সাড়ে চার বছরের ফুটফুটে শিশু তানহা। বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। বর্তমানে দুরারোগ্য ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ আট মাস ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তানহার পরিবার। এনজিওতে কর্মরত তার পিতা জাবেদ হারিয়েছেন চাকরি। নিজেই এখন হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছেন। তানহা’র মা নাহিদ জানান, ২০০৯ সালের জুন মাসে প্রথম টনসিলসহ তীব্র জ্বর হয় মেয়ের। স্থানীয় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাজধানীর খিলগাঁও খিদমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার রক্তে ব্লাড ক্যান্সারের সিনড্রোম ধরা পড়ে। ওই অবস্থায় তাকে স্থানান্তর করা হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে। এরপর থেকে তানহা বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আশিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ডি ব্লকের তেতলায় চাইল্ড ক্যান্সার ইউনিটের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন কয়েক ব্যাগ এ-পজিটিভ রক্ত দিতে হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চতুর্থবারের মতো ইনফেকশন হয়েছে তানহার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঝুঁকির পাশাপাশি বেড়ে যায় চিকিৎসা ব্যয়ও। বর্তমানে ইনফেকশনের কারণে ঝরে পড়ছে তার চুল। কমছে না জ্বরের তীব্রতা। তার ওপর গত কয়েকদিন ধরে পায়ুপথে নিয়মিত রক্তরণ হচ্ছে। তানহা’র মা আরও জানান, বর্তমানে তানহার চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। নিয়মিত রক্ত যোগাড়েও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তানহাকে সুস্থ করতে হলে আগামী তিন বছর টানা চিকিৎসা নিতে হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থ। এতদিন তানহার ফুফু আতিয়া বিলকিস মিতু আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলেও এখন তিনি নিজেই প্রায় নিঃস্ব। তার ওপর তাকে দেখাশোনা করতে হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ভাইয়ের তিন শিশু সন্তানকে। আতিয়া বিলকিস জানান, গত এক বছর ধরে একের পর এক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত তাদের পরিবার। এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তানহার বড় চাচা ও চাচি। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাদের তিনটি ছোট্ট শিশু। ফলে বর্তমানে তাদেরও দেখাশোনার ভার তার ওপর। সর্বশেষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তানহা’র পিতা জাবেদ। ফলে তানহা’র ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যাপারে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার পুরো পরিবার। এ অবস্থায় শিশু তানহাকে বাঁচাতে দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা-মা ও ফুফু। তানহাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
সৈয়দা আতিয়া বিলকিস, এসবি/ একাউন্ট নম্বর- ২৬৭৯৪- ইউসিবিএল, কাওরান বাজার শাখা, ঢাকা। বিদেশ থেকে পাঠালে- এভি সুইফট ইউসিবিএলবিডিএইচকেবি ২, সৈয়দা আতিয়া বিলকিস, এসবি/ একাউন্ট নম্বর- ০০৪৪১২১০০০২৬৭৮৪।
বিস্তারিত যোগাযোগ- চাইল্ড ক্যান্সার ইউনিট, ডি ব্লক, তৃতীয় তলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
ইতিমধ্যে তানহার বিষয়টি নিয়ে দৈনিক মানবজমিন, ডেইলি নিউএজ ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কোন সহযোগীতা আসেনি। প্লিজ সবাই একটু যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করুন।
(কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, পোস্টটি স্টিকি করা হোক)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৩