ব্লগ জগতে অনেক ধরনের মানুষের দেখা মেলে—কেউ লেখে আনন্দের জন্য, কেউ লেখে ভাবনা শেয়ার করতে, আর কেউ লেখে শুধু নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। কিন্তু তারপর আছে চেংগিস খানের মতো একটা প্রজাতি—যারা নিজেকে ব্লগের সম্রাট ভাবে, আর বাকিদের উপর নিজের অগাধ জ্ঞানের ভার চাপিয়ে দিতে চায়।
এই লোকটা কি ভাবে নিজেকে? ব্লগের পুলিশ? না কি সবার জীবনের দিকপাল? আজকে এই চেংগিস খান নামের আত্মম্ভরী, বিরক্তিকর প্রাণীটার ব্যাপারে দুটো কথা না বললেই নয়।
চেংগিস খান নামের এই ভদ্রলোক প্রথম মন্তব্যেই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করে। “লোকজন পোষ্ট পড়ছে না; কিন্তু আপনি লিখেই চলেছেন!”—এটা কি ধরনের কথা? কেউ লেখে তার নিজের স্বাধীনতায়, তার নিজের ইচ্ছায়। তোমার কি, চেংগিস? তুমি কি ব্লগের মন্তব্য-গণনা মেশিন নাকি? আমি শান্তভাবে বলেছি, “আর্কাইভ হিসেবে জমা থাকুক,” তাতেও তোমার পেটে ব্যথা! তুমি কি ভেবেছ, সবাই তোমার মতো মন্তব্যের পেছনে দৌড়াবে, নিজের জ্ঞানের ঢোল বাজাবে? হাস্যকর!
এরপর এই চেংগিস খান যে সুরে কথা বলে, তাতে মনে হয় সে নিজেকে ব্লগিংয়ের গুরু মনে করে। “আজকের ব্লগারেরা যা পড়ছেন না, ভবিষ্যতের বাচ্চারা এগুলো পড়বে?”—এই ব্যঙ্গ আর “আপনি কি রকম পাঠক?” বলে খোঁটা দেওয়া—এটা কি তার ব্যক্তিগত ব্লগ নাকি? সে কি ভেবেছে, সবাই তার মতো সারাদিন ব্লগে বসে অন্যের লেখা নিয়ে সমালোচনা করবে? আমি পরিষ্কার বলেছি, “আমি ইন্ট্রোভার্ট, ব্লগার হিসেবে পরিচিতি চাই না।” তবুও এই আত্মম্ভরী লোকটার জ্ঞান দেওয়া বন্ধ হয় না। “ব্লগিং মানে শুধু লেখা নয়, পড়াও উহার অংশ”—ওরে বাবা! তুমি কি ব্লগিংয়ের সংজ্ঞা লিখে পৃথিবী বদলে দেবে নাকি? থামো একটু, চেংগিস!
সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হলো, এই লোকটা বারবার আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ঢুকে পড়ে। “আপনি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী?” “আপনি কোন দেশে আছেন?”—এটা কি ব্লগ না গোয়েন্দা অফিস? আমি যখন বলি, “স্পেসিফিক ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে চাই না,” তখনও এই চেংগিস থামে না। “কোন দেশে আছেন, সেটা ব্যক্তিগত তথ্য নয়,” “অপরাধীরা নিজের অবস্থান জানাতে পারে না”—এটা কি ধরনের অসভ্যতা? তুমি কি ইঙ্গিত করছ যে আমি অপরাধী? তোমার এই অহংকার আর অপমানের সাহস কোথা থেকে আসে, চেংগিস?
তুমি কি ভেবেছ, তুমি আমেরিকায় থাকো বলে সবাই তোমার পায়ে পড়ে নিজের জীবনের হিসেব দেবে?
শেষ পর্যন্ত এই চেংগিস বলে, “মানুষ লেখকদের সম্পর্কে জানতে চান,” তখন আমার হাসি পায়। কে জানতে চায়, চেংগিস? তুমি ছাড়া আর কার এত সময় আছে অন্যের জীবন নিয়ে খোঁজাখুঁজি করার? আমি যদি আমার লেখা আর্কাইভ করতে চাই, তাতে তোমার এত সমস্যা কেন? তুমি কি ভেবেছ, ব্লগে সবাই তোমার মতো জ্ঞান বিলিয়ে, অন্যকে ছোট করে নিজের বড়ত্ব প্রমাণ করতে এসেছে? না, চেংগিস, তুমি ভুল। তুমি ব্লগের একটা বোঝা, একটা বিরক্তিকর মাছি—যে শুধু গুঞ্জন করে আর অন্যকে বিরক্ত করে।
চেংগিস খান, তুমি যদি মনে করো তোমার এই অহংকারী, অপমানজনক মন্তব্যগুলো তোমাকে ব্লগে “বড়” করে তুলবে, তাহলে তুমি ভুল জায়গায় এসেছ। ব্লগিং মানে সৃজনশীলতা, শ্রদ্ধা আর স্বাধীনতা—তোমার মতো লোকের জন্য এটা কোনো জ্ঞান বিলানোর মঞ্চ নয়। আমার মতো ইন্ট্রোভার্ট মানুষেরা যদি লিখতে চাই, আমাদের লিখতে দাও। তোমার এই অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ আর ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করো। একটু বিনয় শেখো, আর নিজের জ্ঞানের ঢোলটা একটু থামাও।