
মাঝে মাঝেই ব্যাপারটা আমার দৃষ্টিতে ধরা দেয় অথবা ঝেঁকে বসে আমার উপর। ঘরে ফেরা সূর্যের রেশ যখন রাত্রিকে সম্ভাষনের প্রস্তুতি নেয়, তখন ধূসর দিগন্তে নির্বিকার পাক খেয়ে খেয়ে উড়ে চলে এক শঙ্খচিল। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় বুঝতে পারি হৃদস্পদনটা তাল মিলিয়েছে শঙ্খচিলের ডানার সাথে। চারপাশের এত কোলাহল ডিঙ্গিয়ে আমি শুনতে পাই হাপর টা্নার মত হৃদযন্ত্রের শব্দ। একসময় শঙ্খচিল পাখা দুটো ছেড়ে দেয় সটানে, আর আমার গভীর থেকে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস, ক্রমশ ডুবে যেতে থাকি একাকীত্বের গভীর অন্ধকারে। লড়াই করি প্রতিনিয়ত। সাধ হয় জয় করি এই যুদ্ধ। আমি জানি সবারই ইচ্ছে হয়।
ইচ্ছের বিপরীতে হার এসে আমাকে আলিঙ্গন করে। পরাজয়ের লজ্জায় ছুটতে থাকি পশ্চাৎপানে। একদম নিশ্চিত অতীতের চৌকাট পর্যন্ত। অনিশ্চিত ভবিষ্যতটা তখন বিষম তেতো লাগে। পালিয়ে বেড়াই, সবার থেকে, নিজের থেকে। চারপাশের অচেনা মুখগুলোতে অলীকতা ভর করে।
বিরক্তির উদ্রেক করে অলীক সঙ্গ।
অস্থির সময়টাতে আমাকে ছেড়ে যায় প্রিয় শব্দেরা। প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গেছে শব্দের দল।
ঝি ঝি পোকার উৎসব আয়োজন আর খামখেয়ালী ছুটাছুটি অসহ্য লাগে।
অনাদরে অবহেলায় ঘরের এক কোণে নিশ্চল অস্তিত্ব জানান দিয়ে যায় প্যাডেল আর কয়েকজোড়া স্টিক।
আমি জানি তাদেরকে স্পর্শ করা মাত্রই শুরু হবে রক্তক্ষরণ। নাক-চোক-মুখ বেয়ে ফিনকি দিয়ে অবিরাম হোলিখেলায় মেতে উঠবে রুধির প্রবাহ। তার সাথে বেরিয়ে আসবে শিরার নিচে উৎ পেতে থাকা অন্ধকার। আমি পবিত্র হব বলে অন্ধকারকে স্বাগত জানাই। পুঞ্জীভুত অন্ধকার গ্রাস করে নেয় আমার সত্তা। নিঃসীম কালোর জগতে আমি উদভ্রান্তের মত আছড়ে পড়ি এক টুকরো আলোর আশায়। এক চিলতে আলোর জন্য তৃষ্ণার্ত থাকে চোখজোড়া। কোটর ছেড়ে বেরিয়ে পড়বে বলে আমাকে ভয় দেখায়।
আমি প্রবোধ গুনি, সামনেই আলোক নগর।
নিরন্তর হাঁটি। পেছনে পড়ে থাকে ধানশালিক আর ঘাসফড়িং। উঁচু গলার অভিসম্পাত শুনি। আমার সম্মুখভাগ অদৃশ্যমান তাদের কাছে। নাহলে তারা জানত এই পথে আলপনা একে যাওয়া রক্তের জন্ম হাসিতে নয়, চোখে।
রক্তে লেগে আছে অশ্রু, রক্তাশ্রু। অশ্রুতে লেগে আছে করজোড় নিবেদন। মার্জনা চাই।
হেরে যাওয়া ভয় পেয়ে বসে, আবার হারিয়ে যাই নিশ্চিত অতীতে যেখানে বসে বিরান সমুদ্রতটে ডুবে ছিলাম কোলাহলময় মদিরতায়। অবিরাম প্রানচঞ্চল জলের ধারা উষ্ণ অভিবাদনে নিয়মিত বিরতিতে ডেকেছিল তাদের উৎসবে যোগ দিতে, হাতের আংগুল ভাঁজ করে কাছে ডাকার মত ইশারা করে। অগ্রাহ্যে আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম রঙের মোহে, আলোর লোভে।
দিনের শেষে, এই রঙ মিথ্যে। এই আলো অসার।
ধ্রুব সত্য হয়ে থাকে জমাট অন্ধকার।
শঙ্খচিল এখনো উড়ছে। সন্ধ্যার প্রস্থানে জায়গা করে নেয় রাত্রি। গভীর রাত্রি।
অন্ধকার কাটতে থাকে শঙ্খচিলের ডানা।
ক্রমশ ডানায় ফাটল ধরে।
ব্যাথায় নির্বাক চোখ জন্ম দেয় দু’ফোটা জল।
শংখচিল জানে কতটা তীব্রতায় সে কাঁদে।
সকালে নগরবাসী দেখতে পায় পথের ধারে পড়ে আছে ডানাহীন এক শঙ্খচিল।
আমি তখনো দুঃস্বপ্নের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
New blood joins this earth
And quickly he's subdued
Through constant pained disgrace
The young boy learns their rules
With time the child draws in
This whipping boy done wrong
Deprived of all his thoughts
The young man struggles on and on
he's known
A vow unto his own
That never from this day
His will they'll take away
উৎসর্গ- আমার চারপাশ ঘিরে থাকা মানুষগুলোকে। নিয়ত মনে হয় তাদের ভালবাসা আর স্নেহের বিপরীতে আমি তাদেরকে কিছুই দিতে পারিনি
আর ব্লগার আরিশ'কে, ইদানিং তার গল্পগুলো আমাকে অনেক বেশি টানে।
**লিরিকটি 'মেটালিকা'র 'আনফরগিভেন' এর।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:২৯