ক্ষমতা আর বিত্তের লোভ মানুষকে বরাবরই বিপথগামী করেছে । পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে যুদ্ধ-বিগ্রহ যত হয়েছে তার প্রায়ই সবই হয়েছে রাজ্য দখল আর সিংহাসন দখলের জন্য (দুই একটি ব্যতিক্রম অবশ্য আছে - যেমন সুন্দরী হেলেনকে নিয়ে গ্রীক আর ট্রয় এর মহাকাব্যিক যুদ্ধ) ।অবশ্য শোষকশ্রেণীর অত্যাচারের প্রতিবাদেও মাঝে মাঝে বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং সেগুলো অবশ্যই যৌক্তিক ।
ছোটকালে একবার শুনেছিলাম, ক্ষুধা চরমে উঠলে বাঘ তার সন্তানকে পর্যন্ত খেয়ে ফেলে, তাই বাঘিনী সবসময় সন্তানকে বাঘ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে । তখন বলেছিলাম ' ছি বাঘ কি নিকৃষ্ট প্রাণী ' ।আরেকটু বড় হয়ে যখন মানুষের নিকৃষ্টতার কিছু কাহিনী জানতে পারলাম তখন মনে মনে বললাম, জ্ঞান-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনার দিক থেকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ যদি ক্ষমতার লোভে শিশু থেকে শুরু করে অচল বৃদ্ধ, অবলা নারীকে বিনা সংকোচে হাজারে হাজারে মেরে ফেলতে পারে, পারমাণবিক বোমা দিয়ে পৃথিবীর বুকে চিরস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে বুদ্ধির দিক থেকে মানুষ হতে নিম্ন স্তরের প্রাণী বাঘের আর দোষ কোথায় ?
অন্যভাবে চিন্তা করলে মানুষ আর নিম্নবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণীদের মধ্যে আর পার্থক্য কোথায় ? বাঘ তো তাও ক্ষুধার যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে , হাতের সামনে আর কোন শিকার না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়ে(নিজের জীবন বাচানোর জন্য) নিজের সন্তানকে হত্যা করে । আর ক্ষমতাশালী কিংবা অর্থশালী মানুষগুলো আরও ক্ষমতা আর সম্পত্তির লোভে ঠান্ডা মাথায় হাজার হাজার মানুষ মারার মাষ্টার-প্ল্যান করে ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে মিত্র বাহিনী কর্তৃক নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমার দগদগে ক্ষত আজও মানুষের বর্বরতার এক অবর্ণনীয় নিদর্শন । আর সাম্প্রতিক ইরাক আর আফগানিস্তান যুদ্ধ তো মানবিকতা লংঘনের অতুলনীয় নিদর্শন ।
তবে আশার কথা , এ ধরণের লোভী আর স্বার্থান্বেষী মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য । বেশীরভাগ মানুষের মাঝেই কম হোক বেশী হোক মনুষ্যত্ববোধ এখনও টিকে আছে ।
অপরদিকে এ নগণ্য সংখ্যক স্বার্থান্বেষী মানুষই এখন সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ।তবে আমরা , সকল সাধারণ মানুষেরা ,যদি এক হয়ে লড়তে পারি , পৃথিবীর বুক হতে যুদ্ধ আর অশান্তি দূর করে , মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন এক নতুন পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব ।
সেই পৃথিবীর প্রত্যাশায় রইলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪২