পাহাড়ের নৃ-গোষ্ঠীগুলো যে প্রত্যেকেই আলাদা জাতিগোষ্ঠী, তাদের প্রত্যেকেরই যে আলাদা ভাষা ও সংস্কৃতি আছে এবং এটা সংরক্ষণ করা যে তাঁদের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব; এ সহজ বিষয়টা বাঙ্গালী জাতি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে কে বোঝাবে?
এখনকার বেশিরভাগ বাংলাভাষী বাংলাদেশী মনে করেন বাংলাদেশের সব নাগরিক বাংলা ভাষায় কথা বলবে অথচ তারা নিজেদের ভাষায় কথা বলার অধিকার চাইতে গিয়ে ১৯৫২ সালে প্রাণ দিয়েছিল। কেন ভাই, প্রত্যেক নৃ-গোষ্ঠীরইতো আলাদা ভাষা আছে, মায়ের ভাষা। আপনার ভাষায় পড়াইতে-বলাইতে চান কেন?
পাহাড়ের সকল নৃ-গোষ্ঠীরই আলাদা সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস তথা নিজস্ব জীবনযাপন প্রণালী আছে, যা হজার বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তৈরী হয়েছে। সে জীবন আপনার না, মানে সমতলের না। তারা আপনাদের স্বাগতম না জানালে, আপনারা কেন উপযাচক হয়ে তাদের সংস্কৃতি ও জীবন প্রণালীতে অনুপ্রবেশ করছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী শোষণ-বঞ্চণা থেকে এদেশর জনগণকে মুক্ত করতে বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের সকল মনুষ দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। নৃ-গোষ্ঠীর লড়াই নিশ্চয়ই বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষায় নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি বিলীন করার জন্য ছিলনা। তাদের লাড়াই ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রে তারা যেন নির্বিবাদে তাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে, তাদের নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করতে পারে এবং নির্ভয়ে বলতে পারে। তাঁদের সে আশাতো এই রাষ্ট্র আজো পুরন করেইনি বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেটেলারদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পাহাড়ীদের জীবনকে প্রতিনিয়ত দূর্বিসহ করে তোলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এ সকল প্রশ্নের মীমাংসা জরুরী। রাষ্ট্রকেই তার সকল নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে সংখ্যায় অধিক বাঙ্গালীর নৈতিক দায়িত্ব এই রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠীর অধিকারের সংগ্রামকে বেগবান করা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:৩৬