রাজনৈতিক জনসভায় ইন্ডিয়ার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি'র সভাপতি রাজনাথ সিং হুমকি উচ্চারণ করে বলেছেন, বাংলাদেশসহ কয়েকটি প্রতিবেশি দেশ সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যা ইন্ডিয়ার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। আর তাই ইন্ডিয়াকে অবশ্যই জঙ্গি ঘাঁটি বা সন্ত্রাসী ক্যাম্প গুড়িয়ে দিতে পাকিস্থান ও বাংলাদেশে হামলা চালাতে হবে! অনেকে ভাবতেই পারেন, তিনি অসাবধানতাবশত কথাগুলো বলে ফেলেছেন। অবগতির জন্য জানানো উচিৎ তিনি বহুবার এ হামলার কথা রিপিট করেছেন। এর মাধ্যমে মৌলবাদী বিজেপির সামপ্রদায়িক ভয়াল চেহারাটা আরও স্পষ্ট হলো। তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরনে ইন্ডিয়া সরকারের প্রত্যক্ষ সম্মতি রয়েছে। সমপ্রতি 'ওয়াশিংটন পোষ্টে' বাংলাদেশকে 'সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্র' হিসেবে আখ্যায়িত করে যে একটি বিতর্কিত ও অসত্য রিপোর্ট চাপানো হয়েছিল তার পেছনে আমাদের দেশের একটি বিশেষ মহল ও ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর হাত রয়েছে। এটা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি মার্কিনিদের সার্টিফিকেট দেয়া আল কায়েদাহীন বাংলাদেশকে পুনরায় আল কায়েদা'র ঘাটি বলে দাবী করছে!
ইন্ডিয়ানরা পুরো পৃথিবীতে কঞ্জুস, কাপুরুষ জাতী হিসাবে খ্যাতি কুড়িয়ে আছে। তাদের এই খ্যাতির মহরা তারা প্রতিদিনই প্রমাণ করার জন্য সর্বব্যস্ত। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ভূমিকা বরাবরই অত্যন্ত ঔদ্ধত্বপূর্ণ, সহিংস ও কাপুরুষতা। প্রতিদিনই বাংলাদেশের সীমান্তবতর্ী এলাকার নিরীহ লোকজনের ওপর গুলি চালিয়ে তারা টার্গেট প্র্যাকটিস করছে। আইন লংঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে বিনা কারণে লোকজন অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, সীমান্তবতর্ী এলাকার জমির ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া, গরু-ছাগল চুরি করা, লাশ নিয়ে গিয়ে ফেরত না দেয়া, বাংলা ভাষাভাষীদের পুশইন করা সহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে বিএসএফ করছে না।
আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ার এ ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা ও আগ্রাসী মনোভাবকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইসু বলে বিবেচনা করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ধারাবাহিক আগ্রাসী অপতৎপরতা ও বিজেপি প্রধানের সামপ্রতিক মন্তব্য কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। নতুন এক ইসরাইলের চেহারা নিয়ে ইন্ডিয়া বেড়ে উঠছে দ্রুততার সাথে। ইন্ডিয়ার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা 6 হাজার ইহুদি সাথে হিন্দুদের খুব একটা অমিল নেই। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থা যেন লেবাননের মত না হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মত দুমুখো সাপ, যারা নিজস্বার্থের জন্য দেশের ভাবমূর্তি ুক্ষুন্ন করছে তাদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তাদেরকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যারা আশ্রয় দিচ্ছে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। তবেই হবে জবাবের মত জবাব।