somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:|...পাশ্চাত্যের এক বুদ্ধিজীবির সাক্ষাৎকার...:|

১৩ ই মে, ২০১০ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিস্টার পিটার জ্যাকশন, পাশ্চাত্যের একজন খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবি। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে তার ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে নেয়া হয় তার এক অতি মূল্যবান সাক্ষাৎকার। যাতে তিনি তুলে ধরেন তাদের উন্নয়নের পেছনের কিছু মৌলিক চিন্তা ও আমাদের দেশের পিছিয়ে থাকার কারণ.............

প্রশ্নঃ আচ্ছা মিস্টার পিটার, আমাদের দেশের অনেক তরুন মনে করে যে, আপনাদের দেশের উন্নতির মূল কারণ হল 'ফ্রি মিক্সিং' তথা নারী-পুরুষের অবাদ মেলামেশা অর্থাৎ তারা সব বিষয়ে অবাধে স্বাধীনতা ভোগ করে বলেই আপনাদের দেশ এত উন্নত, এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ ওহ! নো, নো। এ সমস্ত বিষয়গুলোতো আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আপনি কি জানেন, প্রতিদিন আমাদের দেশে হাজার হাজার নারী ধর্ষিত হচ্ছে, খুন-রাহাজানি ডাকাতিতে ভরে গেছে। ব্যাভিচার-বিকৃতি এত বেড়ে গেছে যে, সমস্ত দেশের অধিকাংশ মানুষই আজ এইডস নামক ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরছে। সমগ্র জাতি আজ নৈতিক অবক্ষয়ের এক অথোই সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।

প্রশ্নঃ তাহলে এই যে উন্নতি, তাকি মুক্ত চিন্তার জন্য অর্থাৎ যার যা খুশি সেই ভাবে ধর্মের বিরুদ্ধে, নৈতিকতার বিরুদ্ধে মুক্ত চিন্তা করে বলে?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ নো! এটা আপনাদের ভুল ধারণা। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই নাস্তিক। নিজের বিশ্বাস, নিজের ধর্ম, নিজের মতবাদের বিপরীতে অন্য মতবাদ তারা সহ্যই করতে পারেনা। অন্য মতবাদ যেমন কমিনিজম, ইসলাম ইত্যাদি মতবাদের প্রতিষ্ঠা কারীদের তারা হত্যা করে।

প্রশ্নঃ কিন্তু সারা পৃথিবীর মানুষ জানে যে, আপনারা গনতান্ত্রিক...?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ নাস্তিক্ববাদ আর খ্রীষ্টবাদ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বা মতাদর্শ আমরা সহ্যই করতে পারি না। এই সব বিষয়ে আমরা গনতান্ত্রিক নই।
তবে নাস্তিকতা দিয়েই যে আমাদের উন্নতি হয়েছে, তা নয়। বরং নাস্তিকতা আমাদের মানবতাবোধকে কেড়ে নিয়েছে, জাতিগত বোধকে জাগিয়ে দিয়েছে। একটা পশু যেমন নিজেদের জাতি ছাড়া অন্যকোন জাতিকে সহ্য করতে পারেনা আমরাও তেমনি নিজেদের জাতি, নিজেদের সার্থ, মঙ্গল ছাড়া অন্যকে সহ্য করতে পারিনা। যা করি আমাদের নিজেদের সার্থে।

প্রশ্নঃ তাহলে আপনাদের উন্নতির কারণটা কি?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ হু! উন্নতির কারণ এ হতে পারে যে,
প্রথমত, "আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠিত আইন ব্যবস্থা।" যেখানে ক্ষমতাশীল একটি দলের অপরাধের সাতখুন মাফ হয়ে যায় না। বরং তাকে অপরাধের শাস্তি পেতেই হয়। দেখেননা, আপনাদের দেশের একজন দূস্কৃতিকারীও আমাদের দেশে গিয়ে সৎ হয়ে থাকতে বাধ্য হয়।।

