somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাচ্চা-কাচ্চা সাচ্চা ভয়ংকর

১২ ই মে, ২০১৪ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




জীবনে যত বিয়ের দাওয়াতে গেছি এমন কোনদিন দেখি নাই দুই তিনটা পিচ্চি বাচ্চা বিয়ের স্টেজকে বানরের খাঁচা বানায় নাই। স্টেজের মাঝখানে কি হচ্ছে না হচ্ছে, কে আসছে কে নামছে, কারা ছবি তুলছে কারা তুলছে না- কোন বিকার নাই। মিনিমাম দুই বা ততোধিক পিচ্চি পুরোটা সময় স্টেজের একপাশ থেকে আরেকপাশে ছোটাছুটি করবে, স্টেজের সামনের পিছনের ফুল ছিঁড়বে, ডেকোরেশনের জিনিসপত্র নিয়ে টানাটানি করবে, যেমন খুশি তেমন লাফাবে, ক্যামেরার তার টানবে- এগুলো ‘সূর্য পূর্বদিকে উঠে, পশ্চিম দিকে অস্ত যায়’ এর মতই সত্য। ধরুন, আপনি একটা কাজ করতে গেলেন, বাঁধা দিতে দশজন হাজির। বাচ্চাদের এই প্রবলেম নাই। একজন ফুল ছিঁড়ছে মানে ঐখানে যত পিচ্ছি আছে সবাই ফুল ছিঁড়বে। দশে মিলে ছিড়ি ফুল, হারি জিতি নাহি ভুল।

ঐদিন গেলাম এক বিয়ের দাওয়াতে। দেখি স্টেজের বিপরীতমুখী করে এক কোণায় প্রজেক্টর স্ক্রীন বসানো। ‘স্টেজের মাঝখানে বসা কনেকে সেই স্ক্রীনে দেখা যাচ্ছে’- ব্যাপারটা খেয়াল করা মাত্রই এক পিচ্চি দৌড়ে সোজা স্টেজের উপর। কনের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে পিচ্ছি প্রজেক্টরের কিছু পরীক্ষা নিল। হাত নাড়ালে স্ক্রীনে নড়ে কিনা, মুখ ভেংচালে স্ক্রীনে ভেংচায় কিনা, সে লাফালে স্ক্রীনেও লাফায় কিনা এধরনের সৃজনশীল কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে পিচ্চি স্টেজ থেকে আর নামেই না। হলের সাউন্ড সিস্টেমের সাথে এক প্রস্থ ‘শিলা কি জাওয়ানি’র নাচও হল।

আরেক বিয়েতে দেখলাম দুইটা পিচ্চি স্টেজের দুইটা বেলুন খুলে নিল। এর মধ্যে একজনের বেলুন গেল ফুটে। আরেকটা নিয়ে লাগল কঠিন মারামারি। বড়দের মারামারি শুরু হয় কিল ঘুষি দিয়ে, পিচ্চিদের হয় খামচি, না হয় কামড়।। খামচা খামচি কামড়া কামড়ির এক পর্যায়ে বাংলা সিনেমার পাহাড় থেকে পড়তে থাকা নায়ক নায়িকার মত স্টেজের উপর গড়াগড়ি দিতে লাগল দুইটা। যে বাচ্চাগুলা স্টেজে বাঁদরামি করে তাদের মা-বাপ কে কেন জানি ঐসময় খুঁজে পাওয়া যায় না। এই বাচ্চার মা বাপেরও হদিস নাই। অন্যরা মিলে যতক্ষনে দুইটাকে থামাল ততক্ষনে দুইটার গাল পুরোপুরি টমেটো।;););)

বাচ্চাদের এই উৎপাত নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কথা ছিল। অনেক সময় তা সীমার বাইরে চলে যায়। যেমন ধরেন- কিছুক্ষন পর শুরু হবে বহু আরাধ্য, বহু প্ল্যান প্রোগ্রামের ফুলসজ্জার রাত। বর কনের মনে তুফান চলছে সিডরের গতিতে। এর মধ্যে বরের বড় ভাইয়ের পিচ্চি এসে হাজির।
-“আমি আজকে নতুন মামনির সাথে থাকব”।
এটি একটি সত্য ঘটনা। বর কনের চেহারার দিকে যদি বেশিক্ষণ তাকাইতে পারি নাই, অসহায় মুখ দেখলে মায়া লাগে।:|:|:|:|:|:|

