somewhere in... blog

মুক্তাঙ্গন, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ

২২ শে নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিতর্কিত সিইসি এমএ আজিজ ও সম জাকারিয়াদের বিদায়সহ 11 দফা বাস-বায়নের দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন 14 দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিরো পয়েন্ট, মুক্তাঙ্গন, রাসেল স্কোয়ার, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর 10 নম্বর ও পল্লবীসহ রাজধানীর 23টি অবস্থানে নির্মিত ট্রাক মঞ্চে নেতাদের বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে গণসঙ্গীত, ব্যান্ড সঙ্গীত, দেশাত্দবোধক, জারি-সারি, বাউল গান এবং কৌতুক পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করা হয়। হাজার হাজার নেতাকমর্ী ও সমর্থক এই অবরোধ-উৎসবে মেতে ওঠে। বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবী পথচারী ও সাধারণ উৎসাহী মানুষ এই উৎসবে শামিল হয়েছে। অবরোধে মানুষের অংশগ্রহণও প্রথম দিনের চেয়ে বেড়েছে। মানুষের ঢল নামে সমাবেশ ও অবস্থানগুলোতে। এলডিপির পর এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং জাকের পার্টি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন দাবিতে 14 দলের অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কাল রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে। অবরোধের ফলে রাজধানী থেকে সারাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় অচল হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। 14 দলের অবরোধ এবং চারদলের সমাবেশ-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে বিএনপির এক কমর্ী নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে বিএনপির মঞ্চ পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। বগুড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকমর্ীদের ওপর হামলা করে মারধর করা হয়েছে। তবে রাজধানীতে দু'চারটি গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন দু'একটি সংঘর্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি ছিল শান-িপূর্ণ। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নীরব ভূমিকায় ছিল। মঙ্গলবার 14 দলের নেতাকমর্ীরা আবার মুক্তাঙ্গনের দখল নিয়ে নিয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি রাজধানীতে 23টি স্থানে রাস-ার ওপর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ 14 দলের নেতাকমর্ীরা অবস্থান গ্রহণ করেন। এসব স্থানে ট্রাকের ওপর মঞ্চ তৈরি করে নেতৃবৃন্দ ম্যারাথন বক্তব্য রাখেন। ফাঁকে ফাঁকে চলে গান-বাজনা। সারাদিন একের পর এক মিছিল আসা-যাওয়া করে। সিইসি আজিজ, সম জাকারিয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, চারদলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, জামায়াতের আমীর মতিউর নিজামী এবং চাল-ডাল, তরি-তরকারিসহ বিগত সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্দক গান ও কৌতুক রচনা করে পরিবেশন করা হয়।
মুক্তাঙ্গন, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ
মুক্তাঙ্গন, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউসহ পুরো গুলিস-ান এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে মানুষের ঢল নামে। রাজপথে নামা অবালবৃদ্ধবনিতার চোখে-মুখে ছিল বিজয়ের আনন্দ ঝিলিক। সে সঙ্গে ছিল অপেক্ষার প্রহর গোনা, কখন আজিজের পদত্যাগের ঘোষণা আসবে। শীতের মিঠে-কড়া রোদে পুড়ে অবরোধকারী 14 দলের নেতাকমর্ীরা সংবাদ মাধ্যমের কাউকে পেলেই প্রশ্ন ছুড়েছেন_ 'আজিজ কি গেছেন?'
