এ বছর বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ গত গত সপ্তাহে মারা গেলেন দাদি। দাদা মারা যাওয়ার এক যুগ পর মৃত্যু হলো তার। এছাড়াও অসুস্থ আছেন কয়েকজন। যেকোনো সময় মৃত্যুসংবাদ শুনতে হতে পারে।
জীবনে এত এত জটিলতা যে, চলার পথ এত কণ্টকাকীর্ণ যে, কোনো মৃত্যু এখন আর হৃদয় স্পর্শ করে না। মনে হয় মৃত্যু অপেক্ষা বেঁচে থাকাটাই বেশি কষ্টকর। এত এত দায়িত্ব, এত এত দুর্ভাবনা যে, বেঁচে থাকার আগ্রহ আর অবশিষ্ট থাকে না।
দাদি বেশ কয়েক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। জীবিত একমাত্র মেয়ের বাড়ি গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে কোমর ভেঙে যায় তার। তারপর থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হলো অনেকদিন। বিছানা থেকে উঠতেই পারতেন না। ছেলের বউয়েরা তার সেবাযত্ন করতেন। এরপর সেদিন তিনি লোকান্তরিত হয়েছেন।
সবশেষ জীবদ্দশায় যখন দাদির সাথে দেখা হয়, অনেকক্ষণ কথা বলেছিলেন আমার সাথে। অথচ এর আগে কয়েক বছর আমিসহ কাউকে চিনতেই পারতেন না।
মাত্র চল্লিশ দিন আগে এক আঙ্কেলের মৃত্যু হলো। সেদিন মাঝরাতে শুনি হঠাৎ উনার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। একটু পর খবর আসে উনি আর ধরাধামে নেই। অথচ একদিন আগেই ঢাকা থেকে ডাক্তার দেখিয়ে গিয়েছিলেন। ওষুধও খাওয়া শেষ হয়নি। খুব অনাদরে মৃত্যু হয়েছে তার। মরার সময় বলার মতো কেউ পাশে ছিল না।
ছয়-সাত মাস আগে এক কাকা মারা গেলেন। কিডনির সমস্যা ছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে বাঁচানোর। কাকাত ভাই বিদেশ থেকে টাকা-পয়সা পাঠিয়েছে। কিন্তু কিছু করার ছিল না। দুঃখ এখানে একটাই, কাকার তেমন বয়স হয়নি। আমার সাত বাবা-কাকার মধ্যে চতুর্থতম ছিলেন তিনি।
আজ মাকে ফোন দিলাম। জানালেন, আরেক আঙ্কেল মারা গেছেন। উনারও কিডনির সমস্যা ছিল।
ছবি: সংগৃহীত