এ মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতাকে হেফাজতে পাওয়ার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান।
এতে সাড়া দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ ১০ দিনের জন্য চাইলেও মহানগর হাকিম পাঁচ দিন হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
সালাউদ্দিন চৌধুরীকে যখন আদালতে ঢোকানোর সময় তার গায়ে একটি চাদর জড়ানো ছিলো। তবে বেরিয়ে আসার সময় চাদরটি দেখা যায়নি। আকাশি রঙের একটি শার্ট পরা ছিলেন তিনি।
রিমান্ডের আদেশের পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সালাউদ্দিনকে আদালত থেকে কোর্ট হাজতে নেওয়ার সময় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা বিক্ষোভ শুরু করে। ওই সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সালাউদ্দিন কাদেরকে কোর্ট হাজত থেকে বের করে গাড়িতে তোলে গোয়েন্দা পুলিশ।
আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের বিক্ষোভ চললেও একই সময়ে আদালত সংলগ্ন সড়কে মিছিল করছিলো সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ। সালাউদ্দিনকে বহনকারী গাড়ি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় জুতা ছোড়েন তারা। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিএনপির এ নেতার বিচার দাবিতে তারা স্লোগানও দেন।
আদালত থেকে রওনা হয়ে বিকাল পৌনে ৫টায় গাড়িটি মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকে।
বিএনপির ডাকা হরতালের একদিন আগে গত ২৬ জুন মগবাজার রেলক্রসিংয়ের কাছে একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরানো হয়। এতে আহত হন দুজন। অগ্নিদগ্ধ ফারুক হোসেন পরে হাসপাতালে মারা যান। ওই মামলায়ই সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়- হরতাল সফল করতে উস্কানি দিয়ে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আগুনের উৎস এবং ওই ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সালাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
হরতালে লাশ ফেলার জন্য সালাউদ্দিন পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে নেতা-কর্মীদের প্ররোচিত করেন বলেও আবেদনে বলা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনের সঙ্গে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩৫টি সাধারণ ডায়েরি ও মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটকের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে বনানীর একটি বাড়িতে গ্রেপ্তার হন সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের।
তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে না জানালেও দুপুরে রমনা থানার ওসি শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, সালাউদ্দিনকে মগবাজারে গাড়ি পোড়ানো ও মানুষ হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরীসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারাও আসামি। জামায়াত নেতাদের পরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই প্রক্রিয়া সালাউদ্দিনের ক্ষেত্রেও হবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রথমে কাফরুল থানায় এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান কার্যালয়ে রাখা হয় সালাউদ্দিনকে। সেখান থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে র্যাব ও পুলিশের প্রহরায় তাকে নেওয়া হয় পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায়।
আদালতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। অন্যদিকে আদালত এলাকায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সালাউদ্দিনের বিচার দাবিতে মিছিল করে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ।
দুপুরে ডিবি কার্যালয় থেকে সালাউদ্দিনের গাড়ি বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী ও ছেলেরা গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তবে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ওই সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। সালাউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সে কারণেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:৫৩