বেশ কয়েক দিন ধরে মোস্তাফা জব্বার/বিজয়, মেহেদী/অভ্র নিয়ে বাংলাদেশের আই,টি অঙ্গনে এক ধরনের ঝড় বইছে যা কম-বেশী সকলেরই জানা। আর সে জন্য আমার এ লেখা। এ লেখা কাউকে ছোট বা কাউকে বড় অথবা অন্য কোন উদ্ধেশ্যে নয়, এটি সকলের জন্য বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষ এর এবং পৃথিবীর সকল বাংলাভাষীর জন্য। জনাব মোস্তফা জাব্বার সাহেবের লেখা পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া নিয়ে এ সমস্যার সৃষ্টি, যার শুরু নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অভ্রকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে। এতে জনাব জব্বার সাহেব মনে মনে একটু কষ্ট পেয়েছেন, যা আমি স্বাভাবিক মনে করি, এবং এ অন্তর জ্বালা থেকে উনি বলেছেন ”অভ্র” পাইরেটেড। আর অভ্র এর পক্ষে(জনাব মেহেদী সাহেব) বলেছেন তা প্রমান করার জন্য। জব্বার সাহেব বিজয় লে-আউট বা বিজয় সফ্টওয়ারকে কপি রাইট করেছেন। এটা তার একটা ব্যবসায়ীক হিসাব এবং এটা করাটাও স্বাভাবিক, কারন পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে কপিরাইট আইন ও এর ব্যবহার আছে যা সকলের জানা।পাশা-পাশি তাদের জাতীয় কি-বোর্ড লে-আউট সকলে জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং করছেন।
পাইরেটেড কি? এবং কেন বা কি কারনে হয় তা সকলের জানা। গোড়ায় হাত দিলে বা ভালভাবে খোজ-খবর নিলে এবং ইতিহাস থেকে তথ্য নিলে দেখা যাবে, পৃথিবীর অনেক ছোট-বড় সফ্টওয়ার কিন্তু একটির সাথে অন্যটির অনেক মিল(কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় হুবহু),একটি অন্যটির অংশ বিশেষ, একটি অন্যটির অনুরুপ, অনুকরন, অনুস্বরণ ইত্যাদি।যা একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। উদাহরণ দিতে গেলে অনেক সময় লাগবে এবং লেখা বড় হবে তাই দিলাম না।(মনে রাখতে হবে ভাল কিছুর জন্য একটু ভুল ও একটু অনুকরন থাকবেই)।
যাক সে সকল কথা অভ্র এবং বিজয় নিয়ে আমরা অনেকে অনেক কিছু বলেছি , বলছি এবং বলবো। কারো নিকট বিজয়, কারো নিকট অভ্র ভাল লাগে এবং এটাই স্বাভাবিক| এই তর্কের শেষ কবে হবে তা কেউ জানেনা। হয়তো এক পর্যায় তা আদালতে গিয়ে শেষ হবে।বিজয় এবং অভ্র তর্কে দেশের আইটি সেক্টর এর মানুষ প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। আসলে এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা এ সমস্যার সমাধানে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং কিছু কিছু স্বার্থত্যাগ করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে কি কি-বোর্ড এবং সফ্টওয়ার এর সমাধান ”বিজয় ” না ”অভ্র” ?
এখন বলতে গেলে এবং বানিজ্যিক ভাবে, দ্রুত এবং নির্ভূল বাংলা লেখতে বিজয় লে-আউট একমাত্র ও অপ্রতিদ্বন্দী। কিন্তু সমস্যা ইন্টারনেটের জন্য বিজয় এর নিজস্ব কোন ইউনিকোড সফ্টওয়ার নাই। ইন্টারনেটের এবং ইউনিকোডে কনর্ভাটের জন্য অভ্র এর বিকল্প এখনো কিছু নাই।তা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়, আমরা সাধারণ ব্যবহারকারীরা কি ব্যবহার করবো। বিজয় না অভ্র? কি করবো? কোনটি নিব? আমার মতে আমরা চাই টু-ইন-ওয়ান। মানে বিজয় এবং অভ্র দুয়ের সমন্বয়ে একটি। কিন্তু এতেও সমস্যা কে বা কারা করবে এ দুয়ের সমন্বয়ে? এক্ষেত্রে সরকারই, প্রধান ভুমিকা পালন করতে পারে যাকে সহযোগীতা করতে পারে দেশের বিশিষ্ট্য আই,টি বিশেষ্যজ্ঞগণ।(বলে রাখা ভাল আমার এ লেখাটি বিজয় দিয়ে লেখা এবং অভ্র দিয়ে কনভার্ট করা। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিজয় এবং অভ্র দুটোই ব্যবহার করি) সমাধান হতে পারে নিন্মরুপ:-
1) সরকার বিজয় এর কি-বোর্ড লে-আউট এবং অভ্র দুটোকে কিনে নিবে। বা জব্বার সাহেব এবং মেহেদী সাহেব তা জাতীর জন্য মুক্ত হস্তে দান করবেন।(মনে করিয়ে দেই অভ্র সম্পূর্ণ ফ্রী)।
2) ক্রয়কৃত বা দানকৃত দুটোর সমন্বয়ে হবে কম্পিউটার এর জন্য বাংলা কি-বোর্ড।যার মূল লে-আউট হবে অবশ্যই বিজয় এবং সাথে ফোনেটিক ও থাকবে। যারা বিজয় লে-আউট মুখস্ত করতে সমস্যা মনে করেন তারা ফোনেটিক ব্যবহার করবে(মানে ami= আমি)।
3) এ কি-বোর্ড ও সফ্টওয়ার, মাইক্রোসফ্ট সহ সকল অপারেটিং সিস্টেম তৈরী প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে, যাতে তারা তাদের পূর্বের ও পরবর্তী ভার্ষণ এ তা যুক্ত করে। এবং এটি সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।
সর্বশেষ কিছু কথা: যে দেশের মানুষ এখনও আই,টি সেক্টর এর সূচনা লগ্নে, যারা এখন ও সফ্টওয়ার ও হার্ডওয়ার এর দিকে থেকে অনেক পিছিয়ে, দেশে এখনো কোন হার্ডওয়ার তৈরী হয় না, তৈরী হয়না তেমন ভাল মান সম্মত সফ্টওয়ার সে দেশে আসল না নকল এসব নিয়ে দ্বন্ধে জড়ানো উচিৎ নয়। জনাব জব্বার সাহেব(বিজয়) এবং জনাব মেহেদী সাহেব(অভ্র) দু-জনই আমাদের সম্পদ। আমাদের সম্পদ আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।