somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গানের খাতায় প্রতি পাতায়...

২১ শে নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল গান লেখা হচ্ছে খুব। ভালোই লাগে। আমার লেখা গান...সজল মামা আর স্বপন আঙ্কেলের সুর...স্টেজে পিচ্চিপাচ্চিরা গাইছে... কেমন জানি বিশিষ্ট গীতিকার টাইপ একটা ভাব আছে। প্রতিটা গানের সময় আবার তোতা আঙ্কেল আমাকে স্টেজের সামনে নিয়ে গিয়ে বলে দেয়- “আমাদের উপস্থাপিকা অনেক গুনে গুনান্বিতা...এখন যে গানটি শুনবেন, এটা তার ই লেখা...” ইত্যাদি ইত্যাদি। মজাই লাগে।


আমার খুব আফসোস ছিল,আমি কখনো সারা রাত জেগে থাকতে পারি নি। এখন অবশ্য আর সেই আফসোস নেই... প্রায় প্রতিটা রাত ই নির্ঘুম যায়। প্রথম যেদিন সারা রাত ছাদে বসে ছিলাম, সেই রাতের শেষে প্রথম সূর্যোদয় দেখে মুগ্ধ হয়ে দৌড়ে রুমে এসে লিখে ফেলেছিলাম-


পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়
মিষ্টি ভোরবেলা
সুনীল আকাশ জুড়ে কেবল
রঙিন আলোর খেলা।।


ফুলের বনে উড়ে বেড়ায়
হাজার মৌমাছি
পাখার রঙে স্বপ্ন রাঙায়
রঙিন প্রজাপতি।
সূর্য্যি মামা দেয় উঁকি
থামিয়ে চাঁদের ভেলা।।


সকালের ওই সোনা রোদে
রঙিন স্বপ্ন ভাসে
গাছের শাখায় পাখির পাখায়
আলোর নাচন হাসে।
ফুলের বাসে মিষ্টি বাতাস
দেয় যে মনে দোলা।।


আম্মু আর সজল মামার এক কোটি বার তাড়া খেয়ে লেখা এই গানটা-

ধানের মাঠে দোল দিয়ে যায়
উদাস দখিন হাওয়া
প্রজাপতি মন চায় এখন
নীল আকাশে হারিয়ে যাওয়া
আর প্রাণ খুলে গান গাওয়া।।

গানের তালে ভাসিয়ে দিয়ে
সুরের হাজার খেয়া
তাড়িয়ে দিল দুঃখ যত
মিষ্টি দখিন হাওয়া
তাক ধিনা ধিন ঢোল বাজিয়ে
আনন্দে ডুব দেয়া।।

গানের তালে গাছের ডালে
দোয়েল শ্যামার মেলা
নীল আকাশে ভেসে চলে
সাদা মেঘের ভেলা
সেই ভেলাতে চড়ে আজ
আকাশে ভেসে যাওয়া।।


আমার ছয় মাস বয়সী মামাতো বোনটা বড় হলে ওকে আমি এই গানটা শেখাবো-

হাম্পটি ডাম্পটি স্যাট অন আ ওয়াল
কানা বগী তুই খাস কি আমায় একটু বল।।


হাট্টিমাটিম পাড়ল ডিম তেপান্তরের মাঠে
খোকন সোনা নাইতে যায় কাজলা দীঘির ঘাটে
খাঁদু দাদুর মাথায় আছে মস্ত একটা টাক
দুধ মাখা ভাত খেয়ে গেল দুষ্টু পাজি কাক।।


কাকের বাসায় ফুটল দেখ কোকিল পাখির ছা
টুনটুনি যে ধরল গান তাক ধিনা ধিন তা
তাইনা দেখে খোকন সোনা হাসল ফোকলা দাঁতে
চাঁদ মামাও দিল হেসে তার সাথে সাথে।।



আমার খালাতো ভাই ধ্রুব(৬) আর সামি(৪),ঢাকার বাসিন্দা। ওদের জন্য এই গানটা-
চাঁদের মা বুড়ি তুমি চরকা কেন কাটো?
আকাশটা জুড়ে কেন বাতি জ্বেলে রাখো?


