somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরানো কথা মনে পড়ে গেল (পিয়াল ভাইয়ের শেষ পোস্ট দেখে)

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সর্বত্র বিতর্ক থাকবেই,যে কোন দেশের জন্ম তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ আমাদের তা স্পষ্টতই বলে দেয়।গৌরবময় এক মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের সামনে থাকা সত্ত্বেও আজ আমরা দ্বিধা বিভক্ত।কেন?
আমরা যারা ৮০'র দশকের শিশু তারাতো অসহায়,গুহা মানবের সামিল,বিকৃত ইতিহাস আর ইতিহাস না জানানোর এক লুকোচুরি খেলায় আমাদের সেই জানার প্রেরনাও শুকিয়ে কাঠ।তবুও পারিবারিক পরিমন্ডল অনেককেই জানায় অনেক কথা,জানা হয় ইতিহাস,কিন্তু নির্মম সত্য সেই শিশু বা কিশোরের খেলার সাথীদের কাছে সে গল্পবাজ,যদিও বন্ধুর কথা শুনে তখন বিশ্বাস যোগ্য মনে হলেও চারপাশের দেয়াল তাদের দেখতে শেখায় না।
মহাত্মা গান্ধী খুন হয়েছেন, বঙ্গবন্ধুও....আমি ওনাদের তুলনা করছি না, যেমন আমি তুলনা করি না রবি আর নজরুল কে।স্ব স্ব ক্ষেত্রে ওনারা উজ্জ্বল।
দুঃখিত আমি এখানে বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে আসিনি,
আমি এখানে এসেছি পুরানো স্মৃতিচারণমূলক একটা পোস্ট দিতে।
ব্লগেতো অনেক মুসলমান ভাই,ধর্ম রক্ষায় শহীদের সাথী ভাইয়েরা।
আপনাদের কি মনে পড়ে সেই ঘটনাটা,(ধন্যবাদ একুশে টিভির রিপোর্টারকে)একুশে টিভিতে প্রচার করা সেই কলঙ্কিত এক দৃশ্য।
এক বৃদ্ধকে এক লোক লাথি মারতে মারতে সরিয়ে দিচ্ছে,সবাই দেখছে সে দৃশ্য।বৃদ্ধ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত আর যে লাথি মারছে সে সবল সুগঠিত।দৃশ্যটা দেখে কার কি মনে হয়েছে আমি জানি না,আমার কিন্তু আমার বাবার কথা মনে হয়েছে।এটাকে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার বা মানবতার চরম এক লঙ্ঘন বলে মনে হয়েছে,দৃশ্যটা দেখে আমি খুব কাঁদছি..... বৃদ্ধটা যদি স্বাভাবিক এক বৃদ্ধ হত তবে আমার কান্না মনে হয় একই থাকতো কিন্তু যখন জানলাম বৃদ্ধটা একজন মুক্তিযোদ্ধা (অন্য সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মত অসহায়) এবং যে লাথির পর লাথি মারছে সে আর কেউ না এক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাজনৈতিক দল যারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান কায়েমে জান বাজি রেখেছিল।যারা আমাদের অসহায় মা বোনদের পাকিস্তানীদের হাতেই শুধু তুলে দেয় নি, নিজেরাও করেছে মা বোনের অসম্মান,১৪ই ডিসেম্বর দেশের কৃতি সন্তান বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে দেশকে চিরতরে করে রেখেছে পঙ্গু।সেই সব আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের গড়া দলের এক গর্বিত সদস্য,যে স্বাধীন দেশে জন সম্মূখে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি মেরে অপমানিত করতে কুন্ঠিত না,তার ভেতর দেখা যায় নি বিন্দু মাত্র লজ্জা বোধ।কেন দেখা যাবে, যাওয়াটাই যে অস্বাভাবিক,ওদের সেদিনের সেই ঘটনা ঘটাবার সাহসতো আমরাই দেই তাই না, বীর উত্তম সেক্টর কমান্ডর যেভাবে এই সব নরপশুদের মদদ দিয়ে আসেছেন,এখনও ওনার দল তাদের অবাদে জাতীয় পতাকা নিয়ে ঘুড়তে সুযোগ করে দেয়,তাতে ঐ জামায়াতের করা মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া সেই সংবর্ধনাতে এসে ঐ বোকা মুক্তিযোদ্ধার সত্য ভাষণের পর ঐ নরপুশু যে শুধু লাথির পর লাথিই মেরেছে আমি তাতেই অবাক,তাকে ওখানেই নির্মমভাবে কতল করলেও অবাক হবার কিছু ছিল না। রাজাকারেরা সব সময়ই সবল তারা চতুর আর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ আমরা বোকা,আমাদের স্বপ্ন শুধু দেশ নিয়ে,নিজেকে উৎসর্গ করায়,আর রাজাকারেরা স্বাস্থ্যবান,সমৃদ্ধিশালী।তাই সেই দিনের সেই লাথির দৃশ্য আমাকে আরো কুকড়ে দিয়েছিল সেদিন,বেসিনে যেয়ে এক গাল বমি করেছি,ঘৃনায় রিরি করে অভিশম্পাত করেছি সেদিন।
এখন আমি আর বমি করি না,এখন আমি আর কাঁদি না,সব কান্না আজ শুকিয়ে গেছে,তবুও পুরানো ক্ষতের মত সেই সব ঘা এখনও আমাকে রক্তাক্ত করে।আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করি শুকিয়ে যাওয়া চোখে বর্ষণ ধারা।
অমি পিয়াল ভাইকে মাইনাস,আবারও কাঁদাবার জন্য।আবারও মনে করিয়ে দেবার জন্য আমরা কতটা অসহায়।সেই সব স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প: শেষ রাতের সুর (পর্ব ২)

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৫০

রাফি সাহেবের পড়ে যাওয়ার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। সকালের মিষ্টি রোদ গাজীপুরের এই ছোট্ট গ্রামে যখন পড়ছে, তখনই কাজের লোক রহিমা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল। সিঁড়ির নিচে রাফি সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদালতের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

লিখেছেন মেঠোপথ২৩, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২০




২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফল বাতিল করে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত!!!!!২০২০ সালে ঢাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনজিদা খাতুনের শেষকৃত্য

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:০৪

আমি যেমন একজন মুসলিম, আমি যখন মারা যাব, আমার এক্সপেক্টেশন থাকবে আমাকে গোসল দিয়ে কাফনে মুড়িয়ে জানাজার নামাজ পড়ে আমাকে কবর দেয়া হবে। আমি খুবই ধন্য হবো যদি জানাজার নামাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপসকামী বিরোধী রাজনীতিবিদদের জন্য পাঁচ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়.....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:০১


..... বলেছেন নাগরিক জাতীয় পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ মিয়া বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস ও ফখরুল সাহেব কে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন। নাগরিক জাতীয় পার্টির নেতারা নিজেদের পচানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সফলতার গফ শোনান ব্যর্থতার দায় নেবেন না?

লিখেছেন সোমহেপি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৪৩

মুক্তিযুদ্ধের ক্রেডিট নিতে চান ভাল কথা, লুটপাট ও পাকিস্তানের বিপরীতে ভারতের স্ত্রী হয়া ঠাপ খাওনের দায়টাও নেন। অপ্রকাশিত সবগুলো চুক্তিপ্রকাশ করেন। ইন্ডিয়ার হাসফাস দেখে মনে হচ্ছে হাসিনা তাগো অক্সিজেন ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×