দ্বিতীয়ত, "আমাদের দেশে সততা, মেধা আর দক্ষ পরিশ্রমের মূল্যায়ন হবেই, সে যে দলের বা মতেরই হোকনা কেন।" অথচ আপনাদের দেশে বিষয়টা দেখা হয় দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে! এটা অত্যন্ত খারাপ একটি ব্যবস্থা।।

তৃতীয়ত, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবস্থা, যা আমাদের রাষ্ট্রে করে থাকে। অথচ এ বিষয়টিও আপনাদের দেশে দলীয়ভাবে করার নজির আছে। এজন্যেই, দল উন্নতি করলেও আপনাদের জনগনের কোন উন্নতিই হয় না।।

আরেকটি ব্যাপার হল, "আমরা একতাবদ্ধ জাতি"। আমাদের মধ্যে যতই শত্রুতা বা দ্বিমত থাকুকনা কেন আমরা অন্যের সাহায্য চাইনা। একটা মেশিনের সমস্ত পার্টস একসাথে না চললে কি মেশিন চলে? চলেনা। ঠিক সেভাবেই মেশিনের পার্টসের মতই আমরা একতাবদ্ধ হয়ে সবাই যার যা কাজ তাই করি। আর রাষ্ট্রের নেতারা সততার সাথে আইন-কানুন, নিয়ম-শৃংখলা দিয়ে সব পার্টসকে একতাবদ্ধ রাখে।
আপনি যান্ত্রিক সভ্যতায় বাস করবেন আর যন্ত্রের নিয়ম-কানুন মানবেননা তাতো হতে পারে না।
পার্টস নষ্ট করে কারা? নেতারা। দূর্নীতিকারী, অসৎ চরিত্রের নেতারা। তারাই স্বজনপ্রীতি আর লোভ-লালসায় পরে নিজেদের অপরাধী লোকদেরকে আশ্রয় দেয়। অসৎ ও অযোগ্যলোকদেরকে তারা চাকরি দেয়, ব্যবসায় সুযোগ দেয়।
দেখেননা, আমাদের দেশের নেতারা কোন অপরাধ করলে তার কোন ছাড় নেই, একেবারে নাস্তানাবুদ...
তাইতো আমরা যে কাউকে আমাদের নেতা মানিনা। আর আমাদের দেশের জনগনও অসৎ লোকদের নেতা বানায়না।

প্রশ্নঃ কিন্তু এইযে, আপনাদের নেতারা অন্য দেশের উপর আক্রমন করে, তা কেন?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ আগেই তো বলেছি আপনাকে যে, আমরা আমাদের নিজেদের সার্থকে সব সময় বড় করে দেখি। সবারই নিজেদের দেশের সার্থকেই বড় করে দেখা উচিত। যেখানেই লাভ সেখানেই আমরা ঝাপিয়ে পরি।

প্রশ্নঃ আচ্ছা, আপনাদের দেশে হরতাল, মিটিং, মিশিল ইত্যাদি হয়না কেন?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ আমাদের দেশের জনগনের বা কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি হোক, তা আমরা কখনও চাইনা। আর তাই দেখেননা, কোন দল যদি হরতাল ডাকে আর তাতে যদি কোন ক্ষতি হয়, আমাদের সরকার, সেই আর্থিক ক্ষতিপূরণ সেই দলটির কাছ থেকে আদায় করে নেয়। যদিবা কোন বিশৃংখলা দেখা যায় তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়।

প্রশ্নঃ এতে গনতন্ত্র নশ্যাত হয়না?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ আরে না। গনতন্ত্র মানে, শতস্ফুর্ত জনমত তৈরী করা। জোর-জবরদস্তি, ভাংচুর কিংবা কোন বিশৃংখলা গনতন্ত্র ধ্বংস করে। আমরা তা কখনও হতে দেই না।

প্রশ্নঃ আচ্ছা! আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ের উপরতো আপনার একটা গবেষনা আছে, এ ব্যাপারে কিছু বলবেন কি?