তোমায় নিয়ে বাবা আমায় গল্প বলে কত
পাশের বাড়ির দিদা নাকি দেখতে তোমার মত
তোমায় আমি দেখিনি আর দেখব না কোনদিন
আমার আকাশ দিল ঢেকে মস্ত ওই বিল্ডিং
আমি আকাশ দেখতে পাই না তুমি জান নাকো??
তবু কেন মিথ্যে গল্পে ভুলিয়ে আমায় রাখো???


তেপান্তরের মাঠে নাকি তোমার আলো বেয়ে
শ্যাওড়া গাছের শাঁকচুন্নি আসতো যে ধেয়ে
আমরা তো কই মাঠ দেখিনা, পাইনা সবুজ ঘাস
ইট বালি আর সিমেন্টে যে করেছে সব নাশ
তবে বুঝি শাঁকচুন্নি আর আসে নাকো??
ও যেন যায় না মরে বাঁচিয়ে ওকে রাখো।।


অবশেষে সাহস করে লিখেই ফেললাম একটা বড়দের গান... কৌশিক গাইলে বেশ হবে...


যতই উড়তে চাক আমার এই মন
কঠিন ব্যস্ততায় বাঁধা পড়েছে জীবন
কী লাভ রেখে খোঁজ কে আছে কেমন।।


আজ সময়ের বড় অভাব তাই
সম্পর্ক গুলোও ফিকে হয়ে যায়
উচ্চাশার পিছে ছুটে মিছে মিছে
আজ তাই বড় বেশি ক্লান্ত এ মন।।


পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মেলাতে বসে
তোমার মুখটা মনে কেন যেন ওঠে ভেসে
অনেক না পাওয়ার মাঝে তুমি একজন
এই বেশ ভালো আছি,ছক বাঁধা জীবন।।



এই গানটা লিখতে গিয়ে একটা ছেলের মুখটা ভেসে উঠল চোখের সামনে... মায়া মায়া দুটো চোখ, এলোমেলো চুল... চোখের কোলে কি পানি জমল নাকি?? নাহ! এই বেশ ভালো আছি, ছক বাঁধা জীবন... কী লাভ রেখে খোঁজ কে আছে কেমন...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:২৯
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীলপরী আর বাঁশিওয়ালা

লিখেছেন নিথর শ্রাবণ শিহাব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৪৮

আষাঢ়ের গল্পের আসর

সন্ধার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে দিনের মত আলো করে। কান ফাটিয়ে দেয়া আওয়াজ। কারেন্ট নেই প্রায় তিন ঘণ্টার ওপর। চার্জারের আলো থাকতে থাকতে রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে ক্ষমার অফারের সাথে শর্তগুলো প্রচার হয়না কেন?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১

ইসলামে পাহাড়সম পাপও ক্ষমা পাওয়ার যে সব শর্টকাট অফার আছে, সেগুলোতে ব্ল্যাক হোলের মতো কিছু গভীর, বিশাল এবং ভয়ঙ্কর নোকতা যুক্ত আছে। কোনো এক অজানা, অদ্ভুত কারণে হাজার বছরের ইবাদত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যদি পুড়ি, তবে তোমরাও আমাদের সঙ্গে পুড়বে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৫:০১


২২ বছর ধরে একচ্ছত্র ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল, বিরোধীদের দমন—এরদোয়ানের শাসনযন্ত্র এতদিন অপ্রতিরোধ্য মনে হতো। কিন্তু এবার রাজপথের তরুণরা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তুরস্ক এখন বিদ্রোহের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেংগিস খান: ব্লগের এক আত্মম্ভরী, অহংকারী জঞ্জাল

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৪৪

ব্লগ জগতে অনেক ধরনের মানুষের দেখা মেলে—কেউ লেখে আনন্দের জন্য, কেউ লেখে ভাবনা শেয়ার করতে, আর কেউ লেখে শুধু নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। কিন্তু তারপর আছে চেংগিস খানের মতো একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া নষ্ট প্রজন্ম

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:৩৬

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ধর্ষিতা বাঙালি নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অস্ট্রেলীয় ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গণধর্ষণের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন যে, তারা কীভাবে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×