কেনো যেনো শিরোনামটা গায়েব হয়ে গেলো। শিরোনাম হচ্ছে, "ব" দিয়ে বউ হয় এবং "ব" দিয়ে বই।
আমার জীবনে "ব" এর গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। "ব" দিয়ে বউ হয়। "ব" দিয়ে বাঁশ হয়। বউকে একটু অবহেলা করলেই খেতে হয় বাঁশ।
সারা বছর থাকতে হয় ব্যস্ত। বউরে সময়টা একটু কম সময় দেয়া হইলেই খবর আছে!!
আজ শনিবার। "ব" দিয়ে বাণিজ্য মেলা হচ্ছে। আমার বউ বিগত কয়েকদিন যাবত ঘেন ঘেন করতাছে বাণিজ্য মেলায় তারে নিয়া যাওনের জন্য। কিন্তু সময় হয় না। আজ ছুটির দিনে সে মোর পিছে লাগছিল। কিন্তু আমার মন তো যাইতে চায় বই মেলায়। ওখানেই যেনো প্রাণ। বউরে ভয়ে ভয়ে কইলাম, চলো....বইমেলায় বই কিনতে যাই। বউ গরম চোখে তাকায়। মনটা চিমসাইয়া গেলো।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ কইরা দেখি সে রেডি। মনটা খারাপ কইরা আমিও রেডি হইলাম। আমার বউ শাড়ি পরলো। আমিও বললাম, এই ধুলাবালির মধ্যে তুমি আবার শাড়ি পরলা কেন? বউ কোনো উত্তর দেয় না। তবে তারে লাগতাছিল অসাধারণ। সংসারের ঘটি বাটি ঘষলেও তার লাবণ্য এক ফোটাও কমে নাই। খুব জড়ায়া ধরতে ইচ্ছা করতাছিল। কিন্তু কেন জানি পারলাম না।
ঘর থেকা বের হলাম। সি.এন.জি নিমু এমন সময় সে বইলা উঠলো, আমরা কিন্তু বই মেলায় যাচ্ছি।
আমি অবাক হয়ে তাকাইলাম। আমার বউ আমার হাত ধরে বলল, যেখানে তোমার প্রশান্তি সেখানেই তো আমার থাকা উচিত। তবে একটা শর্ত আছে, আমাকে কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের বই কিনে দিতে হবে।
আনন্দে আমার চোখে জল এসে যাচ্ছিল। বুকটাতে বউকে নিয়ে আসতে মন চাচ্ছিল। সি.এন.জিতে উঠে বউকে কিছু বলা ছাড়াই জড়িয়ে ধরলাম। যেনো কিছুক্ষণের জন্য যৌবনে ফিরে গেলাম। কিশোর প্রেম-প্রেমীকার মতো রাস্তা-ঘাটে জড়িয়ে ধরলাম।
সত্যিই ভালোবাসা কোনো বাঁধ মানে না। আমার বউ। আমার বড় আদুরে বউ।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১২