বক্তৃতা, গণসঙ্গীত, বাউল সঙ্গীত, ব্যঙ্গগান, নৃত্য আর মিছিলে মিছিলে সারাদিন উত্তাল ছিল এই এলাকা। সিইসি এমএ আজিজের 50টিরও বেশি কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে এখানে। বিকালে মহানগর 14 দলের সামনে রাখা হয়েছে একটি কফিন। যার গায়ে লেখা ছিল_ সিইসি এমএ আজিজ। সিইসিসদৃশ এক ব্যক্তি রিকশায় চড়ে করজোড়ে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরো এলাকা। তার বুকে অাঁটা কাগজে লেখা ছিল_ 'আজিজ খাইছে ধরা'। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি ব্যতিক্রমী মঞ্চ বানিয়ে দিনভর সিইসিকে নিয়ে কৌতুক করেছে 'আমরা বৃহত্তর নোয়াখাইল্যা' নামের একটি সংগঠন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল 'আজিজ তুই হরি যা'। প্রতিটি মিছিলের সামনে ছিল এমএ আজিজের ব্যঙ্গচিত্র। মহানগর 14 দলের মঞ্চের পেছনে লাগানো ছিল ইয়াহিয়া খানের দানবীয় ছবির সঙ্গে আজিজের ছবি।
পুলিশি ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে গতকাল সকাল থেকেই মুক্তাঙ্গন 14 দলের দখলে চলে যায়। যুব সংগ্রাম পরিষদ যুবমঞ্চ বানিয়ে এখানে দিনভর অনুষ্ঠান করেছে। মঞ্চের দু'দিকে সাজানো ছিল রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সিইসি এমএ আজিজের ব্যঙ্গচিত্র। বক্তৃতা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, ওমর ফারুক চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, শাহনাজ পারভিন ডলিসহ 14 দলের নেতৃবৃন্দ। বক্তৃতার ফাঁকে চলেছে সঙ্গীতানুষ্ঠান।
শহীদ নূর হোসেন স্কোয়ারে মঞ্চ করে সমাবেশ ও গণসঙ্গীতের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ওবায়দুল কাদের, আখতারুজ্জামান, ডা. মোস-ফা জালাল মহিউদ্দিন, তারানা হালিমসহ 14 দলের নেতৃবৃন্দ এখানে এসে বক্তৃতা দিয়ে উজ্জীবিত করেন অবরোধকারীদের। সংগঠনের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিম, পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে নেতাকমর্ী আর সঙ্গীতশিল্পীরা দিনভর মাতিয়ে রাখেন এ অঞ্চল।
জিপিওর উল্টো দিকে সমাবেশ করে জাসদ। হাসানুল হক ইনু, সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ ও শিরিন আক্তারের বক্তৃতার পাশাপাশি দিনভর গণসঙ্গীত ও বাউল গান পরিবেশিত হয় এ মঞ্চ থেকে। পাশেই মঞ্চ তৈরি করে অনুষ্ঠান করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর পীর ইয়ামেনী মার্কেটের সামনে ট্রাকের ওপর মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের নেতৃত্বে নেতাকমর্ীরা চাঙ্গা করে রাখে নগরীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে আসা নেতাকমর্ীদের। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের উল্টোদিকে নারীমঞ্চ বানিয়ে সভা করে মহিলা আওয়ামী লীগ। এই মঞ্চ থেকে গণসঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি চলে বক্তৃতা। একই জায়গায় কৃষক-মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশ করেছে কৃষক লীগ। তার পাশে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ করেছে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গুলিস-ান মোড়ে সমাবেশ করে চলচ্চিত্র লীগ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকে প্রধান সড়কের ওপর মহানগর 14 দলের বিজয় মঞ্চ থেকে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট।
বেলা যত বাড়তে থাকে এই এলাকায় মানুষের জোয়ার তত উত্তাল হতে থাকে। দুপুরের পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল, সঙ্গীত আর বক্তৃতায় একাকার হয়ে যায় চারদিক। মহানগর আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, এলডিপি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, যুব মহিলা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুক্তফ্রন্ট, আওয়ামী তরুণ লীগ, জাতীয় শ্রমিক জোট, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন-ান, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ টিএন্ডটি শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ইউনিয়ন প্রভৃতি সংঠনের মিছিলে মিছিলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেটে সমাবেশ করে মহানগর 14 দল। এতে সভাপতিত্ব করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, গণফোরাম নেতা মোস-ফা মহসীন মন্টু, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, জাসদ নেত্রী শিরিন আকতার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার।
