somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“বিবেকহীনদের জন্য কিছু প্রশ্ন”

২৫ শে মার্চ, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকে দেখি কিছু মানুষ “আপা আপা” বলে চাটুকারিতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। মনে হয় তাদের আত্মা পর্যন্ত বেরিয়ে যাবে, তবু তারা অন্ধভক্তি ছাড়বে না! প্রশ্ন হলো—আপনারা কি সত্যিই অন্ধ, নাকি জানতেন সবকিছু, কিন্তু স্বার্থের জন্য মুখ বুজে ছিলেন?

৫ আগস্টের রক্তাক্ত ইতিহাস

৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার বুকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। নিরীহ তরুণদের হত্যা করা হয়েছে, হাজারো মানুষকে গুম করা হয়েছে। গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে নামা প্রায় ২০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, হাজারো আহত হয়েছে।

এই স্বৈরাচারী সরকার একে একে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাধারণ জনগণ, এমনকি নিরপরাধ পথচারীকেও রেহাই দেয়নি। পুলিশি নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড—সবকিছু মিলিয়ে দেশে এক ভয়ঙ্কর দুঃশাসন কায়েম হয়েছিল।

তাহলে এখন কিছু মানুষ কীভাবে এই হত্যাকারীদের সমর্থন করে? আপনাদের কি এতটাই স্বার্থপর মনে হয়েছে, নাকি ভয় পেয়েছেন?

বিএনপির নেতাকর্মীরা কি পালিয়েছে?

একটি দল ১৬ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, নেতা-কর্মীরা কারাগারে যাচ্ছে, তবুও তারা পালিয়ে যাচ্ছে না। বিএনপির কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেনি। বরং আন্দোলন চালিয়ে গেছে, জনগণের জন্য রাজপথে থেকেছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো—বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালিয়েও আওয়ামী লীগ এত ভয় পায় কেন? কারণ তারা জানে, বিএনপি কখনো আপস করেনি, করবে না।

জামায়াতকে রাজাকার বলার আগে ইতিহাস জানুন

আজ আওয়ামী লীগ বলছে জামায়াত রাজাকার! কিন্তু ১৯৯৬ সালের আগে এই আওয়ামী লীগ-ই জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়ে সংসদে গিয়েছিল।

২০০৮-এর আগেও আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে সমঝোতা করতে চেয়েছিল। তখন কি তাদের মনে ছিল না যে জামায়াত যুদ্ধাপরাধী? তখন কি হত্যা-গুমের কথা মনে ছিল না? আসলে আওয়ামী লীগের কাছে ইতিহাস শুধুই রাজনৈতিক ফায়দার হাতিয়ার।

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হবে? ভুল ভাবনা!

যারা মনে করেন আওয়ামী লীগ আবার স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতায় ফিরবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এমন একটি দল, যার বিরুদ্ধে ২০০টির বেশি হত্যা মামলা, যার হাত হাজার হাজার মানুষের রক্তে রঞ্জিত—সেটা কি সহজে স্বাভাবিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে পারে?

স্বৈরশাসকরা চিরকাল টিকে থাকতে পারে না। ফেরাউনের পরিণতি দেখুন, হিটলারের পরিণতি দেখুন, সাদ্দাম হোসেনের পরিণতি দেখুন। তাদের পতন হয়েছে, কারণ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

জিয়াউর রহমান ও আওয়ামী লীগের প্রতারণা

যারা আজ বিএনপিকে দোষ দেন, তারা মনে রাখুন—জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ ভারতের ইন্ধনে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করল।

তারপরও বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনি। জিয়াউর রহমানের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেনি।

আওয়ামী লীগ কেবল হত্যা আর প্রতিশোধের রাজনীতি জানে

শেখ হাসিনা তার বাবার হত্যার বিচার করেছে, কিন্তু সে বিচার কি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল না? সে বিচার কি আইনের শাসন মেনে হয়েছিল?

