ঘটনাটা ২০০৮ এর। চান্দিফাটা গরমকাল।
তখনকার আমি ঠিক আজকের আমি ছিলাম নাহ।
বদমেজাজী হিসাবে বেশ বদনাম ছিল সেসময়। বছরখানেক নিয়মিত জিম করে বেশ মাসল বানিয়েছি। চলাফেরাতেও তাই কেমন একটা ড্যামকেয়ার ভাব ছিল!

তো সে বদমেজাজী আমি একদিন বিকালে জলযোগে ঢুকেছি নাস্তা করতে। গরমের মধ্যে সারাদিন বোর্ড অফিসে সার্টিফিকেট নিয়ে ঝামেলায় দৌড়াদৌড়ি করে পেটে খিদে পেয়েছে।
এখানে বলে রাখা ভাল, জলযোগ হোটেল টা দেখতে তেমন আহামরি নয় কিন্তু এর গরম গরম লুচির সাথে একেকদিন একেকরকম তরকারীর জন্য খুব ই বিখ্যাত! দারুন স্বাদ!

যাই হোক, নাস্তা করতে ঢুকে লুচির অর্ডার দিলাম। বেশ ভীড় তখন।
বয় এসে লুচি আর তরকারী দিয়ে গেল। পানি আর আসে নাহ। বয়কে ডেকে গ্লাস পরিস্কার করে পানি দিতে বললাম। বেশ ক’বার বলার পরে তারপর দিয়ে গেল।
কিন্তু পানি খেতে গিয়ে হাতে নিয়ে দেখি গ্লাস ময়লা!
স্বভাবতই মেজাজ খাট্টা হয়ে গেল আমার! একেতো দেরি করে পানি দিয়েছে তার উপর বলে দেবার পরেও নোংরা গ্লাসে দিয়েছে।

বয়কে ধমকে উঠলাম।
ছেলেটা চুপ করে গ্লাস নিয়ে বেসিনে গেল। আমি তাকিয়ে আছি ওর দিকে ও খেয়াল করেনি। ও সুন্দর করে গ্লাস মাজলো, তারপর গ্লাসে পানি ঢাললো। এরপর যা করলো দেখে আমার পুরো আক্কেল গুড়ুম!
গ্লাসে পানি ঢালার পরে ছেলেটা গ্লাসের মধ্যে থুথু ফেললো!

কিছুক্ষন পরে সুন্দর করে মাজা গ্লাসটা আমার সামনে দিয়ে ও আরেক দিকে অন্য খদ্দের সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। গ্লাসের পানি দেখে বোঝার ও উপায় নেই এর মধ্যে থুথু আছে!
এদিকে আমি পানির কথা ভুলে বয়টাকে নিয়ে কি করবো সে চিন্তায় ডুবে আছি। ওকে শিক্ষা না দিলে যে আমার খাওয়া হজম হবে নাহ! বেশ খানিকক্ষন পর সিদ্ধান্ত নিলাম শিক্ষা দিবো তবে অন্যভাবে...
চিন্তা করলাম এখন যদি ওকে পিটাই বা গ্লাস ভেঙ্গে ফেলি সেটা কোন কাজের কাজ হবেনা। আরেকদিন হয়ত অন্য কিছু মেশাবে আমি দেখবো ও না!
হঠাৎ ডেল কার্নেগী টেকনিক এ্যাপ্লাই করার চিন্তা মাথায় এলো! ডেল কার্নেগীর বইগুলো আমার অনেক অনেক উপকারে এসেছে, বহুবার! সে কথা আজ থাক।
গ্লাসের পানিটা আর খেলাম না, জগ থেকে সরাসরি খেয়ে গ্লাসের পানি জগে ঢেলে রাখলাম। বিল দেবার সময় ছেলেটাকে ডাক দিলাম, আমার গ্লাস খালি দেখে ছেলেটার মুখে তখন বিশ্বজয়ের হাঁসি!

ওকে বললাম, এত কষ্ট করে গ্লাস পরিস্কার করে পানি দিয়েছো দেখে ভাল লেগেছে। পানি খেয়ে শান্তি পেয়েছি! ওর হাতে ২০টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলাম।
প্রথমে টাকা নিচ্ছিলো না, জোর করে হাতে দিলাম।
রিকশাতে ওঠার আগে দেখি আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
দু’দিন পরে আবারো জলযোগে ঢুকলাম নাস্তা করার জন্য। কিন্তু আজকের চিত্রপট সম্পুর্ন ভিন্ন!
ছেলেটা আমাকে দেখেই ছুটোছুটি শুরু করে দিলো! চাওয়ার আগেই সুন্দর করে গ্লাস পরিস্কার করে পানি এনে দিলো!
ওদিকে অন্য খদ্দেরগুলো ওকে ডেকে খুন হয়ে যাচ্ছে সেদিকে ওর ভ্রুক্ষেপ ই নেই! আমি কি খাবো জানতে চাইছে!
আমি আজ নিশ্চিত ও গ্লাসে থুথু দেয়নি!