মিরপুর-পল্লবী-গাবতলী
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে মিছিলে মিছিলে উত্তাল ছিল মিরপুর-পল্লবী-গাবতলী এলাকা। সকাল থেকেই এ এলাকায় 14 দলের নেতাকমর্ীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। পল্লবী 12 নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর 10 নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর 1 নম্বর ও গাবতলীতে দিনভর 14 দলের নেতাকমর্ীরা আলাদা আলাদা সমাবেশ ও মিছিল করেছে। কর্মসূচিতে নেতাকমর্ী ও সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করতে এসব স্পটে শিল্পীরা গণসঙ্গীত ও বাউল গান পরিবেশন করেন। আগের দিনের মতো গতকাল এ এলাকায় ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে মারমুখী পুলিশের লাঠির আঘাতে মিছিলে অংশ নেয়া দু'জন শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। বেলা 11টায় পল্লবী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল 12 নম্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে রওনা হয়ে মিরপুর সাড়ে 11 নম্বরে পেঁৗছলে পুলিশ গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে দু'জন কমর্ীকে মিছিল থেকে টেনে ভ্যানে তোলে। এ সময় মিছিলে থাকা আওয়ামী লীগের কমর্ীরা পুলিশের কাছ থেকে আটক শিশু-কিশোর কমর্ী দু'জনকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে পল্লবী থানার এসআই সাইদুল মারমুখী হয়ে মিছিলকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে 5 বছরের শিশু সোহেল এবং মোতালেব নামে অপর এক কিশোর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এদিকে মিরপুর 10 নম্বর গোলচত্বর ও মিরপুর 1 নম্বরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। সকাল সোয়া 10টায় মিরপুর শাহআলী প্লাজার সামনে মিছিলকারীরা পুলিশের রিকুইজিশন করা দুটি বাস ভাংচুর করেছে। ভাংচুরের অভিযোগে পুলিশ কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী পাপ্পুকে গ্রেফতার করে।
রাসেল স্কোয়ার এলাকা
14 দলের নেতাকমর্ীরা মঙ্গলবার রাসেল স্কোয়ারে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বেলা 11টার পর পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুরের দিকে লোকজন একটু কমে গেলেও সূর্যের আলো কমার সঙ্গে সঙ্গে আবারও দলমত-নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকে গণসঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি, বক্তৃতা, যেমন খুশি তেমন সাজো, কৌতুক, নৃত্য, মিছিল আর স্লোগানে কেটেছে অবরোধ কর্মসূচি। মিছিলে মিছিলে ছিল সিইসি এমএ আজিজের ব্যঙ্গাত্দক প্লে-কার্ড, কার্টুন আর কুশপুত্তলিকা। বাঁধভাঙা আনন্দ আর উচ্ছ্বলতার মধ্য দিয়ে কেটেছে পুরো দিন। দুপুরের দিকে কে বা কারা সভা মঞ্চের পূর্ব পাশে পান্থপথের রাস-ায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়। নেতাকমর্ীরা ছুটে গিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পুড়ে যায় গাড়িটি। সকাল 10টা থেকেই আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, চালক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজম্ম কমান্ড, সৈনিক লীগ এবং ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে রাসেল স্কোয়ারের দিকে আসতে থাকে। দুপুর 12টায় ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, হাজারীবাগ, লালমাটিয়া, শেখেরটেক, কলাবাগান ও শুক্রবাদ এলাকা থেকে আসা বিশাল মিছিল এসে জমায়েত হয় রাসেল স্কোয়ার, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, মেট্রোশপিং সেন্টারের সামনের রাস-া কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকে এমএ আজিজের কুশপুত্তলিকায় অগি্নসংযোগ করেন অবরোধকারীরা।
ধানমণ্ডি থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সকালের অধিবেশন। এ সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আওয়ামী লীগ নেতা উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মান্নান, আবদুর রহমান, ডা. মোস-ফা জালাল মহিউদ্দিন, বাহাউদ্দিন নাছিম, এসএম কামাল হোসেন, মেজর (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, সুজিত রায় নন্দী, অসিম কুমার উকিল, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, পনিরুজ্জামান তরুণ, অধ্যাপিকা খালেদা খানম, সুভাস সিংহ, ড. হাসান মাহমুদ, শাহ আকরাম হোসেন, আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, মৃণাল কান-ি দাস, অজয় কর খোকন।
