somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম প্রেমপত্র

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পটভূমিঃ ছোটবেলার প্রেম, টিকে আছে অনেক বছর ধরে। ঘটনাচক্রে প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে বর্তমান দূরত্ব অনেক পথের, দেখা হয় ৩-৪ মাস পরপর। কষ্টের প্রেম, এমন আজকাল খুব একটা দেখা যায় না।
তবে কথা হয় প্রচুর, বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের পরই তারা বেছে নেবে দুটো মুঠোফোন - অনায়াসে বলা যায় একথা। অনেকদিনের প্রেম হলে কি হবে, চিঠি আদান-প্রদান হয়নি একটিও... অবাক হবার কিছু নেই,মুঠোফোন এর যুগে চিঠি তো হারিয়েই গিয়েছে।
তারপর, একদিনের কথা... প্রেমিকা একটা আবদার করে বসলো- চিঠি পাঠাতে হবে! প্রেমিক বেচারা মহা বিপদে... তার ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু চুপচাপ টাইপ ছেলে... অনেক দোহাই দিয়ে বাঁচার চেষ্টা চালালো সে। কাজ হলো না। যখন অভিমান দেখাতে গিয়ে মুঠোফোনটাই একরাত বন্ধ করে রাখলো প্রেমিকা, হার মানলো প্রেমিক।
লিখতে বসলো ... প্রথম প্রেমপত্র !!!
)



*************************************************************





শুরুতেই একটা ঝামেলায় পড়ে গেলাম। চিঠিতে যে জায়গায় 'প্রিয় অমুক' জাতীয় কথা লিখতে হয় সেখানে কি লিখবো বুঝতে পারছি না।কতজন কতরকমে শুরু করে! একবার মনে করলাম লিখি 'জান গো', আবার মনে হয় লিখি 'সোনা পাখি'... নাহ্‌! এসবে হবে না।আমার বউ এখনো তার বাচ্চার নামও ঠিক করে নাই যে লিখব 'অমুক-তমুকের মা'। তবে ছোট করে 'বউ' লেখা যেত- ন্যাকামি হয়ে যায়! তার চাইতে ফাঁকাই থাকুক।

তুমি নিশ্চয়ই অনেক আগ্রহ নিয়ে আমার চিঠিটা পড়তে শুরু করসো(আমি এই স্টাইলেই লিখবো, করেছে-গিয়েছিলাম লিখতে পারবো না)। আগ্রহ মুছে ফেলো; এটা একটা পচা চিঠি।আমি একটা করে লাইন লিখেই চিঠিটা কেমন হইসে সেটা দেখার চেষ্টা করতেসি,কাজেই চিঠিটা কখনো ভালো হবে না। তবে যতটুকু পারি সব কথা লেখার চেষ্টা করতেসি। মাথায় যা আসতেসে খসখস করে লিখে যাইতেসি, ডায়রীর মত।আমি শালার একটা ছাগল,ব্ল্যাক বেঙ্গল- এক্কেবারে অরিজিনাল। মানুষেরা তাদের প্রেমিকাদের (প্রেমিকা শব্দটা আমার বিশেষ অপছন্দ,লিখে ফেলেছি বলে কাটলাম না- এখানে 'ভালোবাসার মেয়ে' হলে মানাতো) কত রঙ্গের কথা বলে।কেউ আকাশের চাঁদ নিয়ে আসে(আসলে কিন্তু পারে না!)কেউ জান দিয়ে দেয়...!আমার মনে পড়েনা এমন কিছু আমি তোমাকে কখনো বলসি।এমনকি সেদিন দেখা হবার পর 'শোনো, তোমাকে অনেক সুন্দর লাগতেসে' এই কথাটাও মুখ থেকে বের করতে পারলাম না। (আমি কিন্তু একদমই তেল দিই না, তুমি জানো)। আমাকে যে মেয়েটা ভালোবাসে, তার কপাল এতটাই খারাপ!

আচ্ছা,আমি কি ব্র্যাকেট বেশি ইউজ করতেসি?!
ভালো না লাগলে কিছু করার নাই। কথা তো শেষ! মাথায় আর কিছু আসতেছে না, কি করবো বলো তো?

উপরে একজায়গায় একটা মিথ্যা কথা বলসি,স্যরি লিখসি। সেইটা হইলো- আমার যে আসলে ওরকম কিছু বলতে ইচ্ছা করে না ,তা না... আমি আসলে পারি না।আমার একটা কথা খুব বলতে ইচ্ছা করে- 'জান, তোমার একটা চুলের জন্য আমি এই পৃথিবী লিখে দিতে পারি'। কিন্তু ভয়ে বলি না, আবার যদি কখনো সত্যি একটা চুল হাতে ধরায়ে দিয়ে চলে যাও !
(এই জায়গায় তুমি ফোন করসিলা... মজা না?)

আচ্ছা তুমি যে চিঠিটা হোস্টেলের ঠিকানায় পাঠাতে বললা, চিঠিটা যদি তোমার কোন বান্ধবী পড়ে ফেলে? অবশ্য আমার ধারণা কাজটা এতক্ষণে শেষ।

শোনো,আমার না পড়তে ইচ্ছা করে না, একদম না,একটুও না...
আমার হাতের লেখা কি নষ্ট হয়ে গেছে?তুমি ভাল বলতে পারবা...বাংলা তো অনেকদিন লেখা হয় না।পড়ালেখা না করে থাকা গেলে অনেক ভাল হতো ,তাই না?আমি ঠিক করসি, আমি আমার মেয়েকে পড়ালেখা নিয়ে প্রেশারাইজ করবো না... পড়তে চাইলে পড়বে,না চাইলে নাই।তুমি কিন্তু আমার মেয়েকে কিছু বলবা না,খবরদার!

