প্রকৃতির নিজস্ব কিছু নিয়ম আছে । এ সকল নিয়মের বলেই প্রকৃতি নিজেই নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম ।
একটি সহজ উদাহরণ দেই - যদি খাবারের তুলনায় খাদ্য-গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়, তবে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ, ফলে খাদ্যাভাবে কিছু খাদ্যগ্রহণকারী মারা পড়ে । ঠিক সেই পরিমাণই বেচে থাকে, যে পরিমাণ খাদ্যগ্রহণকারীর জন্য খাবারটা যথেষ্ট । অর্থাৎ, প্রকৃতি নিজস্ব পন্থায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে ।
প্রকৃতির আরেকটি শিক্ষা হচ্ছে , যত বড় প্রাণী, তত নিরীহ সে । সাগরের নীল তিমি বা ডাঙ্গার হস্তি(বন্যহাতী বা হাঙ্গর গোত্রীয় তিমি হচ্ছে ব্যতিক্রম), যাই বলি না কেন, বেচারারা অতি নিরীহ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের অনেক উপকারেই আসে । খালি বেচারাদের খাবার খোরাক একটু বেশী । আর প্রকৃতিও সেইভাবেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে ।
কিন্তু সমস্যা হল - বুদ্ধির দিক থেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ বরাবরই প্রকৃতির নিয়মের উল্টাদিকে চলে । কিছু কিছু মানুষ একটু বড় হয়ে গেলেই ধরা কে সরা জ্ঞান করে, একটু খ্যাতি হয়ে গেলেই মনে করে 'আমিই সেরা' ।
সেই রকমই এক মানুষ মনে হয় - ভারতীয় ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক বীরেন্দর শেবাগ । Ranking - এর শীর্ষ উঠার আনন্দে ভারতীয় ক্রিকেট দল বোধহয় আত্মহারা । কিন্তু যতই শীর্ষে উঠা যায়, ততই বিনয়ী হতে হয়- এটাই প্রকৃতির শিক্ষা । তবেই না শীর্ষে উঠার খ্যাতির সাথে শ্রদ্ধা আর সম্মানও পাওয়া যায় ।
আর তা না হলে প্রকৃতি নিজের নিয়মেই প্রতিশোধ নিবে । একটা কথা মনে রাখা দরকার - খেলায় জিততে হলে প্রতিভা আর পরিশ্রমের সাথে ভাগ্যেরও অল্প-বিস্তর সাহায্য দরকার হয়, লাইফ ছাড়া সেঞ্চুরীর সংখ্যা হাতে গোণা কয়েকটি মাত্র । এই ভাগ্যটাই কিন্তু প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে ।
আশা করি ভারত দল মন্তব্যটি প্রত্যাহার করবে এবং বাংলাদেশ দলের কাছে ক্ষমা চাবে , আর বাংলাদেশ দল মাঠেই তাদের মন্তব্যের জবাব দিবে ।
শুভকামনা সকলের প্রতি ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৩