মতিঝিল-শাপলা চত্বর
সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান এবং বিক্ষোভে মঙ্গলবার মতিঝিল-শাপলা চত্বর ও দিলকুশা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ব্যস-তম বাণিজ্যিক কেন্দ্রের বিভিন্ন অফিস-সংস্থা ও ব্যবসাস্থল থেকে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এবং কর্মকর্তা রাজপথে নেমে আসেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন- পুরো মতিঝিল ছিল উত্তপ্ত। বেলা যত বাড়তে থাকে বাণিজ্যিক এলাকায় ততই মানুষের ঢল নামে। শান-িপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন শ্রমিক ও সিবিএ সংগঠন। মিছিল থেকে গগণবিদারী স্লোগানে বাণিজ্যিক এলাকায় ভিন্ন আমেজ নেমে আসে। খুব একটা যাত্রীবাহী যানবাহন চলেনি। ভোর থেকে দু'একটি মিনিবাস ও টেম্পো অফিসগামীদের মতিঝিলে নিয়ে আসতে দেখা যায়। সকাল 9টার দিকে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হলে এলাকায় রিকশা ছাড়া আর কিছুই চলাচল করেনি। বেলা 11টায় শাপলা চত্বরে জাতীয় শ্রমিক লীগের একটি শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র। বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ, আবদুস সালাম খান, সুলতান আহমেদ, হাবিবুর রহমান আকন্দ, রওশন জাহান সাথী, আমিনুল হক ফারুক, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিরাজুল হক, নুরুল আজাদ, শামসুল আলম মিল্কী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা মোড়, ইত্তেফাক মোড়, ডিআইটি, পল্টন পর্যন- প্রদক্ষিণ করে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ
ঢাকার সঙ্গে মঙ্গলবার সারাদেশের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। কমলাপুর স্টেশন ছিল একেবারেই প্রাণহীন। স্টেশন থেকে কোন ট্রেন ছেড়ে যায়নি, আসেনি। অবরোধের প্রথমদিন সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে তিনটি ট্রেন অল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে ঢাকায় এসেছিল। গতকাল ভোরে আখাউড়ার পাঘাছং স্টেশনের কাছে একটি ট্রেন অবরোধের শিকার হয়। ফলে ভোর থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। স্টেশন ম্যানেজার অশোক কুমার দে পাঘাছং স্টেশনে ট্রেন অবরোধের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পাঘাছংয়ে ট্রেন আটকা পড়ার কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে।' অন্যদিকে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেন চলাচল অবরোধের প্রথমদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন চত্বর
প্রশিকার প্রেসিডেন্ট ড. কাজী ফারুক আহমদের নেতৃত্বে সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আইইবি চত্বরে। সকাল থেকেই সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন-ান, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকমর্ীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে আইইবি চত্বরে সমবেত হন। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়-য়া, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, আবদুল মান্নান, ডা. মোস-ফা জালাল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সাংবাদিক শফিকুর রহমান।
মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-উত্তরা-বাড্ডা ছিল আনন্দমুখর পরিবেশ
মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-উত্তরা-বাড্ডা এলাকায় ছিল উৎসমুখর পরিবেশ। দিনভর মিছিল স্লোগান, বক্তৃতা ও গণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে 14 দলের শান-িপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে এসব স্থানে অন্যান্য দিনের মতো পুলিশ ও র্যাবের সংখ্যা ছিল কম। এলাকার দোকানপাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। প্রধান সড়কগুলোতে দু'একটি গাড়ি চলাচল করলেও সব রাস-া ছিল রিকশার দখলে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছাড়েনি। সকাল 10টায় তিতুমীর কলেজের সামনে থেকে 14 দল নেতাকমর্ীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি মহাখালী ওভারব্রিজ ঘুরে বন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সমাবেশে 14 দলের পক্ষে তোফায়েল আহমেদ, সাহারা খাতুন, রাশেদ খান মেনন, মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন।
