somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামহোয়্যারইনের সবুজ মাঠে বর্ষপরিক্রমা...

১৩ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এখানে সবুজ মাঠ, রোদের হুটোপুটি;
এখানে মেঘের ছায়া, মিষ্টি খুনসুটি;
এখানে বৃষ্টি ঝরে, এলোমেলো হাওয়া;
এখানে মনমাঝি তোর বৈঠা নিয়ে বাওয়া;
এখানে শব্দেরা ছোঁয় অনুভব রঙীন,
সামহোয়্যারইন সামহোয়্যারইন সামহোয়্যারইন...

এখানে অনাবিল পথ, দেখি শব্দমিছিল;
এখানে মেললে চোখ আকাশটা নীল;
এখানে তর্ক খুব জমে হৃদয়ের ভীড়ে,
এখানে আবেগ ঘন হয় মানুষকে ঘিরে;
এখানে ভাঙছে বাঁধ, আওয়াজ প্রতিদিন;
সামহোয়্যারইন সামহোয়্যারইন সামহোয়্যারইন...

এক বছর আগে সদস্য হয়েছিলাম সামহোয়্যারইন ব্লগে। দেখতে দেখতে এতগুলো পাতা উল্টে গেল সময়ের খাতা থেকে। এই সুবৃহৎ পরিবারের সদস্য হয়ে যতটুকু সুখদুঃখের উত্তাপ অনুভব করতে পারা, তারই কিছু অক্ষম প্রকাশ উপরের লাইনগুলোতে। আসলে সব ভালো লাগা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই।

এই কথনের সুযোগে সকল বন্ধুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবো, কারণ মনে মনে আমি অত্যন্ত অপরাধবোধে ভুগি... এই সময়ের মধ্যে আমার পোস্ট করা যৎসামান্য লেখায় অনেকেই নিয়মিত এসেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। অথচ আমি তাঁদের শব্দ-বাগানে নিয়মিত যেতে পারিনি, হারিয়ে ফেলেছি অনেক অনেক সবুজ শব্দের সম্ভার। সময়ের অভাব আমায় কুরে কুরে খেয়েছে, বিষণ্ণ করেছে, ফোঁপরা করে দিয়েছে এখানকার বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গনে বিচরণ করার ইচ্ছেগুলোকে। এই অনিচ্ছাকৃত অপরাধে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

এই ব্লগের খোঁজ পাওয়াটা ছিল এক অদ্ভুত সমাপতন। আমি যে সময়ে বড় হয়েছি, একই সাথে বিবর্তিত হয়েছিল কমপিউটার। প্রথম দিকে যে ব্যাপারটা খুবই ভাবাতো, তা হলো কমপিউটারে সব কাজ কেন বাংলায় করা যাবে না। তখন খুব কম বাংলা ওয়ার্ডপ্রসেসর এসেছিল বাজারে, আর তা সহজলভ্যও ছিলো না। কম বয়সের উষ্ণ তাগিদে সেই সময় একটা ছোটোখাটো বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসরও বানিয়ে ফেলেছিলাম। নাম দিয়েছিলাম ‘লেখা’, বিটা ভার্শানেই যার সমাপ্তি! এমন কি ফন্টোগ্রাফার নামের একটা এপ্লিকেশান সফটওয়ার যোগাড় করে বাংলা ফন্টও বানিয়েছিলাম।

এই সব ছেলেমানুষী অনেক আগের কথা। তারপর বহুদিন চলে গেছে। এমন বেশ কিছু ইচ্ছে সময়োচিত শীতঘুমে ঢলে পড়লো। বছর খানেকের কিছু আগে একদিন হঠাৎ ‘অভ্র’র খোঁজ পেলাম ওয়েবে। ডাউনলোড এবং ইন্সটল করলাম। বেশ চমৎকৃত হলাম, ইউনিকোডের দৌলতে কতকিছুই না করা যাচ্ছে। গুগলে বাংলায় সার্চ আর বাংলা উইকি... দিব্য ব্যাপারস্যাপার। আর এই বাংলাভাষা নিয়ে কাজ করায় বাংলাদেশের বন্ধুদের অসীম অবদান ভীষণই ভালো লাগার, শ্রদ্ধার। সার্চ দিয়েছিলাম গুগলে ‘ভালোবাসার কবিতা’ দিয়ে। রেজাল্টের পাতায় একটা কবিতার অসম্ভব সুন্দর কিছু শব্দমালায় চোখ আটকে গেছিল। লেখিকার নাম সুলতানা শিরীন সাজি। ক্লিক করতেই পৌঁছে গেলাম সামহোয়ারে, প্রথমবার। গুগলে খুঁজে পাওয়া সাজির সেই কবিতার সূত্র ধরেই এই জগতে প্রবেশ। বাংলায় যে ব্লগ হয় এবং এমন একঝাঁক সবুজ মানুষের কলতানে সেই প্রাঙ্গন মুখরিত হয়ে থাকে... এটা আগে জানা ছিল না, যত দেখেছি ততই অবাক হয়েছি। অজস্র মননশীল চেতনার যোগফলে প্রাপ্ত এক দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠ আর অদ্ভুত সব রোদের হুটোপুটি সেখানে... বাংলা নিয়ে বেঁচে থাকাটা সত্যিই এক দারুণ ব্যাপার!

