
বিয়ার আগে তপনদা যখন ভাবীর লগে প্রেম করতাছে হালকার উপর ঝাপসা দিয়া ফাটাফাটি, তখনকার ঘটনা।
রাইতে শুইয়া শুইয়া তপনদা ভাবীর কথা চিন্তা করতাছে, আহা! কি মধু! লগে গানও গাইতাছে- "ও কেন এতো সুন্দরী হলো"... ভাবতে ভাবতে হে ভাবীর কচি মুখখান চিন্তা কৈরা বইলা উঠলো,
- ইয়া আল্লা, ওরে এতো সুন্দরী কেন বানাইছো!
সাথে সাথে গায়েবী আওয়াজ!
- যাতে তুমি তাকে ভালোবাসো।
হকচকায়া গেছে তপনদা! ভয়ে ভয়ে আবার কয়,
- মাগার আল্লা, ওর ঘটে কেন এক ফোঁটা ঘিলু নাই?
আবার গায়েবী আওয়াজ!
- যাতে তোমার মতো লাফাংগারে সে ভালোবাসে।
##############
তপনদা নয়া নয়া বিয়া করছে। কইরাই কক্সবাজার গিয়াছে হানিমুন খাইতে। বৌ তার বড়ই লাজুক! ঘোমটা ছাড়া নড়েও না চড়েও না। হানিমুনে যাওয়ার কথা শুইনাই হে মোচড় দিছিলো, যে যাইবো না। তপনদা কি আর হুনে? কয় যাইবানা মানে? বৌ কয়, লইজ্জা লাগে! তো বাস থেইকা নাইমা রিক্সায় যহন হোটেলে যাইতাছে, বৌয়ে কয়, এই যে শুনো! তপনদা কয়, কি? বৌ কয়, আমার না খুব লজ্জা লাগতেছে! তুমি হোটেলে যাওনের আগে এমন ভাব করবা যে আমি তুমার ২/৩ বছরের পুরাতন স্ত্রী। তপনদা কয় আইচ্চা! দেখমুনে। রিক্সা থাইকা নাইমা তপনদা বৌয়ের হাতে সুটকেস দুইখান ধরায়া দিয়া কয়, এইবার পিছন পিছন আসো। কেউ কৈতেই পারবোনা তুমি আমার নয়া বৌ!
#################
তপনদা দাওয়াত দিছে সেদিন। বিয়ার ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে। চাকভুম চাকভুম করতে করতে হাজির হৈছি। তা পোলাউ-কুর্মা খাইতে খাইতে হেতেরে দেখতাছি, অখনো বিয়া করিনাই কিনা! দেহি তপনদা তার বৌরে ডাকে, ওগো শুনছো! ডাইলের বাটিডা আগায়া দাও। জান, লবনডা দাও দেহি! সোনাপাখি, খিলালডা কৈ?
আমি তো তাজ্জব! হালায় বিয়া করছে তিন বছর হৈল, অখনো ওগো! জান! সোনাপাখি? হের বৌ রান্না ঘরে গেলে আমি হেরে কই, খুব মাস্তিতে আছো না? বৌরে অখনো জান-পরান কৈয়া ডাকো! বৌ খুব আদর করে? তপনদা গলা নামায় কয়, আসলে, সত্য কইতাছি, হের নামই ভুইলা গেছি!
#############################
হুলুস্থুল অবস্থা! তপনদারে খুঁইজা পাওন যাইতাছে না! বিয়ার ৫ বছর পর কেউ সংসার ছাইড়া পালায়? ভাবী দিছে পুলিশে ফোন, আর গজ গজ করতাছে! "মিনসে বাড়ী আসুক, হাতপাও ভাইংগা দাঁতে ঝুলায়া দিমু!"
তো পুলিশ এসে খোজ খবর নিচ্ছে।
- উনি দেখতে কেমন?
- ৬ ফুট দুই ইন্চি লম্বা, মাথা ভর্তি ঝাকড়া চুল, গায়ের রং ফরসা, আর মুখে সবসময় এমন একটা হাসি, যে হাসি দেখলে যে কেউ পাগল হবে!
ভাবী চোখ বুজে এক নিশ্বাসে বললেন।
পুলিশটা ভ্রু কুঁচকে কেমন করে জানি ভাবীর দিকে তাকায়া থাইকা পাশের বাড়ি গেলো।
- আচ্ছা, বলতে পারেন তপন মাহমুদ দেখটে কেমন ছিলেন?
- অবশ্যই, পারবো না কেন? ৫ ফুট ৪ ইন্চি লম্বা, মাথায় টাক, ভীষণ কালো, আর মুখে সবসময় বিরক্ত একটা ভাব, যে কারণে কেউ পছন্দ করতো না।
পুলিশটা অবাক হয়ে ভাবীর কাছ থেকে যা শুনেছে বললো। পাশের বাড়ীর ভাবী হেসে দিয়ে বললো আপনি পাড়ায় আরো লোকের কাছে খোঁজ নেন।
পুলিশ চলে যাবার পর পাশের বাড়ীর ভাবি এসে হাজির তপনদার বাড়ী।
- ভাবী, আপনি পুলিশরে এমন কৈরা বললেন কেন?
- আরে ও হারায়া গেছে, এইটাই পুলিশের জানার দরকার আছিলো, ওর চেহারার কথা কই, আর ওরে আবার খুঁইজা নিয়া আসুক! পাগল নাকি?
নেট থেকে পাওয়া জোকস অনুবাদকৃত।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৩:২০