এছাড়াও, এই সরকার যাদের ইচ্ছা “রাজাকার” ট্যাগ দিয়ে ফাঁসি দিয়েছে, অসংখ্য বিরোধী নেতা-কর্মীকে গুম করেছে, খুন করেছে।

স্বৈরাচার কখনো ফিরে আসে না, যদি আসে, তবে আদালতের কাঠগড়ায়

যারা আজ আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর জন্য গলা ফাটাচ্ছেন, তারা কি নিশ্চিত যে একদিন আওয়ামী লীগকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না?

যারা “আপা আপা” করে অন্ধভক্তির চরম দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন, তারা একটু চোখ খুলে দেখুন—এই সরকার একদিন আপনাদেরও ছুড়ে ফেলবে, যেমন অতীতে অনেককে ফেলেছে।

উন্নয়নের নামে প্রতারণা

আওয়ামী লীগ বলে, তারা উন্নয়ন করেছে! কিন্তু যদি ৫০ হাজার কোটি টাকা চুরি করা হয়, আর মাত্র ৩ কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা বানানো হয়, সেটাকে উন্নয়ন বলে না। সেটা প্রতারণা বলে।

“অন্ধ আনুগত্য নয়, বিবেককে জাগ্রত করুন”

যদি একটি দল নিজের নেতা-কর্মীদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যায়, তাহলে সেই দলের পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো মানে থাকতে পারে? আমি যদি এমন দলের কর্মী হতাম, তাহলে ঘৃণাভরে সেই দলকে বর্জন করতাম। কারণ আমার বিবেক এবং আত্মসম্মান আছে।

তাই বলছি—অন্ধ আনুগত্য ছেড়ে সত্যকে জানুন, ইতিহাস পড়ুন। ফেসবুকে অযথা চাটুকারিতা করে লাভ নেই। একদিন যখন সাধারণ মানুষের রোষানলে পড়বেন, তখন বুঝতে পারবেন কাদের পেছনে অন্ধভাবে ছুটেছিলেন।

বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—এই স্বৈরাচারকে আর চায় না! এবারের আন্দোলন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, স্বৈরাচার পতনের।

সত্য বলুন, বিবেক জাগ্রত রাখুন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:১১
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৪৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ২:২৯



আজ ২৫ রোজা।
এই তো সেদিন রোজা শুরু হলো। দেখতে দেখতে ২৪ টা রোজা শেষ হয়ে গেলো। সময় কত দ্রুত চলে যায়! আগামী বছর কি রমজান... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবগুণ্ঠন (পর্ব ২)

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ২:৩৯



অবগুণ্ঠন (পর্ব ২)

ওসির নির্দেশ মতো ডিউটি অফিসার রাঘবেন্দ্র যাদব লাশ পরিদর্শনের সব ব্যবস্থা করে দিলেন। গাড়ির ড্রাইভার সহ তিনজন কনস্টেবল যথাস্থানে তৈরি ছিলেন। বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি ওনাদের।খানিক বাদেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে বিচার , সংস্কার তারপরেই নির্বাচন

লিখেছেন মেঠোপথ২৩, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:২২



জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন এক ঝাক তরুনদের রক্তের উপড় দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এ জ্বালাময়ী কর্মসুচী দিচ্ছিল , তখন বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

It is difficult to hide ল্যাঞ্জা

লিখেছেন অধীতি, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:৪১

এক গর্দভ ইউটিউবার ৭১কে ২৪এর থেকে বড় বলতে গিয়ে আমাদের শিখায় যে ৭১ বড় কারণ সেটা ভারত পাকিস্তানের মধ্যে হয়ে ছিল। আর আপামর জনসাধারণ সেটায় অংশগ্রহণ করেনি। এই হলো যুক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তথ্য এবং গুজব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:১৫

তথ্য এবং গুজব....

তথ্য নাগরিকের অন্যতম মৌলিক স্বীকৃত অধিকার। মানবাধিকারও বটে। যোগাযোগের অন্যতম প্রধান উপকরণ তথ্য মানুষের নিত্য সঙ্গি।

তথ্যের (Misinformation) ভুল, ত্রুটিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×