বিস্মিত হয়ে ভাবি, কোটি বছর আগের জন্ম নেওয়া একরত্তি প্রোটিন-প্রাণ কি কখনও ভেবেছিল তার বিবর্তন এমন একটা জগতজোড়া কমিউনিটি তৈরি করে ফেলবে? যেখানে চিন্তা ভাবনার রাশি রাশি হাইপারলিঙ্কের মধ্যে দিয়ে এক বন্ধুতার সূত্রে গাঁথা হয়ে যাবে অজস্র মানুষ। যারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা রঙে প্রতিনিয়ত চিত্রিত করে তুলছে এক আকাশজোড়া ক্যানভাস, কোনো আন্তর্জাতিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করেই, ভেঙে ফেলছে সব বাঁধ! এই বাঁধ ভাঙার আওয়াজে এক অদ্ভুত ভালো লাগা ছেয়ে ফেলে আমার আকাশ।

এগিয়ে চলুক প্রযুক্তির এমন সব উজ্জ্বল প্রাপ্তি... এগিয়ে চলুক সৌরমন্ডলের বিস্ময়কর এই নীল গ্রহটি... এগিয়ে চলুক এই নীল গ্রহের পরম প্রিয় প্রাণী প্রজাতিটি, তার উদ্দাম উচ্ছল অদম্য ইচ্ছেগুলো নিয়ে, মহাবিশ্বের মতই ক্রমাগত প্রসারিত হয়ে চলুক তার মন এবং চিন্তাশীলতা...

ইচ্ছা ছিল উপরের লিরিকটা কম্পোজ করে একটা গান তৈরি করে দেবার। যে বন্ধুরা সাহায্য করার জন্য রয়েছেন, তাদের বলাই হলো না। এমন অনেক কিছুই ভাবি, হয় না। যেমন ভেবেছিলাম বাংলা গানের একটা ডেটাবেস তৈরি করার কথা, যেখানে সমস্ত বাংলা গানের সবরকম তথ্য থাকবে, নির্মানকাল থেকে শুরু করে গায়ক, গীতিকার, সঙ্গীতকার এবং বাদ্যযন্ত্রীরাও। এমন বেশ কিছু স্বপ্ন পুষে রাখি মনের মধ্যে... কিছুই হয়তো সত্যি হয়ে ওঠে না, কিন্তু এই সব স্বপ্নগুলো মনের মধ্যে লালন করে পথ চলাই আমার জীবন... আশা রাখি কোনো এক প্রজন্মে সেগুলো সাকার হয়ে উঠবে।

সুপ্রিয় সকল বন্ধুকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং শুভকামনা... খুব ভালো থাকবেন সব্বাই। এই মহাবিশ্ব জুড়ে বয়ে যাক অবিরাম আনন্দ-কণার স্রোত..... আগামী সময় হয়ে উঠুক আরো সুন্দর, আরো আলোকিত।
৩০টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে ইতিহাস মুছে দিতে চায় ২৪শের লাল বিপ্লবীরা/ আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৫



২৫শে মার্চ দিবাগত কালো রাতের অপারেশন সার্চলাইটের পরক্ষনেই।২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভুমি’কে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেদিন থেকেই স্বাধীন সার্বভৌম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বডি সোহেলের মন ভালো নেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:২৫


আমাদের জাতীয় নেতাদের বংশধরেরা বড়ই অদ্ভুত জীবন যাপন করছেন। তাদের বাপ চাচাদের মধ্যে মত-বিরোধ থাকিলেও একে অপর কে জনসম্মুখে অপমান করেন নাই। এক্ষেত্রে নেতাদের প্রজন্ম পূর্বপুরুষ দের ট্রাডিশন ধরে রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ই-মেইল ঠিকানা

লিখেছেন মি. বিকেল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৩৩



যারা গল্প, কবিতা, সাহিত্য, ফিচার বা কলাম লিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, সাহিত্য পাতা ইত্যাদির ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হলো। পত্রিকায় ছাপা হলে আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার দায়ভার কি সেনাবাহিনী নেবে? তাদের সমালোচনাকে অনেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা মনে করছে কেন?

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ২:২৯

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখনও আমাদের জন্য গর্ব এবং আস্থার জায়গা। কারণ দুর্নীতির এই দেশে একমাত্র সেনাবাহিনীই সেই প্রতিষ্ঠান যার আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সুনাম এখনও আছে। কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েলকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীর মত থাকাই দরকার।

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ৯:১৮



একটি জনগণ কিভাবে নিজেদের জন্য নরক ডেকে আনতে পারে-
গাজার জনগণ তার জ্বলন্ত প্রমান। এরা হামাসকে নিরংকুশ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে কারণ হামাস ইসরায়েলের ভৌগলিক এবং রাজনৈতিক অস্ত্বিত্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×