আজ ভোর ছ'টায় ঘুম থেকে উঠল রফিক। অন্যান্য দিন সাধারনত এত সকালে তার ঘুম ভাঙে না। ছোটখাট একটা এনজিওতে চাকরী করে, বেতন যা পায় তার সিংহভাগ চলে যায় গ্রামের বাড়িতে। তা দিয়ে কোনভাবে রফিকের অসুস্থ মা আর স্কুল পড়ুয়া ছোট বোনের চলতে হয়।
আজ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার কারন হল আজ মাসের ৭ তারিখ। আজ তার বেতন হওয়ার কথা, কিন্তু বেতনের টাকাটা আনতে হয় তাদের এনজিওর মূল অফিস মতিঝিল থেকে। এরচে বড় কারন দেশে নির্বাচন নিয়ে সরকার আর বিরোধীদলের মধ্যে ঝামেলা চলছে। আজ সারাদেশে অবরোধের ডাক দিয়েছে বিরোধীদল।
গত সপ্তাহে ছোট বোনটা চিঠি দিয়েছে, তার স্কুলের ফিস, মায়ের অসুধ আর সংসারের খরচের জন্য টাকা পাঠাতে হবে। সুতরাং পায়ে হেটে গিয়ে হলেও বেতনটা তুলতে হবে।
গোসল করে আর নাশতা করার জন্য অপেক্ষা করলনা রফিক। দক্ষিনখানের মেস থেকে বের হয়ে হেটে চলে আসল এয়ারপোর্ট। রাস্তাঘাট একদম ফাকা তবে কয়েকটা লোকাল বাস চলছে। মতিঝিলের দিকে যাচ্ছে এরকম একটা বাসে উঠে পরতে পারলেই হয়।
১০-১২ জল যাত্রী নিয়ে আসা মতিঝিলের বাসেই আরাম করে বসার সিট পেয়ে গেল রফিক। অবরোধের জন্য মনে মনে ধন্যবাদ দিল বিরোধীদলকে। সিটে গা এলিয়ে দিয়ে ভাবল মতিঝিল তো অনেক দূরের পথ, একটু ঘুমিয়ে নেয়া যাক।
পরিশিষ্ঠ: শাহবাগে মতিঝিলগামী একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন জ্বেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ ১৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পর দুজনকে মৃত ঘোষনা করেন ডাক্তাররা। একজনের মানিব্যগ থেকে প্রাপ্ত ঠিকানায় তার লাশ তার গ্রামে পাঠানো হয়। তার নাম রফিক মিয়া। রফিক মিয়ার সৌভাগ্য, লাশ পাশে রেখে একটি অসুস্থ মায়ের আর্তচিতকার আর একটি বোনের হাহাকার দেখতে হয়নি তার।
[সরকার আর বিরোধীদল যারাই থাক না কেন, ঘটনা অপরিবর্তিত থাকবে।]