এসব ভাবতে ভাবতে এক সময় হারিয়ে যাচ্ছিলাম এক ভিন্ন জগতে। আমার সফরসংগী ইব্রাহীম ভাই এসে আমাকে জানালেন ফিরতি বাসের টিকেট প্রস্তুত। একটু পরেই আমাদের রওয়ানা দিতে হবে জেদ্দায়। সেখান থেকে পরদিন ফ্লাইটে ঢাকা।
রাত ১২ টায় আমাদের বাস ছেড়ে যাচ্ছে প্রানের শহর মদিনা, মনে মনে বলছি হে দয়াময় ওগো দয়ার সাগর আমি এ শহর ছেড়ে কি করে যাবো? এ কষ্ট আমি কি করে সইবো? আমাদের বাস ছুটে চলেছে জেদ্দা নগরীর দিকে জানালার পাশে আমি তাকিয়ে আছি শেষবারের মতো যদি আরেকবার সবুজ গম্বুজ দেখতে পেতাম। আমি অঝর ধারায় কাঁদছি। মদীনা শহরের বড় বড় দালানগুলো সবুজ গম্বুজকে ঢেকে ফেলেছে বহুদিন ধরে। আমি জানিনা শহর থেকে এতো দূরে চলে আসার পর শেষ সময়ে হঠাত কোথা থেকে যেন একটু ফাঁকা জায়গা দিয়ে আমি মদিনার সবুজ গম্বুজকে দেখে ফেললাম। আমি অবাক এবং বিষ্ময় নিয়ে দেখছি আমার নবীর রওজা। চোখের পানিতে বার বার সে দৃশ্য ঘোলা হয়ে আসছিলো। আমি চোখ মুছে দেখার চেষ্টা করছি। মনে মনে বলছি বিদায় ইয়া রাসুল আল্লাহ বিদায়।
সারাদিনের ক্লান্তি আর মদীনার শোকে আক্রান্ত আমি এক সময় ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে দেখি আকাশে একফালি চাঁদ উঠেছে। কালো কালো পাহাড়ের বুক চিরে তৈরী রাজপথ পাড়ি দিয়ে আমাদের বাস এগিয়ে যাচ্ছে। মরুভূমির স্নিগ্ধ চাঁদের আলোতে দূর ধু ধু প্রান্তে তৈরী করেছে এক মায়াময় জগত। নিজেকে মনে হচ্ছিলো অন্য কোন এক অদেখা ভুবনের যাত্রী। মনের মধ্যে মদীনা যে গভীর রেখা সেদিন একে দিয়েছে সে টান আমি আজো অনুভব করি। আজো হাজারো কষ্টে আমি মদীনাকে বিদায় দেয়ার কষ্ট মনে করি। তখন সব কষ্টই ম্লান হয়ে যায়।
নশ্বর এ ভুবনে অল্প কয়েকদিনের জন্য এসেছি। আজ চলে গেলে কাল দুদিন হয়ে যাবে। তিন চার দিন পর আর কেহ মনেও করবেনা। আজ ক্ষমাপ্রার্থী সেসব মানুষের কাছে যাদের আমার কারনে কষ্ট পেতে হয়েছে। ক্ষমাপ্রার্থী সে সকল মানুষের কাছে যাদের সাথে করা ওয়াদা পূরন করতে পারিনি।
জানি আমি ব্যর্থ। তবুও মনে রেখো আমি চেষ্টা করেছি, আমি চেষ্টা করেছি...........................