যাকে জিজ্ঞেস করি সেই বলে মুন্সীগঞ্জে নাকি ঘোরার তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে যা যা পেলাম, তাই প্রিন্ট করে বন্ধু নাজিরকে নিয়ে শুক্রবার সকালে রওনা দিলাম মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে।
গুলিস্থানের শেষমাথায় নয়ন পরিবহনের বাসে উঠলাম, ভাড়া ৩৫ টাকা। বাসটি ঢাকার পোস্তগোলা দিয়ে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা - পঞ্চবটি হয়ে যায়। তারপর .... ধলেশ্বরীর উপরের নতুন ব্রীজ দিয়ে মুক্তারপুর হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে পৌছলাম।
সেখান থেকে হেটে গেলাম ইদ্রাকপুর দূর্গে। ১৬৬০ সালের তৈরী দূর্গ। চারপাশের জায়গাটা বেশ দারুন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ভেতরে আর বাইরে দুটি পুকুর রয়েছে। চারপাশটা ঘুরে যখন ভেতরে ঢুকলাম, তখন দৃশ্য দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। বাংলাদেশের এরকম ঐতিহ্যমন্ডিত একটা জায়গা, অথচ দূর্গের ভেতরটা যথেষ্টই অবহেলিত।
যাইহোক, চারপাশটা ঘুরে দূর্গ থেকে বের হয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম (ইন্টারনেটে পাওয়া) জায়গাগুলোতে কিভাবে যেতে হবে। অনেককেই দেখলাম বেশ অবাক হল ঢাকা থেকে আসছি মুন্সীগঞ্জে ঘুরতে।
তারপর হেটে কোটকাছারী পার হয়ে গেলাম ফিশারী বা মৎস্যখামারে। কিন্তু দূর্ভাগ্য, শুক্রবার বলে সেটা বন্ধ। আশেপাশে বেশ কয়েকটা পুকুর।
রিক্সা নিলাম, রামপাল হয়ে বজ্রযোগীনি যাব। আকাবাকা চিকন পথ দিয়ে রিক্সা চলতে লাগল। রাস্তার দু'পাশ গাছ আর গাছ। অনেকটা জঙ্গলের মত। আরেকটা ব্যপার হল, সারা মুন্সীগঞ্জ জুড়েই কেবল পুকুর আর পুকুর, এত পুকুর বাংলাদেশের আর কোথাও আছে বলে মনে হয়না। কিছুদুর পরপরই কালভার্ট। রামপাল হয়ে সিপাহীপাড়া দিয়ে পৌছলাম বল্লালবাড়ী। ইন্টারনেটে পেয়েছিলাম রাজা বল্লালসেনের বাড়ী আছে। কিন্তু স্থানীয় লোকেদের কাছে শুনলাম, একসময় থাকলেও এখন তা আর নেই। সব লুপ্ত হয়ে গেছে। কেবল তাদের স্মৃতি বলতে একটা পুকুর রয়ে গেছে। বর্তমানে ওই জায়গার নামই হয়ে গেছে বল্লালবাড়ী।
আবার রিক্সায় যাত্রা শুরু করলাম। এবারে আসলাম রিকাবীবাজারের দরগাহবাড়ীতে, যেখানে রয়েছে ঐতিহাসিক বাবা আদমের মসজিদ ও মাজার।
রিক্সায় যাত্রা শুরু হল আবার ...
পরের পর্ব ..... ( Click This Link )