
বর্ণমালার সাথে পরিচয় হওয়ার পর নিজের ভেতর ভিন্ন এক জগত অনুভব করি। যে জগতকে প্রতিনিয়ত মনে হয়েছে তেলরঙে আঁকা যুদ্ধচিত্র। যে চিত্র অনুভব শক্তিকে বারবার দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। তবুও গার্ডিয়ান আর শিক্ষকদের কড়া নজরদারী মনকে অবিচল রাখতে সাহায্য করেছে নিয়মিত। আমার বাচাল মন শিক্ষার নিগড়ে আবদ্ধ থাকতে চায়নি কখনোই। সারাবেলা হৈ চৈ করে পাড়া মাতানো উতফুল্ল শৈশব কেটেছে আমাদের। সে দূরন্ত আর ডানপিটে খামখেয়ালিপনা দেখে কেউ ভাবেনি লেখাপড়ায় এতটা অগ্রসর হতে পারব। হয়ত তাদের ভাবনাকে সত্য করে মাঝপথে পা পিছলে পড়ে যেতেও পারতাম। কিন্তু একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে শক্ত মাটি পাইয়ে দিয়েছে পায়ের তলায়। খুলে দিয়েছে অনুভব দরজার শক্ত বাঁধন। 'জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের একমাত্র উপায় শিক্ষা।' প্রবাদটি মাদুলি হয়েই যেন গলায় ঝুলে ছিল সর্বক্ষণ। শিশু থেকে কিশোরের গণ্ডি পেড়িয়ে এখন আমি পরিপূর্ণ যুবা। নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়েকটি ডিগ্রি। এবার ঝাপ দিতে হবে কর্মব্যস্ত জীবনের গহীন শ্রোতবাহী নদীতে। কয়েকটা সার্টিফিকেট, হাবিজাবি ফাইল বগলদাবা করে সোনার হরিণ খোঁজা। শহরের মায়াহীন রাজ্যে কাটতে লাগল মাসকে মাস। কিন্তু কি আশ্চর্য, এতদিন ধরে বুকে লালন করা শিক্ষা এবং শিক্ষা থেকে বড় হওয়ার জমা বরফগুলো গলে গলে স্থানচ্যুত হতে লাগল। সেখানে তিলে তিলে জমা হতে লাগল নতুন কিছু অভিজ্ঞতা। এখন চাকরি নামক সোনার হরিণ ধরতে দশপাঁচটা ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। সাথে মামু-খালুর পানি পড়া না হলে চলে না। আরো লাগে বস্তাবন্দি সোনার কয়েন। এতদিন ধরে যারা নিয়মিত শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শ আর উতসাহ দিয়ে এসেছেন তাদের মুখটাকে ব্যতিক্রমভাবে চোখে ভেসে ওঠল। ঘৃণা জমে ওঠল এতো বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা নামের সঙ্গে কয়েকটা ডিগ্রির প্রতি। অন্ধ, বিবেকহীন সমাজের প্রতি সে ঘৃণা বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একদলা থুথুর সাথে।