


ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র গুলশান, বারিধারার কাছেই হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ১৫০০০০বর্গমিটার এলাকার উপর গড়ে উঠেছে যমুনা ফিউচার পার্ক।ঢাকার বর্তমান যে অবস্থা তাতে করে এই বিশাল শপিং মলের আদৌ কি কোন দরকার ছিল? এমনিতেই ঢাকার আনাচে কানাচে এখন শপিং সেন্টার আর মার্কেট, ঈদের সময় ব্যতীত অন্য সময়ে দোকানদারদের মাছি মারা ছাড়া আর কোন কাজ থাকেনা।তার মধ্যে এই বিশাল শপিং সেন্টার জনগণের কোন উপকার করবে নাকি তাদের জন্য নতুন বিড়ম্বনা ডেকে আনবে এটাই এখন চিন্তার বিষয়। এই পার্কের লোকেশনটা দেখনু,

প্রগতি সরণী আর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে এই পার্ক। প্রগতি সরণীতে এমনিতেই সারাদিন জ্যাম থাকে ,অফিস টাইমে সেটা আরো অসহনীয় হয়ে উঠে। এর মধ্যে এই পার্ক আর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে আম জনতার কি অবস্থা হবে সেটা চিন্তার বাইরে।যমুনা গ্রুপ এটাকে তুলনা করছে করছে বিশ্বের বড় বড় স্থাপনার সাথে , আমার কাছে এটাকে সম্পূর্ণ অনুৎপাদনশীল, ধনী গরীবের বৈষম্য তুলে ধরা আর বড়লোকদের ভোগবাদী মানসিকতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছেনা।
এবার আসুন দেখি এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভালো কি কাজে ব্যয় করা যেত...।
আমার কাছে মনে হয় এই টাকায় একটা সার কারখানা গড়ে তোলাটাই সবচেয়ে ভালো কাজ হতো। যে যাই বলুক কৃষিই এখনও পর্যন্ত আমাদের সিংহ ভাগ মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বাংলার কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে সার পায়না , বাইরে থেকে অনেক দাম দিয়ে সার আমদানি করতে হয়। এখনো আমরা সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। দেখুন একটা তুলনামুলক চিত্র।

source
এখান থেকে দেখা যাচ্ছে প্রায় সবধরনের সারই আমাদের বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণে আমদানি করতে হয়। তাই বেশীরভাগ সময় এই সারের দাম থাকে সাধারণ কৃষকের হাতের নাগালের বাইরে। তাই অহেতুক এইসব হাবিজাবি শপিং সেন্টার না বানিয়ে একটা সার কারখানা বা অন্য যে কোন ইন্ডাস্ট্রি বানালে দেশের মানুষের যেমন উপকার হতো আখেরে তারাও অনেক লাভবান হতে পারতেন, আর সাথে বোনাস হিসেবে অনেক লোকের কর্ম সংস্থানও হয়ে যেতো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৭