অস্ট্রেলিয়া ও প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে বিশালাকায় এক রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। মহাজগতে বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানই হবে এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ দুটি জানায়, ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের তাদের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি আর্ন্তজাতিক স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারেই (এসকেএ) এর তালিকাভুক্ত দুটির একটি। এসকেএ হচ্ছে চার হাজার টেলিস্কোপ একত্র করে একটি যন্ত্রে স্থাপন করে দূর মহাকাশে লক্ষ্য রাখার একটি প্রকল্প।
শুক্রবার সিডনিতে এ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নিউ জিল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী গেরি ব্রাউনলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এসকেএ প্রকল্পের একুশ শতকের সেরা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প হওয়ার সব সম্ভাবনাই আছে। এই প্রকল্পে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে। বিজ্ঞানের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজারই চেষ্টা করা হবে প্রকল্পে। এই টেলিস্কোপ অতীতের অনেক তারা কে দেখতে পাবে জানিয়ে ব্রাউনলি আশা প্রকাশ করেন, এটি হয়ে উঠতে পারে মহা-বৈজ্ঞানিক প্রকল্প। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞান মন্ত্রী কিম ক্যার জানান, যৌথ উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূল ধরে নিউ জিল্যান্ড পর্যন্ত পাঁচ হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চার হাজার অ্যান্টেনা লাগানো হবে। তবে মূল প্রকল্পটি এই দুদেশের হাতে যাবে কি না তা এখনও ঠিক হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা হচ্ছে মূল প্রকল্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রকল্প কারা বাস্তবায়ন করবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ২০১২ তে। সে থেকে নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ছয় থেকে আট বছর।
এ প্রকল্প পেতে অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে সেরা দুইয়ে পৌঁছেছে। ১৯টি দেশের ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যাগে এসকেএ প্রকল্প হচ্ছে। অর্থের যোগানদাতা হবে অংশীদার দেশের সরকারগুলো।
পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণ আছে কিনা; বিগ ব্যাং বা মহা বিস্ফোরণের পর কী কী ঘটেছিল-বিজ্ঞানের একেবারে মৌলিক এসব প্রশ্নের আরো খোলাসা জবাব পাওয়া যেতে পারে এ প্রকল্প থেকে।
তথ্যসূত্র এখানে -