে একে এসে ব্যার্থ হয়ে ফিরে গেলো।

সব দেখে খরগোশ ভাবলো, নাহ, আর থাকবোই না আর এই বনে, চলে যাবো এখান থেকে। এই ভেবে কাঁদতে কাঁদতে সে ২২ টা রুমাল ভিজিয়ে ফেললো।
এমন সময় তার সঙ্গে দেখা হলো এক ঝুটি ওয়ালা মোরগের।

মোরগ বললো, "কি হয়েছে, কাঁদছিস কেন তুই?"
খরগোশ বললো, সে কথা তোমাকে বলে আর কি হবে, বনে বড় বড় পশুরাই কিছু করতে পারলো না, আর তুমি তো কোন ছাড়!!
তবুও মোরগ শুনেই ছাড়বে কি হয়েছে, বাধ্য হয়ে খরগোশ সব কথা খুলে বললো তাকে।
শুনে মোরগ বলে" ও এই ব্যাপার!! চল আজকেই তোর বাড়ি আমি উদ্ধার করে দেবো। তুই শুধু দেখবি, কোন কথা বলবি না।"
তখন খরগোশ মোরগকে তার বাড়ীর পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল।
বাড়ির সামনে গিয়ে মোরগ গলা রগ ফুলিয়ে বলে উঠলো...
কোরক কোরক কোরক,
মোরগ এসেছে।
কৃপান তুলেছে,
ধরবে শিয়াল, করবে জবাই।
কোরক কোরক কোরক।
এই হাক শুনেতো শিয়ালের গলা গেলো শুকিয়ে, ভাবলো এটা না জানি কোন পশু, পালাই সময় থাকতে!
এইনা ভেবে সে বাড়ির পেছেনের দরজা দিয়ে পালিয়ে একেবারে পাগারপার হয়ে গেলো!
আর খরগোশ তখন তার নিজের বাড়িতে সুখে, শান্তিতে বাস করতে লাগলো।

ছোট বেলার মার কাছে এই গল্পটা শুনেছি, এখন আমি সোহাকে শোনাই। সে খুব আগ্রহ নিয়ে শোনে এটা, কি বোঝে কে জানে!!
বড় হয়ে সেও কি তার বাবুক শোনাবে..............