তেজগাঁও শিল্প এলাকার নাবিস্কো মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ীরা রাস-া অবরোধ করেন। এর আগে সকাল 10টায় তেজগাঁও কলোনিবাজার থেকে শফিউল্ল্যাহ শফি, রুহুল কুদ্দুস তপন ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে 37 নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সাতরাস-া ঘুরে নাবিস্কো মোড়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে মিলিত হয়। সেখানে বিজয় মঞ্চ স্থাপন করে গণসঙ্গীতের আয়োজন করা হয়। বক্তব্য রাখেন ডা. এইচবিএম ইকবাল, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রশিদ, রুহুল কুদ্দুস তপন, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ।
বেলা 11টায় মধ্যবাড্ডা থেকে বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বের হয়। মধ্যবাড্ডা বাসস্ট্যান্ডে মিছিলকারীরা রাস-া অবরোধ করে রাখে।
সকাল থেকেই মালিবাগ মোড় ছিল 14 দলের নেতাকমর্ীদের দখলে। হোসাপ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে 14 দল বিজয় মঞ্চ স্থাপন করে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন- মালিবাগ মোড়ে 14 দলের কমর্ীরা অবস্থান নিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে।
এলডিপির মিছিল
অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয়দিনও এলডিপি রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করেছে। বেলা 11টার দিকে কয়েক হাজার নেতাকমর্ী দলের প্রতীক কুলা নিয়ে মৌচাক, মগবাজার, ইস্কাটন ও বাংলামোটর এলাকায় মিছিল করেছেন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন এলডিপির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ হাবিবুল বাহার মাইজভাণ্ডারী, এলডিপি নেতা মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবীর তালুকদার, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, আলমগীর কবীর, মাহী বি. চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব, আজমেরী বেগম সন্ধ্যা প্রমুখ। এ সময় এলডিপির মিছিলে অংশ নেয় 50 ও 54 নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পৃথক দুটি মিছিল। 14 দল ও এলডিপির নেতাকমর্ীরা ইস্কাটনে রাস-ায় অবস্থান নেয়। ঢোল, জিপসি, বাঁশি বাজিয়ে বাদ্যের তালে তালে এলডিপির কমর্ীরা সঙ্গীত পরিবেশন করে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাজধানীর পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম, গোলাপশাহ মাজার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিপিও হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে শেষ হয়। মিছিলে এলডিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী দিদার বখতসহ আবু মোহাম্মদ ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, নঈম জাহাঙ্গীর, সাদেক আহমেদ খান, এসএম শহিদ বাবলু, অলি আহমেদ, শ্রমিক নেতা মহসিনুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুরনো ঢাকা
পুরনো ঢাকার বাবুবাজারের সমাবেশটি মূলত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় পরিণত হয়। ঢাকা-8 আসনে (লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) 14 দলের সম্ভাব্য প্রাথর্ী আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দলীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান হীরণসহ লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাজী মোঃ সেলিম।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকমর্ী বাবুবাজারের সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিতর্কিত সিইসি এমএ আজিজের বিদায় প্রায় নিশ্চিত জেনে নেতাকমর্ীদের মধ্যে ছিল উৎসব উৎসব ভাব। তারা হাজী সেলিমের পক্ষে মুহুমর্ুহু স্লোগানে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানাতে থাকেন। বক্তৃতার পাশাপাশি দিনভর চলে গণসংগীত।
বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছে। ঘটনার সময় 3টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করে।
