গত মাস থেকে কলিগদের একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন / দেশ এইসব নিয়ে , আর হাসাহাসি শুরু হয় না জানা নিয়ে। বুঝি বড় হয়েছি অনেকটা , আগ্রহ ও কমেছে অনেকখানি।
চার বছর পরে বসে বিশ্বকাঁপানো এই আসরটা। একটা খুবই মজার ব্যাপার খেয়াল করি সবসময়। একেকটি বিশ্বকাপ মানে জীবনের একেকটি পর্যায়।
একেকটি বিশ্বকাপের স্মৃতি মানে একেকটা সময়ের ফ্রেম।
১৯৯০ এর বিশ্বকাপ এ আমাদের জ্ঞানত প্রথম বিশ্বকাপ। পড়তাম প্রাইমারিতে, তখন ছিলাম আর্জেন্টাইন সমর্থক (এখন মূলত ব্রাজিল, অমূলত আর্জেন্টিনা !


১৯৯৪ এর বিশ্বকাপে আমরা ক্লাস এইটে। বেশ বড়ো হয়েছি, খেলাও বুঝি, তাই এইবার থেকেই সাপোর্ট ব্রাজিল। ফিরে এসেছিলাম কলোনিতে। খেলাধুলা ধুন্ধুমার এইসব এর জন্য কলোনির চাইতে ভাল কোন এলাকা নাই নিঃসন্দেহে! রাতে দিনে মিছিল (ছেলেদের না শুধু, বূড়োদের ও), পতাকা আর কলোণির বিশাল তিনটা মাঠে দিনরাত বিভিন্ন দলের নামে খেলা। আহ! ম্যারোডোনার ড্রাগ নিয়ে বিদায়ে সেইবার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কান্না

১৯৯৮ তে স্কুল পেরিয়ে কলেজে পড়ি। আইস ফ্যাক্টরি রোডের গলিতে ধুন্ধুমার এক খেলা দেখা , ১৪/১৫ জন মিলে। মনে আছে ফাইনাল দেখেছিলাম গ্রামের বাড়ীতে, ঝড় থাকায় বিটিভি আসছিলো না। তাই প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে অন্য এক বাড়ীতে যাওয়া, সেখানে ভারতীয় ডিডি চ্যানেলে ফাইনাল দেখা। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওইদিকে ডিডি দেখা যেত। রোনালদো এর হঠা'' অসুস্থ হয়ে যাওয়া আর তিন গোল খেয়ে ফ্রান্সের কাছে হারের পর, আমরা ব্রাজিল সমর্থকরা ঝোড়ো বৃষ্টিতে ও পুকুরঘাটে রাত চারটায় বসে থাকার কথা মনে পড়ে। তারুণ্য। আবেগ দুঃখ সুখ সবই তীব্র বোধ হতো।
২০০২ এ চলে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাসা ও চলে এসেছে আসাদগঞ্জে। অনেকটাই চুপেচাপে আব্বু-আম্মু-ভাইরা মিলে খেলা দেখা। ক্যাম্পাসে গেলে আড্ডা আড্ডা আর আড্ডা। এবারো ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন।
২০০৬ এ ক্যাম্পাস জীবন শেষ। লোটা-কম্বল নিয়ে কামলা খাটার জন্য নিজের প্রিয় শহরটি ছেড়ে ঢাকায় এসেছি। ডেরা বেঁধেছি পান্থপথে।অচেনা শহরে ক্লাসমেট আর ফ্ল্যাটমেটরাই ভরসা। উদ্বোধনী রাতের কথা ভুলবো না, রামপুরায় ডলারের বাসার ছারপোকাদের আতিথেয়তা ভোলা নিতান্তই অসম্ভব


২০১০ বিশ্বকাপ চলে এলো। এইবারই প্রথম ব্যাত্যয় ঘটলো। গত চারবছরে তেমন কোনো পরিবর্তন নাই, অন্তত 'পর্যায়' বলার মত কিছু নাই।পেট দু ইঞ্ছি বেড়েছে, কর্মস্থল পরিবর্তিত - এইগুলাকে কি পর্যায় মাপের পরিবর্তন বলা যায়। আহা, কত আশা ছিলো-'জণারণ্যে নিঃসঙ্গ পথিক' এর নিঃসঙ্গতা কিছুটা হলেও গুছবে। 'পার্টনার' কে নিয়ে এই বিশ্বকাপটা দেখবো। আমি ব্রাজিল , পার্টনার আর্জেন্টিনা সমর্থক হলে আরো ভালো,গুঁতোগুঁতি ক্ষেপাক্ষেপি ভাল জমতো। আর্জেন্টিনা তো প্রথম রাউন্ডেই কাত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আরো মজা হত। আর্জেন্টিনার পতাকা দিয়ে চোখ মুছার রুমাল বানিয়ে দেয়া যেতো।
[ কি লুমান্তিক স্বপ্নকল্পনা!!! কি আর করমু , মাথা আউলাইছে।]
আম্মাজান অফিশিয়াল ডিক্লেয়ারই দিলো কয়েকদিন আগে। আরে বিশ্বকাপ এর ও তো বাছাই-প্রস্তুতি পর্ব পার হয়ে আসতে দুই বছর সময় লাগে, আমার জন্য সময়হীন উপায়হীন এই ঘোষণা রীতিমতো নিষ্ঠুরতা!!
বিশ্বকাপ এলো, পর্যায় এলো না!! ;(
(ইহা একটি আবজাব মুখপুস্তিকা নোট। পাত্থর আমার লেখা না দিবার বর্ষপূর্তি করার কথা কইসিলো, বর্ষপূর্তি করুম না, তাই সামু-র কিছু জায়গা নষ্ট করলাম। দিরং হইলে আমি কিছু জানি না, পাত্থর রে মাইনাসান

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ১:১১