অনেক দিন আগের কথা। দুই বান্ধবীর একজন চা কি জিনিস সেটা জানে, অন্যজন জানেনা। তো বান্ধবী একটা হোটেলে নিয়ে গেলো চা দেখাতে। এক লোকের সামনে চা দেখিয়ে বললোঃ ‘এই যে চা’। মেয়েটা অবাক হয়ে বললোঃ ‘কার কাছে চাইমু?






চা বাগান
আসেন এইবার একটু জ্ঞান দেই।
চীনারা সর্বপ্রথম চা এর উৎপাদন ও ব্যাবহার করে। এদেশে ইংরেজরা চা এর প্রচলন করে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫৮টি চা বাগান এবং ১৪৪টি চা কারখানা আছে।
চা গাছ বন্য অবস্থায় ছোট বৃক্ষ হলেও কাঁটছাট করে রাখার জন্য একে গুল্মের মতো দেখায়।

বন্য চা গাছ
এটিকে কেটে ৩-৪ ফুটের মতো রাখা হয়। আগা থেকে দুইটি পাতা ও কুঁড়ি নিয়ে তৈরী হয় চা।

দুইটি পাতা ও একটি কুঁড়ি
বছরে তিন-চারবার পাতা তোলা হয়। একটি চা গাছ সর্বোচ্চ ৬০ বছর বেঁচে থাকে। চা ছয় প্রকারঃ সাদা, হলুদ, সবুজ,কালো, উলং চা ও পুয়ের চা।

সাদা চা

হলুদ চা

সবুজ চা

কালো চা

উলং চা

পুয়ের চা, একধরণের গাঁজনোত্তর চা যা অনেক ক্ষেত্রে ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কালো বর্ণের চা বানানোর জন্য প্রথমে camellia sinensis গাছ থেকে দুইটি পাতা ও একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করে গরম বাতাসে বা রোদে বিছিয়ে নরম করার পর রোলিং করে পাতা ভেঙ্গে দেয়া হয়। জলীয় বাষ্প পুর্ণ ঘরে ৩-৪ সে,মি পুরু করে বিছিয়ে দিলে পাতার ফার্মেন্টেশন হয় ফলে পাতা তাম্র বর্ণের হয় ও সুগন্ধি সৃষ্টি হয়। তারপর একে ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়।

জ্ঞান দেয়া শেষ। এখন একটু প্যাচাল পারি।

চা বানানও অতি সোজা একটা কাজ হলেও একটু অমনযোগী হলেই চা এর স্বাদ হেরফের হয়ে যায়।

আপনার চা কালো হয়ে যায়? বেশি শুকিয়ে যায়? বেশী পানি থেকে যায়? রং চা এ কালার হয়না ঠিকমতো? নো টেনশন। আপনাকে এখন “ ভাই হেল্পান, চা বানামু ক্যম্নে?” এই শিরোনামে পোস্ট দিতে হবেনা। এসে গেছে কিনাদি


কয়েকটা টিপ্সঃ
দুধ চা এর ক্ষেত্রেঃ
#পানি ভালো ভাবে ফুটান। ফুটানোর পর কাপে নিয়ে পানি মেপে নিবেন। তাহলে শুকিয়ে যাবেনা।
#তরল দুধ দিয়ে চা বানাতে হলে প্রতি তিন কাপ চা বানানোর জন্য দুই কাপ ফুটন্ত পানি আর এক কাপ দুধ পাতিলে দিন।

#গুড়ো দুধ দিয়ে চা বানাতে হলে প্রতি কাপে দেড় চা চামচ দুধ দিন।
# প্রতি কাপে এক চা চামচ চিনি ( মিস্টি বেশী খেলে আপনার পরিমাণমতো) দিন।
# হাড়িতে দুধ মেশানো পানি ফুটে উঠলে কাপ প্রতি এক চা চামচ চা পাতা দিয়ে মিনিট খানেক পর নামিয়ে ফেলুন।
হয়ে গেলো আপনার দুধ চা।

এখন দেখি রং চাঃ
# পানি ভাল ভাবে ফুটিয়ে নিন।
# একটি কাপে দেড় চা চামচ চিনি নিন। এতে লেবু এমন পরিমাণ দিন যেন সবটুকু লেবু ভিজে যায়। ( সাধারণত এক টুকরো লেবু লাগে)
# কাপে টি ব্যাগ রেখে ফুটন্ত পানি ঢেলে নিন।
# সুন্দর কালার আসার পর টি ব্যাগ ফেলে দিন।

ব্যাস হয়ে গেল আপনার রং চা।

মনে রাখবেন রঙ চা এ লেবুর ঘ্রাণটা ইম্পোর্টেন্ট। তাই চা বানানোর ঠিক আগে লেবু কাটুন। লেবু দেশী ( গোল গোল ছোটলেবু) হলে ঘ্রাণ ভালো হয়।