সকাল পৌনে 9টার দিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশাহ মিয়ার নেতৃত্বে চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের হয়। মিছিলটি টিএসসি পার হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দিয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ছাত্রলীগের মিছিলটি পরমাণু শক্তি কমিশন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে ছাত্রদল পেছন থেকে ধাওয়া দেয়। ছাত্রলীগ নেতাকমর্ীরা দোয়েল চত্বরের দিকে চলে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রদল ছাত্রলীগ নেতাকমর্ীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকমর্ীরা কার্জন হলের দিক থেকে আসা ছাত্রদল নেতাকমর্ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অনেকে হাইকোর্ট মাজারের ভেতরে চলে যায়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় পেছনে থাকা পুলিশ ছাত্রদলের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখার নেতা রোকন এবং ফজলুল হক হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান আহত হন। ঘটনার সময় কে বা কারা 3টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। জানা যায়, ঘটনায় ছাত্রদলের তিনজন এবং ছাত্রলীগের দুই নেতা আহত হন। তবে ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ছাত্রলীগ নেতাকমর্ী আহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন। সকালের এ ঘটনা ছাড়া সারাদিন ক্যাম্পাস এবং শাহবাগ ও নীলক্ষেত এলাকা ছিল শান-। ছাত্রদল দিনভর ক্যাম্পাসে পাহারা দেয়।
বিএসএমএমইউতে সমাবেশ
অবরোধের সমর্থনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মঙ্গলবার বেলা 11টার দিকে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের বিএসএমএমইউ শাখা সভাপতি ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকারিয়া স্বপন, ডা. ইকবাল আর্সলান, ডা. আবদুল আজিজ, ডা. জাহিদ হোসেন, ডা. জামালউদ্দিন খলিফা, ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তৃতা করেন। বক্তারা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর তিন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন। সমাবেশ শেষে তারা আওয়ামী লীগসহ 14 দলের অবরোধ কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য মিছিল বের করে।
শ্যামলী
মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ 14 দল ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালন করে শ্যামলী এলাকায়। থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকমর্ীরা সকাল থেকে ব্যানার ও প্লাকার্ড নিয়ে মিছিল সহকারে সমবেত হন এখানে। দিনভর চলে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড কমিশনার আবুল হাসেম হাসু। বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি আলহাজ মকবুল হোসেন, কৃষক লীগ সভাপতি ড. মির্জা জলিল, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ড. হাসান মাহমুদ, আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ বজলুর রহমান ও ইমতিয়াজ হোসেন বাবুল।
যাত্রাবাড়ী
বেলা পৌনে 11টায় সায়েদাবাদ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় অবরোধ সমর্থকরা পুলিশবাহী একটি মিনিবাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অবরোধ চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে প্রচুর রিকশা চলেছে। যান্ত্রিক যানবাহন ছিল সামান্য। দোকানপাট বন্ধ ছিল। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে বাস বের হয়নি। ব্রিজের দক্ষিণ ঢালে দিনভর ট্রাকমঞ্চে শিল্পীরা বাউল গান পরিবেশন করেন। এলাকা ছিল উৎসবমুখর। যাত্রাবাড়ীতে অবরোধের সমর্থনে হাবিবুর রহমান মোল্লা, আরকে চৌধুরী, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, লুৎফর রহমান চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট মোসলেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব সায়েদাবাদ ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ ঢালে পৃথক মিছিল-সমাবেশ হয়।
শ্যামপুর
বেলা 11টায় শ্যামপুর থানার জুরাইন রেলগেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর হয়। কিছুক্ষণ পর প্রধান সড়কে দুটি ও নতুন সড়কে একটি বেবিট্যাক্সি ভাংচুর হয়। এরপর ওই এলাকা দিয়ে যান্ত্রিক যানচলাচল কমে যায়। তবে প্রচুর রিকশা চলেছে। দোকানপাট অধিকাংশ বন্ধ ছিল। অবরোধ চলাকালে জুরাইন ছিল উৎসবমুখর। নতুন সড়কের প্রবেশপথে ট্রাকমঞ্চ থেকে শিল্পীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন- বাউল গান পরিবেশন করে অবরোধ সমর্থকদের মাতিয়ে রাখেন। জুরাইন রেলগেটে অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কাজী মাঈনুদ্দিন মনির, তোফাজ্জল হোসেন, সানজিদা খাতুন, মনির হোসেন স্বপন প্রমুখ।
সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ
