
ছবি: ডিমোনায় ইসরায়েলের অন্যতম পারমাণবিক স্থাপনা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, ইহুদি রাষ্ট্র থেকে ইরানের উপর কোন হামলা হলে ইরানও পাল্টা ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার উপর হামলা চালাবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গার্ড বাহিনীর এই হুঁশিয়ারি বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছে।
ইরানের নিয়মিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর বাইরে বিশেষ বাহিনী হচ্ছে এই রেভলুশনারি গার্ড। তারা মূলত সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ শাখা যারা আদর্শগত মূল্যবোধে পরিচালিত। এই বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলি জাফরি শনিবার বলেন, ইসরায়েলের জায়নিস্ট প্রশাসন যদি ইরানের উপর কোন ধরণের হামলা চালায়, তবে আমরা অবশ্যই তাদের পারমাণবিক স্থাপনার উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাব। ইরানের আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল-আলমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাফরি এই হুমকি দেন। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী দিবসের ঠিক এক দিন আগে জাফরি এই হুমকি উচ্চারণ করলেন। এর আগে গত মার্চেও তিনি প্রায় একই ধরণের বিবৃতি দিয়েছিলেন।
জাফরি বলেন, ইসরায়েলের ইহুদিবাদী প্রশাসন এবং আমাদের অন্যান্য শত্রুদের বোকামির জন্য আমরা কোনভাবেই দায়ী নই। তারা যদি ইরানে আক্রমণ চালায়, আমাদের জবাব হবে অত্যন্ত সূক্ষ ও দৃঢ়। তিনি বলেন, ইসরায়েল পুরোপুরি ইরানের আওতার মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলের যে কোন হামলার সমুচিত জবাব দেয়ার ক্ষমতা ইরান গত দু'বছরে যথেষ্ট মাত্রায় অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন জাফরি। উল্লেখ্য, ইরানের নেতারা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে প্রায়ই মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তারা বলেন, ইরানের প্রতি হুমকি হওয়ার অবস্থানে নেই ইসরায়েল। তাঁদের ভাষ্য, ইরানের ওপর কোনো ধরণের হামলা হলেই মার্কিন স্বার্থ ও ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে।

ছবি: দক্ষিণ ইরানে বুশেহর পারমাণবিক প্রকল্প।
প্রসঙ্গতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের আশংকা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে ইরানকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভানাও উড়িয়ে দেয়নি পশ্চিমা শক্তি। তবে ইরানের জবাব হচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যেই তাদের এই কর্মসূচি। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসরায়েলের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। ইসরায়েলের আশংকা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এই ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য একটি বড় হুমকি। কেননা, ইরান কখনই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ একাধিকবার ইসরায়েলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র এখানে -
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ২:২০