''এইখানে এই বুকের মাঝখানে''
এইখানে এই বুকের মাঝখান দিয়ে
একখানা পথ চলে গেছে
যতবার তুমি এই পথে হেঁটে গেছো ততবার রেখে গেছো
কিছু ঝরাপাতা
আজকাল নিজের বুকের পথে হেঁটে হেঁটে ওইসব ঝরাপাতাদের কুড়িয়ে জড়ো করি
কিছু প্রশ্নও উঠে আসে ঝরাপাতাদের সাথে
মস্ত বড় এক একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ভীষণ হয়ে ধেয়ে আসে
ভয়ে কুঁকড়ে মুকড়ে যাই কোন প্রশ্নের জবাব নেই
কোনো জবাব নেই!
একা একা দুহাত ভর্তি নিরুত্তর প্রশ্ন নিয়ে হেঁটে চলি জোছনায় বৃষ্টিতে
হয়তো কেউ, হয়তো কেউ আমার না জানা প্রশ্নের উত্তর পাইয়ে দেবে
ক্রমশ লীন হয়ে যাই ভোরের শিশিরের সাথে
একেবারে নুয়ে পড়ে ঘাসফুলেদের বুকের ঘ্রাণ টেনে নিই বুক ভরে
না ঘাসফুলেদের কাছে কোন উত্তর খুঁজি না
সবার কাছে সব চাইতে নেই,
তোমার কাছেও চাইব না, জানি তুমি হেসে এড়িয়ে যাবে, সে সুযোগ-ক্ষণ তোমায় কেন দেব মেঘের মেয়ে?
বিকেলের বাতাসে ভেসে আসে কিছু অপরাধ, আমি অপরাধী?
বরং আমি খেয়ালী, বিশৃঙ্খল, ভয়ানক এক তান্ডব
তোমাকে দুর্বল ভেবে ভাঙতে গিয়ে দেখো আমি নিজেই ভেঙেছি নিজেকে।
''বেলা চলে যায়''
বেলা চলে যায়
সময় ঘুরে যায়
বদলে যায়
বদলে যায় অধীর আকাঙ্খা, তীব্র তৃষিত দৃষ্টি।
আজকাল আর আগের মতন সিড়ি বেয়ে নেমে আসো না একদম
তাতে কি, ঐ যে নতুন ভাড়াটের তন্বী কিশোরি মেয়েটি, রোজ দাঁড়ায় বেলকনিতে!
অযাচিত অস্থির সময়
আজকাল ব্যথা হয় না
দুঃখ হয় না
যা হয় তারও কোন নাম হয় না,
শুধু বুক জুড়ে ভীষণ রকম উথাল পাথাল।
অনুভূতি কি যে বস্তু বুঝে পাই না
যখন ছাদে দাঁড়াই নিশুতি রাতে একলা, তখন টের পাই বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ছে,
হয়ত সেই-ই অনুভূতি
কে জানে ছাই!
বদলে যায়
বদলে যায় শঙ্খ ভোর
ঘুরে যায় ভেসে যায় চেনা পথ অলি গলি-
তবু দেখো আমি বদলাই না
আমি ঘুরি না
আমি ভাসি না
সেই একই রকম বাড়ির কৃষ্ণচূড়া গাছটির মতন
একা-স্থির।
pothik_2009@yahoo.com