সুপ্রিমকোর্ট বন্ধ ছিল। অবরোধের কারণে অধিকাংশ বিচারপতি আদালতে আসতে পারেননি। যারা এসেছেন তারাও এজলাসে বসেননি। সকাল সোয়া 10টায় আইনজীবীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি সুপ্রিমকোর্ট প্রদক্ষিণ শেষে মৎস্যভবন হয়ে কদমফুল ফোয়ারায় এসে শেষ হয়। এখানে সমাবেশ চলে সারাদিন। সমাবেশে বক্তৃতা ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদার, মাহবুবে আলম, ওজায়ের ফারুক, ইনায়েতুর রহীম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বসির আহমেদ, সুব্রত চৌধুরী, এএফএম মেসবাহউদ্দিন, আবদুল মান্নান খান, শামসুদ্দিন মানিক, পিসি গুহ, এম আমিন উদ্দিন, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া, শম রেজাউল করিম, অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, শিরিল সিকদার, আবদুল সালাম মণ্ডল, আবদুর রব, এসএম ফজলুল হক, খন্দকার আবদুল মান্নান, আশরাফুল কামাল, এমএ মান্নান মোহন, মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ সেলিম, বজলুর রহমান, আবদুল রব হাওলাদার, আয়েত আলী পাটোয়ারী, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও আবদুল হালিম।
সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন- আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, বিচারপতি এমএ আজিজ ও সম জাকারিয়া দেশে নীলনকশার নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এমএ আজিজের দুনর্ীতি সম্পর্কে তদন- করার আহ্বান জানান।
ফার্মগেট
রাজধানীর ব্যস-তম ফার্মগেট এলাকা ছিল অবরোধের আওতামুক্ত। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কারণে 14 দলের নেতাকমর্ীরা ফার্মগেট এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা দেননি। ফলে অবরোধের অন্যদিনের তুলনায় বেশি বাস, মিনিবাস, থ্রিহুলার, ও সিএনজি চলাচল করেছে ফার্মগেট এলাকা সংলগ্ন বেশক'টি সড়ক পথে। তবে 14 দলের নেতাকমর্ীরা মহাসড়ক অবরোধ না করলেও ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে গ্রিন রোডের কিছু অংশ সকাল 10টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন- অবরোধ করে রাখেন। এ সময় খণ্ড খণ্ড কয়েকটি মিছিলও বের করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সফলতার গফ শোনান ব্যর্থতার দায় নেবেন না?

লিখেছেন সোমহেপি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৪৩

মুক্তিযুদ্ধের ক্রেডিট নিতে চান ভাল কথা, লুটপাট ও পাকিস্তানের বিপরীতে ভারতের স্ত্রী হয়া ঠাপ খাওনের দায়টাও নেন। অপ্রকাশিত সবগুলো চুক্তিপ্রকাশ করেন। ইন্ডিয়ার হাসফাস দেখে মনে হচ্ছে হাসিনা তাগো অক্সিজেন ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীলপরী আর বাঁশিওয়ালা

লিখেছেন নিথর শ্রাবণ শিহাব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৪৮

আষাঢ়ের গল্পের আসর

সন্ধার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে দিনের মত আলো করে। কান ফাটিয়ে দেয়া আওয়াজ। কারেন্ট নেই প্রায় তিন ঘণ্টার ওপর। চার্জারের আলো থাকতে থাকতে রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে ক্ষমার অফারের সাথে শর্তগুলো প্রচার হয়না কেন?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১

ইসলামে পাহাড়সম পাপও ক্ষমা পাওয়ার যে সব শর্টকাট অফার আছে, সেগুলোতে ব্ল্যাক হোলের মতো কিছু গভীর, বিশাল এবং ভয়ঙ্কর নোকতা যুক্ত আছে। কোনো এক অজানা, অদ্ভুত কারণে হাজার বছরের ইবাদত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যদি পুড়ি, তবে তোমরাও আমাদের সঙ্গে পুড়বে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৫:০১


২২ বছর ধরে একচ্ছত্র ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল, বিরোধীদের দমন—এরদোয়ানের শাসনযন্ত্র এতদিন অপ্রতিরোধ্য মনে হতো। কিন্তু এবার রাজপথের তরুণরা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তুরস্ক এখন বিদ্রোহের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেংগিস খান: ব্লগের এক আত্মম্ভরী, অহংকারী জঞ্জাল

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৪৪

ব্লগ জগতে অনেক ধরনের মানুষের দেখা মেলে—কেউ লেখে আনন্দের জন্য, কেউ লেখে ভাবনা শেয়ার করতে, আর কেউ লেখে শুধু নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। কিন্তু তারপর আছে চেংগিস খানের মতো একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×