মিস্টার পিটার জ্যাকসনঃ আসলে, একটি জাতির বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনা যেভাবে প্রতিষ্ঠিত, যদি রাষ্ট্রীয় নীতি তার বিপরীত দিকে হয় তাহলে মানুষ সে বিশ্বাস অনুযায়ী চলতে পারেনা আবার রাষ্ট্রীয় নীতিও সে সঠিক ভাবে পালন করতে পারে না। এতে করে, সে রাষ্ট্রের মানুষ হয়, পরিশ্রম বিমুখ। অনেক সময় তারা বিপথগামীও হতে পারে।

যেমন আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে তৈরী করা হয়েছে তা আমাদের দেশের জনগনের বিশ্বাস ও চিন্তা চেতনার উপাদানগুলোকে শক্তিশালী করে পক্ষান্তরে আপনাদের দেশে এর বিপরীত অবস্থা।।

যেমন, একটি মুসলিম ছেলে ছোট বেলা থেকে বিশ্বাস করে সুদ হারাম অথচ স্কুলে তাকে সুদ কষার অংক করানো হয়। এতে করে সে সুদকে মনে প্রাণে গ্রহন করতে পারে না, তার মেধার বিকাশ হয়না, এতে করে সে সারা জীবন ধরে সাধনা করলেও ভাল অর্থনীতিবিদ কখনোই হতে পারেনা।

কিন্তু তাকে যদি তার বিশ্বাস অনুযায়ী ছোট বেলা থেকেই যাকাতসহ বিভিন্ন ইসলামী অর্থনীতি সংক্রান্ত লেখাপড়া শেখানো হত বা তাকে গবেষনা করানো হত তাহলে সে একদিন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ হতে পারবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আই মিন, জীবনের সর্বক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন আপনাদের জাতিগত উন্নতি সাধন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

-----------------------------------------------------------------






(এই সাক্ষাৎকারের প্রতিটি বিষয় কাল্পনিক, যদিও বাস্তবতার সাথে এর অনেক মিল আছে.....)
সাক্ষাৎকারটি "আহ্বান" নামক একটি নাটক থেকে সংগ্রহকৃত.....
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১০ রাত ১১:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশী পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং বাস্তবতা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:৪২

বাংলাদেশী পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং বাস্তবতা......

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যে এতোদিন ট্যারিফ ছিলো ১৫%। গতকাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫% থেকে বাড়িয়ে ৩৭% ট্যারিফ বসানোর ঘটনায় হা-হুতাশ শুরু হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা শাসক হিসাবে তারেককে চায় না তারা নির্বাচন চায় না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৫:৪৩



শেখ হাসিনা বিএনপিকে ক্ষমতা বঞ্চিত রাখতেই অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেছেন বলে অনেকে মনে করেন। এখন সঠিক নির্বাচন হলে ক্ষমতা বিএনপির হাতে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সেজন্য বিএনপি নির্বাচনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রকৃতির তুলনা শুধুই প্রকৃতি

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ২:২০



মাঝে মাঝে সময় ফিরে আসে। দুই হাজার তের সালে তারিখটা ছিল চব্বিশে ডিসেম্বর। ক্রিসমাসের আগের দিন ক্রিসমাস ঈভ। খ্রিস্টানদের আনন্দ উৎসবের সময় আমাদের ছুটি ছিল। পারিবারিকভাবে সবাই মিলে মজা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ২:২২


বাংলাদেশে এখন পেইড ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মেয়াদকাল দীর্ঘায়িত করার। তিনি বিগত সাত মাসে অনেক সাফল্য দেখেছিয়েন তাই আগামী ৩-৪ বছর ক্ষমতায় প্রধান উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সংস্কার চায়না"- সত্যের অপলাপ!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:৩২

"বিএনপি সংস্কার চায়না"- সত্যের অপলাপ ....


জা-শি এবং জানাপা সমস্বরে ম্যাতকার করে- "বিএনপি সংস্কার চায়না!" আমাদের ম্যাড মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা চাউর হয়েছে। এটাই টক অফ দ্যা কান্ট্রি! এবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×