somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামকরণ : মতিঝিল

০১ লা মে, ২০১২ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মতিঝিল এলাকা গড়ে উঠেছিলো মুঘল আমলে। এলাকাটি ছিল মির্জা মোহাম্মদের মহল। মহলের ভিতর ছিল একটি বড় পুকুর, যার নাম ছিল সুকাকু মহলের পুকুর-যার অস্তিত্ব এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিন পূর্ব দিকে এখনও বিদ্যমান।পুকুর মানে একটি মনোরম ঝিল-সেই ঝিল থেকেই পরবর্তীকালে এর নাম হয় মতিঝিল। মতিঝিলে ছিল ঢাকার একটি প্রাচীন মাজার-শাহ জালালের মাজার।এই শাহ জালাল মোঘলদের একজন পদস্থ্য কর্ম কর্তা এবং ধর্মানুরাগী ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। এই এলাকায় মোঘল আমলে বিভিন্ন উতসবে বারোয়ারী মেলা বসতো। ডি আইটি(বর্তমান রাজউক ভবন)-র পাশে যে প্রাচীন মসজিদটি আছে সেটিও শাহ জালালের (সিলেটের হযরত শাহ জালাল নয়) সময় নির্মিত।

পুরনো মতিঝিলের একটি বর্ণনা পাওয়া যায় হাকিম হাবিবুর রহমানের লেখায়-'মতিঝিল এবং দিলখুশা গার্ডেন’ উভয়টি এলাকা এককালে এক এলাকায় অবস্থিত ছিল কিন্তু দুই অংশের দুটি নাম করন করা হয়েছিল বাগানের বৈশিস্টের কারনে। মাঝামাঝি যে রাস্তাটি দুই অংশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলো, তা ইংরেজ আমলে তৈরি হয়েছে। বাগানের পূর্বদিকে যে খালটি প্রবাহিত হচ্ছে, তাও পূর্বে এ মাজারের এলাকার সাথে সংযুক্ত ছিল। খাল হতে বের হয়ে মাজারের নিকট এসেছিল আরেকটি খাল। যার নিদর্শন গভর্নমেন্ট হাউস অর্থাৎ বর্তমান বংগভবনের দক্ষিণ দিকের সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি বহন করে চলেছে। নালাটির ওপর পুল নির্মাণ করার কারণে নৌকা চলাচলের অসুবিধা হওয়াতে মেলাটিও একসময় বন্ধ হয়ে যায়। তখন লোকজন মীরপুর শাহ আলীর মাজারে যাওয়া শুরু করে। আগে সেখানে তেমন ভিড় হতো না।

নওয়াব আবদুল গনি একসময় এই এলাকার মালিক হন। তখন তিনি মতিঝিলে বাগানের পত্তন করেন, দিলখুশাতেও গড়ে তোলেন বিশাল এক বাগান। দিলখুশা মানে-দিল খুশী।এই নামটি সম্ভবত নওয়াব আবদুল গনিরই দেওয়া। সেখানে তাঁর বাগানবাড়িও ছিল। হাকিম হাবিবুর লিখেছেন, ১৯০৫ সালের পর সম্পূর্ণ এলাকাটি সরকার অধিগ্রহণ করে গভর্নমেন্ট হাউজ তৈরির জন্য-যা এখন বংগভবন।

তথ্য সূত্রঃ ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী: মুনতাসীর মামুন
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বডি সোহেলের মন ভালো নেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:২৫


আমাদের জাতীয় নেতাদের বংশধরেরা বড়ই অদ্ভুত জীবন যাপন করছেন। তাদের বাপ চাচাদের মধ্যে মত-বিরোধ থাকিলেও একে অপর কে জনসম্মুখে অপমান করেন নাই। এক্ষেত্রে নেতাদের প্রজন্ম পূর্বপুরুষ দের ট্রাডিশন ধরে রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ই-মেইল ঠিকানা

লিখেছেন মি. বিকেল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৩৩



যারা গল্প, কবিতা, সাহিত্য, ফিচার বা কলাম লিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, সাহিত্য পাতা ইত্যাদির ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হলো। পত্রিকায় ছাপা হলে আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার দায়ভার কি সেনাবাহিনী নেবে? তাদের সমালোচনাকে অনেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা মনে করছে কেন?

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ২:২৯

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখনও আমাদের জন্য গর্ব এবং আস্থার জায়গা। কারণ দুর্নীতির এই দেশে একমাত্র সেনাবাহিনীই সেই প্রতিষ্ঠান যার আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সুনাম এখনও আছে। কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১১:৪৯

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

কথা সাহিত্যিক শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বহু বছর আগে তার “শ্রীকান্ত” উপন্যাসে ইন্দ্রকে দিয়ে সর্বকালীন এবং সর্বজন গৃহীত একটি উক্তি করিয়েছিলেন, সেটি হলো,- ”মরার আবার জাত কি”!

মৃতদেহ সৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প: শেষ রাতের সুর (পর্ব ২)

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৫০

রাফি সাহেবের পড়ে যাওয়ার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। সকালের মিষ্টি রোদ গাজীপুরের এই ছোট্ট গ্রামে যখন পড়ছে, তখনই কাজের লোক রহিমা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল। সিঁড়ির নিচে রাফি সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×