এই চিঠিটা আমাকে অনেক জ্বালাইসে...আজকে আমার পড়া হয়নাই চিঠির ধান্দায় ! তাই পরীক্ষার আগেই বের করে দিলাম,তা না হলে আবার পরীক্ষার খাতায় লিখে আসবো!
আমার অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাইতেসে,এখন সারাদিন খালি তোমার কথা মনে হয়। সারাদিন চোখের সামনে দেখতে ইচ্ছা করে, অনেক কষ্ট হয়,অনেক। এবার আমি বাসায় বলে দিব(serious)। মনে হয় বলার সময় 'কান্দিয়া ফেলিবো' (পড়ে হাসবা না,বুঝো না তো মজা! দেবদাস তৈরি হয়,দেবদাসী তৈরি হইতে দেখসো কোনদিন?)
আমাকে একা ফেলে কখনো যেও না!

আমি তোমাকে আবার বলি, আমাকে ছেড়ে যেও না!তুমি যা যা বলবা, আমি সব করবো। ঘরমোছা,থালাবাটি ধোয়া,কাপড়কাঁচা, রান্না সঅব, সব করবো! শুধু তুমি আমার থাকবা। আমাকে ভালোবাসতে হবে -তাও বলি না ,শুধু আমাকে ভালোবাসতে দিও একটু...

আর কখনো কিছু আমার কাছে লুকিয়ে রাখবা না,একদমই না। মনে থাকবে?(অইদিন যে হাত কেটে গেছে-সেটা কিন্তু আমি আজকে শুনলাম,এমন যেন আর না হয়!)।আমার কথা ভেবে কষ্ট পাবা না। আরেকটা জিনিস, আমি তো তোমাকে না দেখে থাকতে পারতেসি না-এবার মনে হয় তাড়াতাড়ি আসবো, চেষ্টা করবো। তুমি একটুও মন খারাপ করবা না! কি করবা, তোমার কপালটাই খারাপ- ভালোবাসছো পচা একটা ছেলেকে,তাও আবার থাকে অনেক দূরে, চিঠি তো লিখতে পারেই না, ফোনেও কথা বলে কম কম... এখন একটু কষ্ট তো হবেই। কষ্ট পাবা না, কান্নাকাটি করবা না... করলে কিন্তু 'হালুউউম'

অ্যাই মেয়ে, আমার চিঠি পড়ে মন খারাপ করে বসে থাইকো না, জানোই তো আমি এগুলা পারি না।আর আমাকে যে চিঠিটা লিখবা, সেটা যেন ছিঁড়ে জানালার বাইরে না যায়,আমার কাছেই আসে। ঠিক আছে? শেষ করতে ইচ্ছা করতেসে না,কিন্তু করতে হবে।চার্জ নাই আমার (রাত সাড়ে চারটা বাজে!)

ইতি
একটা পচা ছেলে


{একটা কথা লিখি নাই... ভালোবাসি,অনেক।পাগলের মত ভালোবাসি}


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০২
২৬টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সফলতার গফ শোনান ব্যর্থতার দায় নেবেন না?

লিখেছেন সোমহেপি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৪৩

মুক্তিযুদ্ধের ক্রেডিট নিতে চান ভাল কথা, লুটপাট ও পাকিস্তানের বিপরীতে ভারতের স্ত্রী হয়া ঠাপ খাওনের দায়টাও নেন। অপ্রকাশিত সবগুলো চুক্তিপ্রকাশ করেন। ইন্ডিয়ার হাসফাস দেখে মনে হচ্ছে হাসিনা তাগো অক্সিজেন ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীলপরী আর বাঁশিওয়ালা

লিখেছেন নিথর শ্রাবণ শিহাব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৪৮

আষাঢ়ের গল্পের আসর

সন্ধার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে দিনের মত আলো করে। কান ফাটিয়ে দেয়া আওয়াজ। কারেন্ট নেই প্রায় তিন ঘণ্টার ওপর। চার্জারের আলো থাকতে থাকতে রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে ক্ষমার অফারের সাথে শর্তগুলো প্রচার হয়না কেন?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১

ইসলামে পাহাড়সম পাপও ক্ষমা পাওয়ার যে সব শর্টকাট অফার আছে, সেগুলোতে ব্ল্যাক হোলের মতো কিছু গভীর, বিশাল এবং ভয়ঙ্কর নোকতা যুক্ত আছে। কোনো এক অজানা, অদ্ভুত কারণে হাজার বছরের ইবাদত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যদি পুড়ি, তবে তোমরাও আমাদের সঙ্গে পুড়বে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৫:০১


২২ বছর ধরে একচ্ছত্র ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল, বিরোধীদের দমন—এরদোয়ানের শাসনযন্ত্র এতদিন অপ্রতিরোধ্য মনে হতো। কিন্তু এবার রাজপথের তরুণরা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তুরস্ক এখন বিদ্রোহের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেংগিস খান: ব্লগের এক আত্মম্ভরী, অহংকারী জঞ্জাল

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৪৪

ব্লগ জগতে অনেক ধরনের মানুষের দেখা মেলে—কেউ লেখে আনন্দের জন্য, কেউ লেখে ভাবনা শেয়ার করতে, আর কেউ লেখে শুধু নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। কিন্তু তারপর আছে চেংগিস খানের মতো একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×