বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তিপক্ষের উদ্যোগে ২০ তারিখ ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজন করে দুই পর্বের সাংস্কৃতিক অনূষ্ঠান। মূলত বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৬ ই ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক ভাবে চলছে এই উতসব। এক একদিন এক/একাধিক বিষয় ভিত্তিক অনূষ্ঠান হয়ে আসছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মঞ্চ ও মাঠে।আজকের অনূষ্ঠানের প্রথম পর্বে ‘বাউল গানের উতসব’ সেই ধারাবাহিক অনূষ্ঠানমালারই একটা অংশ। এই অনূষ্ঠান সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয়ে দুই ঘন্টার বিরতি দিয়ে শেষ হয়েছিল সন্ধ্যা ছয়টায়-যা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। উত্সবের স্লোগান ছিল ‘নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকার,মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার।’ এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাউল শিল্পীরা অংশ নেন।প্রথম পর্বের উন্মুক্ত অনূষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর,মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য আক্কু চৌধুরী,ডা. সারোয়ার আলী প্রমুখ। দুপুরে এ উত্সবে আসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
দ্বিতীয় পর্বে অনূষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা ছয়টায় বাংলার চার গীতিকবির গান নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এই অনূষ্ঠানটি শুধু মাত্র আমন্ত্রীত অতিথীদের জন্য নির্দিস্ট ছিল। আয়োজক পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পত্রটি ২/৩ দিন আগে পাঠালেও বাড়ির কেয়ার টেকারের অসতর্কতায় অনূষ্ঠান শুরুর দিন আমন্ত্রন পত্রটি হাতে পাই। আমি সব সময়ই বাউল গানের ভক্ত। ভাল লাগে পুরনোদিনের গানও। ছেলেরা বাউল গান পছন্দ করেনা।স্ত্রী কিছুটা পছন্দ করলেও অন্য একটি পারিবারিক অনূষ্ঠানে ব্যাস্ত থাকায় তাঁরও যাওয়া হয়নি। অগত্যা বন্ধু দেবনাথকে অনেকটা চ্যাংদোলা করেই অনূষ্ঠানে নিয়ে যাই।
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় দেশ বরেণ্য চার গীতিকবির রাধারমণ,উকিল মুন্সী,জালালউদ্দীন খান ও কাঙাল হরিনাথের গান। লোকসঙ্গীতের এ অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন কিছুটা প্রবীণ বয়সের দর্শক-শ্রোতা। গানের ফাঁকে ছিল পুঁথিপাঠের আয়োজন।অনূষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন- নির্মল চন্দ্র মজুমদার, মোস্তফা জামান আব্বাসী, ফেরদৌসী রহমান,ড নাশিদ কামাল, বারী সিদ্দিকী,কিরন চন্দ্র রায়,স্বপ্না রায়,চন্দনা মজুমদার,সাগর বাউল, তপন মজুমদার,নাদিরা বেগম,মোখলেসুর রহমান,সানজিদা আক্তার খান। ভারত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পী অধ্যাপক শুভাশীষ বসু,পূর্ণ দাস বাউল, নতুন প্রজন্মের ক্লোজ আপ খ্যাত সালমা ও বিউটিসহ আরো অনেক শিল্পী।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিল্পীরা শোনান-‘তোরা কে কে যাবি লো জল আনতে’, ‘বসায়ে সখের মেলা’, ‘অরূপের রূপের ফাঁদে’, ‘সোনা হয়ে মনের দোষে’, ‘প্রেমের বাজার বসিয়াছে’, ‘কে গো’, ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’, ‘আওনা কেনে রসবৃন্দাবনে’, ‘আমার গায়ে যতদূর দুঃখ’, ‘সোয়া চান পাখি আমার’, ‘আমি তোর পিরিতের মরা’, ‘ভাবছিলাম কি এই পথে’, ‘জন্মে যে জন পাপ করে নাই’, ‘যত দুঃখ দিলি বন্ধুরে’, ‘ও আমার দরদি আগে জানলে’, নিশিথে যাইও ফুলোবনে ইত্যাদি শিরোনামের প্রায় ২০/২৫টি গান। অনুষ্ঠানটি উত্সর্গ করা হয় মরমী শিল্পী আব্বাসউদ্দীনকে।