"বিয়ার গ্রিলস, নামটা অনেকেরি পরিচিত।ডিস্কভার ি চ্যানেলের " ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড" সিরিজের দ্বারা গ্রিলস এখন ব্যাপক জনপ্রিয় একজন লোক। তবু আমাদের ভিতর থাকা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুশজন বিয়ার গ্রিলস এর কাজ কর্ম দেখে নাক সিটকাবেন,অসুস্থ আমারাই কেবল তার কার্যকলাপ উপভোগ করি। জঙ্গলের বিভিন্ন পকামাকড় ধরে জ্যান্ত খেয়ে ফেলা, ৫ দিন আগে মরা পশুর মাংস কাঁচা খাওয়া, শুঁক কীটএর মাথা ফেলে দিয়ে তার ভিতরের তরল হলুদ পদার্থ কপকপ করে খাওয়া কিংবা বিরূপ পরিবেশে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজের মুত্র নিজে পান করার মত ভয়ঙ্কর কাজ,বিয়ের গ্রিলস করে ফেলত নিমিষেই।প্রথমদি কে এই সিরিজটা দেখতে গাগলাত,এখন বেশ উপভোগ করি।ছোটবেলাতে ভাতের প্লেটে একটা পিঁপড়া কিংবা পোকার মরদেহ খুঁজে পেলে আর ওই প্লেটের ভাত খাওয়য়া হতো না ঘেন্নায়।এই নিয়ে আম্মুর বকা খেতে হতো নিয়মিত।বিয়ার গ্রিলস এর শোদেখের পর থেকে এখন আর ঐসব ছোটখাটো প্লেটে থাকা পকামাকড় দেখে গা রিরি করে উঠে না,বরং পিউর প্রোটিন ভেবে চোখ বন্ধ করে গলধকরন করে ফেল
ফাস্ট ইয়ারে থাকাকালিন ডেমো ক্লাসগুলোতে নিয়মত ফর্মালিনে চুবানা কেডাভার (মানুষের মরদেহ) খালি হাতে ধরা লাগতো।ডেমো ক্লাস শেষ করে যখন কাফেটরিয়াতে খেতে আসতাম তখন সেই ফর্মালিন মাখা হাত শুকিয়ে গেছে তাই আর হাত ধোয়ার কথা মনে থাকত না।দুইটা সিঙ্গাড়া পেটে যাওয়ার পর হঠাৎ যখন মনে পরত তখন আর কিছু করার থাকত না, ঘেন্নাতে চোখ মুখ কুচকে থাকতাম কিছুক্ষণ।আমাদের হোস্টেল এর পানির টাঙ্কি মনে হয় ৫ বছরে একবার পরিষ্কার করা হতো। যথারীতি গোসল করারচো) পরম আবেগে আমাকে জড়িয়ে রেখেছে।
ইন্টার্ন থাকাকালিন, সার্জারি ওটি তে একদিন এক ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাক্সান এর রোগীর পেট কেটার পর দেখা গেল , তার পুরা পেরিটনিয়াম জুড়ে ফিকাল মেটার(পায়খানা) ছড়িয়ে আছে,কিছু মল এর দানা আবার গাট আর সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগেআছে। আমদের বিভাগীয় প্রধান স্যারকে দেখলাম খুব যত্ন সহকারে সেই মানব মল মপ দিয়া ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছে। থার্ড আসিস্টান্ট হিশবে মপ চাপতে চাপতে সেইদিন আমার অবস্থা কাহিল হয়ে গেছিল। ওয়ার্ড এর সেলুলাইটিসের একজন রোগীকে প্রতিদিন ড্রেসিং করা লাগতোটার ক্ষতস্থান থেকে আশা দুর্গন্ধতে আসে পাশে থাকা আত্মীয় দৌড়ে পালাত আর রোগী নিজেই মুখে কাপড় জড়িয়ে রাখত গন্ধ থেকে বাঁচার জন্যে।বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার, আমার নাকের আল্ফাক্টরি নার্ভে হয়তো সমস্যা ছিল তখন।
.আমার এক বন্ধু গাইনি ওয়ার্ডে থাকাকালিনডেলিভারি করেতে যেয়ে এমনিয়তিক ফ্লুইড চোখে মুখে মাখিয়া ফেলেছিল,এটা নিয়ে ব্যাপক হাসাহাসি।পরদিন আমি তাকে উৎসাহ দিতে বললাম" বন্ধু,তুমিতো আগের চেয়ে ফর্সা হয়ে গেছ,এখন থেকে নিয়মিত লেবার রুমে তোমাকে দেখতে চাই" . এত হেনস্তা হয়ের পর ভাবছিলাম ওকে আর ডেলিভারী রুমে দেখবো না,কিন্তু পরদিন থেকে সে আরও উৎসাহ নিয়ে বাচ্চাগুলাকে পৃথিবীর মুখ দেখাতো,তবে এবার একটু সতর্কতার সহিত।মানুশজন নিজের মল মুত্র ঘেন্না করে আর আমাদের স্যার ম্যাডামদের দেখতাম দিব্যি অপেরাসান টেবিলে রোগীর মল্মুত্রপরিষ্কার করতে।ওখানেত আর সুইপের ঝাড়ুদার পাওয়া যায় না।এই সব কথা শুনে আম জনতা ভাবে আমারা ডাক্তার রা বিয়ের গ্রিলস এর চেয়ে বড় খবিস,অসুস্থ পক্রিতিরলোক।বিয়ার গ্রিলস নিজে বেঁচে থাকার তাগিদে নোংরা জিনিস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে।আর আমারা আরেকজনের বেঁচে থাকার তাগিদে তার নোংরা ঘাঁটি।"
সৌজন্যেঃ চিকিৎসক সমাচার