আমি যেমন একজন মুসলিম, আমি যখন মারা যাব, আমার এক্সপেক্টেশন থাকবে আমাকে গোসল দিয়ে কাফনে মুড়িয়ে জানাজার নামাজ পড়ে আমাকে কবর দেয়া হবে। আমি খুবই ধন্য হবো যদি জানাজার নামাজের ইমামতি আমার কোন ছেলে করে। ইসলামী মতে একজন বাবা বা মায়ের জন্য পরম সৌভাগ্যের ঘটনা এইটা যে ওর জানাজার ইমামতি তাঁরই সন্তান করছে।
আমারও ইচ্ছা এটাই, বাকিটা আল্লাহর উপর।
তেমনই আমার খ্রিষ্টান কলিগ যখন মারা যায়, ওর ফিউনারেল চলে ওর ধর্মমতে। আমেরিকার আসার পরে দেখেছি ক্যাথলিকরা যেভাবে ফিউনারেল করে, প্রেসবাইটেরিয়ানরা একটু ভিন্নভাবে করে, আবার মেথোডিস্টদের ফিউনারেল হয় একটু ভিন্নরকম। সবার ঘটনাই এক, শুধু সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য ছাড়া। কেউ মরলে তাই আগে জানতে চায় ও কোন চার্চের অনুসারী ছিল। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হয়।
হিন্দু কেউ মারা গেলে সে নিশ্চই কামনা করবে না জানাজা পড়িয়ে কাফনে মুড়িয়ে ওকে মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হোক। যেমনটা কোন মুসলিম চায়না মৃত্যুর পরে চিতায় পুড়তে।
আমাদের দেশে "অভিশ্রুতি" নামের এক মেয়ে কয়েক বছর আগে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল। সে জন্মগত মুসলিম হলেও পরে নাকি হিন্দু হয়েছিল। তখন ওর ফিউনারেল নিয়ে গোল বেধেছিল। বাবা মা চায় কবর দিতে, হিন্দু সমাজ চায় সৎকার। সমাধান হচ্ছে, সে যদি হিন্দু হয়ে যায়, তাহলে ওকে হিন্দু মতেই আগুনে পুড়াতে হবে। ওকে যদি যমযম পানিতে ডুবিয়ে কাবার গিলাফে মুড়িয়ে জান্নাতুল বাকি গোরস্থানেও কবর দেয়া হয়, তবুও ওর কোন লাভ হবেনা।
তেমনই কেউ একজন বেঁচে থাকতে যদি ধর্মকর্ম না করে থাকেন, আল্লাহ, ভগবান/ঈশ্বর বিশ্বাসী না হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পরে জানাজার নামাজ আদায় করা, দাফন, কাফন, কুলখানি, দোয়া মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি পালন করা একপ্রকার ভণ্ডামি এবং ওর বিশ্বাসের প্রতিই অসম্মান। ইসলামিক মতে পরকাল নিয়ে কিছু করতে চাইলে বেঁচে থাকতেই করতে হবে। বরং ওর পরিবারের উচিত ওর মতানুসারেই ওর শেষকৃত্য পালন করা।
বহু নাস্তিকের অবস্থা এই দেখেছি যে জীবিতাবস্থায় ঈমান, আল্লাহ, রাসূল, ফেরেস্তা, আখিরাত, জান্নাত জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস না রাখলেও যখন সে মারা যায়, ওর পরিবার, আত্মীয়, স্বজন, বন্ধুবান্ধব একদম শরিয়া অনুযায়ী ওর দাফন কাফনের জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে।
আবার একই সাথে, জুলাই আন্দোলনের আবু সাঈদ, যতদূর শুনেছি জীবিতাবস্থায় ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করলেও মৃত্যুর পরে এখন শুনছি এই বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ওরই প্রতিমা/মূর্তি/পুতুল নিয়ে শোভাযাত্রা করা হবে। এইসব কি রে ভাই?
শিল্পী সনজিদা খাতুনের পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব যেটা করেছেন, সেটাই ঠিক। উনি যা চেয়েছেন, যে বিশ্বাস ধারণ করতেন, সেটাই করা হয়েছে। আমারও বরাবরেরই বিশ্বাস, যারা নাস্তিক, পরকালে বিশ্বাসী নন, তাঁদের উচিত মরণোত্তর দেহ দান করে যাওয়া। ওদের কিডনি, লিভার, চোখ সহ অন্যান্য অর্গান কারোর চিকিৎসায় কাজে লাগে। এবং তাদের দেহ, কংকাল মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার কাজে লাগে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে কবর থেকে লাশ চুরির প্রয়োজনও ফুরায়।
কোন জীবিত মানুষকেই যেখানে জোর করে মুসলিম বানানোর উপায় নেই, বাঙালি সেখানে একজন মৃতাকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম বানানোর জন্য হাহাকার করছে।
হযরত আলীর (রাঃ) বাবা এবং আমাদের নবীজির (সঃ) প্রিয়তম চাচা আবু তালিব যখন মারা যান, তখন তাঁর শেষকৃত্য কুরাইশ পৌত্বলিক নিয়মেই পালিত হয়েছিল। আলী (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে কোন "পৌত্তলিক ইবাদতে" বা "ধর্মীয় রীতিতে" অংশ নেননি।
কালকে তসলিমা নাসরিন মরলে ওরও কি জানাজা/কবর ইত্যাদি হবে? কতটা হাস্যকর হবে ঘটনাটা!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:০৪