somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গার্মেন্টস শ্রমিক দের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ক ভাবনা এবং প্রস্তাবনা

১১ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে আমরা যারা কথা বলি তাদের ক'জন আসলে গার্মেন্টস শ্রমিক দের জীবন যাপন ব্যবস্থা দেখেছি! ক'জন মালিক দেখেছেন! ক'জন নীতি নির্ধারক দেখেছেন!

এই বিষয় নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একবার অন্ততঃ কোনো একটা বস্তি ঘুরে আসুন, একজন শ্রমিকের সারাদিনের কাজ দেখুন পানাহার দেখুন! আপনি যদি হৃদয়সম্পন্ন কোনো মানুষ হোন তাহলে আপনার ইচ্ছে করবে মুহুর্তেই সমস্ত গার্মেন্টস পুড়িয়ে শেষ করে দিতে! একটা ঘরের মধ্যে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কি করে দুইবেলা আধাপেটা খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করছে! কি তাদের বাচ্চাদের জীবনের মান! কোথায় তাদের পোশাক, কোথায় শিক্ষা ! কোথায় চিকিৎসা!! একবার দেখে আসুন আপনি কাঁদবেন!


ছবিঃ এমন পরিবেশে দিনানিপাত করেই ওরা আমাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে!

গার্মেন্টস শ্রমিক দের সমস্যা নতুন কোনো সমস্যা নয়, সরকার বদল হয় পুজিপতি দের স্বার্থ হয় হস্তান্তর গার্মেন্টস শ্রমিক দের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না!
মানবাধিকার কর্মীরা নিজেদের স্বার্থ দেখেন, এন জি ও গুলো চায় সমস্যা টিকে থাকুক, তা না হলে তাদেরও ব্যবসা বন্ধ, বিদেশী ফান্ড বন্ধ! অনেক বুদ্ধিজীবিরা লিখছেন, বস্তুনিষ্ঠ কোনো প্রস্তাবনা নেই, থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই!

এখানে কয়েকটা ইস্যু আছে-

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলছিলাম গার্মেন্টস সেক্টরে এ কাজ করে এমন এক প্রকৌশলী বন্ধুর সাথে- তার সাথে কিছু ব্যপারে আমিও একমত- ১৭০০ টাকা থেকে হঠাৎ করে ৫০০০টাকা করা হলে কিছু সমস্যা থেকে যায়, যেমনঃ

১।দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করছেন সেই অভিজ্ঞ শ্রমিকরা কেন মানবেন যে একজন অনভিজ্ঞ শ্রমিক তাঁর সমান/বেশি বেতন পাবে!

২।বাজার ব্যবস্থার উপর হঠাৎ করে বড় একটা চাপ পড়বে এবং এটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হতে হয় না যে, এতদিন ধরে যাদের হাতে মাসে ১৭০০টাকার বেশি উঠতো না এমন লাখ লাখ লোকের হাতে যদি তিনগুন টাকা চলে আসে তাহলে বাজার অস্থিতিশীল হতে বাধ্য।

৩।এরপর আসে মালিক দের স্বার্থের প্রশ্নে- এই হঠাৎ বেতন বৃদ্ধি বড় কোম্পানীগুলো হয়তো সহজে সামলাতে পারবে কিন্তু বেশিরভাগ বাজার ধরে রাখা ছোট ছোট কোম্পানীগুলো যারা কোনো রকমে টিকে আছে তারা বাধ্য হবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে, এবং এর পর কি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

কিন্তু বর্তমান অবস্থা ধরে রাখা আর আমাদের অর্থনৈতিক মূল চালিকা শক্তি পোশাক শিল্প খাত কে ধংশের মুখে ঠেলে দেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই! তাহলে কি করা যেতে পারে। পর্যায়ক্রমিক বেশ কিছু বিষয় ভাবা যেতে পারে।


ছবিঃওরা মুখ তুলে চেয়ে আছে আপনাদের সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে!


প্রস্তাবনাঃ

প্রথমতঃ শ্রমিকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বেতন বৃদ্ধির বিকল্প নেই সুতরাং বেতন বাড়াতেই হবে।

দ্বিতীয়তঃ বর্তমান বাজার মূল্য নিচারে ৫০০০ টাকা খুব বেশি টাকা নয় সুতরাং নূন্যতম ৫০০০ থেকে ৭০০০টাকা বেতন নির্ধারনের দিকেই আমাদের যেতে হবে, তবে-

তৃতীয়তঃ ছোট ছোট গার্মেন্টসগুলো এবং বাজার ব্যবস্থার স্বার্থে এই বেতনবৃদ্ধিকে করতে হবে পর্যায়ক্রমিক, যেমনঃ সরকারী স্পষ্ট নির্দেশনা/নীতিমালা দিয়ে একটা সময় বেধে দেয়া যেতে পারে ২/৩ বছর, প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর বেতন বৃদ্ধি করে ৩বছরের মাথায় নূন্যতম ৫০০০ বা ৭০০০টাকা বেতনেই পৌছাতে হবে।

চতুর্থতঃ শ্রমিকের শ্রম দিয়েই যেহেতু মালিক লাভ করছেন, সেহেতু মালিক কে প্রতি বছর বোনাস আকারে একটা নির্দিষ্ট পরিমান লভ্যাংশ শ্রমিকের হাতে তুলে দিতে হবে।প্রয়োজনে এটা অবসর কালীন ভাতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পঞ্চমতঃ বেতনের পাশাপাশি মালিক পক্ষকে শ্রমিকের সুস্থ আবাসন এবং কর্মক্ষেত্রের দিকেও নজর দিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:২০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রসঙ্গঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:৫৮

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস এর নিউজটা যথাসময়েই পড়েছিলাম। নিজের মতো করে রিপোর্টের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লিখতেও শুরু করে ছিলাম। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য বিষয়টা শেষ করতে পারিনি।

এবার দেখা যাক বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত ট্যারিফ নিয়ে যত ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৮:৪১


আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয় জনাব ট্রাম্প আজ বিকেলেই সম্ভবত ৫০ টিরও বেশী দেশের আমদানীকৃত পণ্যের উপর নতুন শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও একটি তালিকাও প্রদর্শন করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুদ্ধতার আলোতে ইতিহাস: নবী মুহাম্মদ (ﷺ) ও উম্মে হানীর (رضي الله عنها) বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৯:৩০


প্রতিকী ছবি

সম্প্রতি ইউটিউবার ইমরান বশির তাঁর এক ভিডিওতে নবী মুহাম্মদ (ﷺ) ও উম্মে হানী (رضي الله عنها)-এর সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই দেশ থেকে রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা যায় কিভাবে?

লিখেছেন গেঁয়ো ভূত, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:১৪

রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়, যা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। এই সমস্যা সমাধানে দেশের নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাব্যবস্থা, এবং প্রশাসনের যৌথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ : নানা মুনীর নানা মত !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১:২২


ডোনাল্ড ট্রাম্পের রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের ঘটনায় দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষিত বিবেকবান শ্রেনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আমরা যারা আম-জনতা তারা এখনো বুঝতে পারছি না ডোনাল্ড ট্রাম্প কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×