১১। নারিকেল (Coconut)

পুষ্টিগুণ: নারিকেলের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, চর্বি, শর্করা ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়া ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান আছে।
ঔষধিগুণ: বিভিন্ন রকম পেটের গোলযোগে গ্লুকোজ স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ডাবের পানি খুবই উপযোগী। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমির ফলে দেহে যে পানির অভাব ঘটে তা পূরণে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকরী। এটি পিত্তনাশক ও কৃমিনাশক। ফলের মালা/আইচা পুড়িয়ে পাথরবাটি চাপা দিয়ে পাথরের গায়ে যে গাম/কাথ্ব হয় তা দাদের জন্য মহৌষধ।
ব্যবহার: খাদ্য পানীয় থেকে শুরু করে গৃহনির্মান সরঞ্জামও নারিকেল গাছ থেকে পাওয়া যায়।
১২। কামরাঙ্গা (Carambola)

পুষ্টিগুণ: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল।
ঔষধিগুণ: পাকা ফল রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। ফল এবং পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে বমি বন্ধ হয়। পাতা ও ডগার গুঁড়া সেবনে জলবসন্ত ও বক্রকিৃমি নিরাময় হয়। কাশি ও অ্যাজমা নিরাময়ে পোড়া কামরাঙ্গা উপকারী।
ব্যবহার: জেলি, জ্যাম, মোরব্বা, চাটনি ও আচার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
১৩। লেবু (Lemon, Lime)

পুষ্টিগুণ: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি টক জাতীয় ফল।
ঔষধিগুণ: লেবুর রস মধুর সাথে অথবা লেবুর রস লবন বা আদার সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা ও সর্দি-কাশি উপশম হয় এবং যেকোন ক্ষত শুকায়।
১৪। বাতাবি লেবু (Pummelo)

পুষ্টিগুণ: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল।
ঔষধিগুণ: পাতা ফুল ও ফলের খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করলে মৃগী, হাত-পা কাঁপা ও প্রচন্ড কাশি রোগীর প্রশান্তি আনয়ন করে এবং সর্দি-জ্বর উপশম হয়।
১৫। সফেদা (Sapota)

পুষ্টিগুণ: এটি একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল।
ঔষধিগুণ: ফলের ঠান্ডা পানি বা শরবত জ্বরনাশক হিসেবে কাজ করে। ফলের খোসা শরীরের ত্বক ও রক্তনালী দৃঢ় করে রক্তক্ষরণ বন্ধে সাহায্য করে।
পূর্ববতী পর্বসমূহ:
১ম পর্ব: আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জাম
২য় পর্ব: কুল, কলা, আমড়া, পেঁপে, আনারস
উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়।