এই দিনের কাহিনী আরো মারাত্মক। বন্ধুর বাসর রাতের আয়োজন করা হয়েছে এক ফাইভ স্টার হোটেলে। কমিউনিটি সেন্টারের সব ঝামেলা শেষ করে বর কনেকে হোটেল রমে পৌছে দিতে গেলাম বন্ধু কয়েকজন, কনের ভাই-ভাবী আর ভাবীর পিচ্চি। রুমে ঢুকে সুসজ্জিত বিছানা দেখে পিচ্চি জুতা সহ সেটার উপর কিছুক্ষন ডব্লিউডব্লিউই প্র্যাকটিস করল। সবার যাওয়ার পালা এমন সময় বেঁকে বসল পিচ্ছি। সে বাসায় যাবে না।
-‘উমা, এই বিছানা কি নরম, এই বিছানায় ঘুমাইতে অনেক আরাম হবে। আমি এখানে থাকব’।
একী মুসিবত। মা পটানোর চেষ্টা করেন।
-“এইখানে হালুম আছে, ভূত আছে, উ বাবা আছে”।
-“তাহলে ফুফি কিভাবে‌ থাকবে?”
এদিকে নতুন দম্পতির মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। বাংলা বিহার উড়িষ্যার মেঘ আর আকাশে নাই। তবুও মুখে যতটা সম্ভব হাসি রেখে কনে বলে উঠল
-“ভাবী, সিয়াম না হয় থাক”।
বন্ধুর দিকে তাকালাম। বেচারা পারলে পিচ্চি কে এখনি জানালা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে। বুঝলাম বন্ধুর ভেতরটা ভেংগে খান খান হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক। :((:((:((:((:((
পিচ্চির সাথে অনেকবার সংলাপ হল, চকলেট-চিপসের লোভ দেখানো হল। কোন সমাধান হয়না। তাইলে আর কি!! ওর সর্বরোগের মহৌষধ দরকার। পিচ্চির মা দিল দুইটা ঠাস ঠাস। শুরু হল বিনা টিকেটে পিচ্চির একক ‘ভ্যা’ ‘ভ্যা’ সঙ্গীত। এক পর্যায়ে শিল্পী ঘুমিয়ে পড়লেন। শ্রোতারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ততক্ষনে ঘন্টা খানেক মার্ডার। বৃষ্টির কারণে টার্গেট ঠিক রেখে ৫০ ওভারের ম্যাচ ৪০ ওভারে নেমে এলে ব্যাটসম্যানের চেহারা যেরকম হয় বন্ধুর চেহারা তখন তেমন। না আর বৃষ্টি নয়, আমরা যে যার মত বাসার পথ ধরলাম এদিকে।


ঐদিকে কি হল জানেন? :-/:-/:-/


বন্ধু আমারে পরে সব বলছে। একদম ডিটেইলে। :P:P:P:P:P:P:P:P:







সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৪ সকাল ১১:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে ইতিহাস মুছে দিতে চায় ২৪শের লাল বিপ্লবীরা/ আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৫



২৫শে মার্চ দিবাগত কালো রাতের অপারেশন সার্চলাইটের পরক্ষনেই।২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভুমি’কে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেদিন থেকেই স্বাধীন সার্বভৌম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বডি সোহেলের মন ভালো নেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:২৫


আমাদের জাতীয় নেতাদের বংশধরেরা বড়ই অদ্ভুত জীবন যাপন করছেন। তাদের বাপ চাচাদের মধ্যে মত-বিরোধ থাকিলেও একে অপর কে জনসম্মুখে অপমান করেন নাই। এক্ষেত্রে নেতাদের প্রজন্ম পূর্বপুরুষ দের ট্রাডিশন ধরে রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ই-মেইল ঠিকানা

লিখেছেন মি. বিকেল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৩৩



যারা গল্প, কবিতা, সাহিত্য, ফিচার বা কলাম লিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, সাহিত্য পাতা ইত্যাদির ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হলো। পত্রিকায় ছাপা হলে আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার দায়ভার কি সেনাবাহিনী নেবে? তাদের সমালোচনাকে অনেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা মনে করছে কেন?

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ২:২৯

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখনও আমাদের জন্য গর্ব এবং আস্থার জায়গা। কারণ দুর্নীতির এই দেশে একমাত্র সেনাবাহিনীই সেই প্রতিষ্ঠান যার আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সুনাম এখনও আছে। কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েলকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীর মত থাকাই দরকার।

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ৯:১৮



একটি জনগণ কিভাবে নিজেদের জন্য নরক ডেকে আনতে পারে-
গাজার জনগণ তার জ্বলন্ত প্রমান। এরা হামাসকে নিরংকুশ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে কারণ হামাস ইসরায়েলের ভৌগলিক এবং রাজনৈতিক অস্ত্বিত্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×