somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভাল লাগা মুহুর্ত

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন আগের কথা। শাহবাগে যাচ্ছিলাম রিক্সায় করে বাটা মোর থেকে। রিক্সা ভাড়া ঠিক করেছিলাম ৫ টাকা। রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি ভাংতি নেই। পরলাম সমস্যায়! খুব বেশি একটা বিপদে পরেছিলাম, ঠিক তাও না। কারন দশ টাকার নোট ছিল। ৫ টাকার লস খেতে হবে, কিন্তু ডাবল দিতে তো আসলে কারুরই ভাল লাগার কথা না। তাই নিজের উপর একটু বিরক্তই লাগছিল, যে রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করে উঠিনি কেন যে, ভাংতি আছে কি না? যাইহোক, রিক্সাওয়ালা তো খুশিই, ডাবল পেতে কারও খারাপ লাগেনা। আশেপাশে এমন কোনও দোকানও দেখছিলাম না যেখান থেকে ভাংগাতে পারি। এমন সময় সেই শাহবাগের ভীরের মধ্যে থেকে একজন ভদ্রলোক বের হয়ে আসলেন। আমার সামনে এসে ২ টা ৫ টাকার কয়েন বের করে বললেন, "ভাই, আমিও কদিন আগে আপনার মত সিচুয়েশন এ পরেছিলাম। ওদিন কেউ আমাকে ভাংতি দেয়নাই। তাই আপনার সমস্যাটা আমি বুঝি।"

উনি কথাগুলো বলছিলেন আর আমি হা করে শুনছিলাম। উনার কাছে থেকে ভাংতি করে রিক্সাওয়ালাকে বিদায় করলাম। ধন্যবাদ বলার সময়টুকু পাইনি। ব্যস্ত সেই ভীরে উনি হারিয়ে গেলেন। আমি সম্মোহনীর মত কিছুক্ষন দারিয়ে থেকে আমার কাজে চলে গেলাম।

যান্ত্রিক ও স্বার্থপর ঢাকা শহরে আজকের এই দিনে অচেনা কারও কাছে নূন্যতম সহযোগিতা পাওয়াটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার ছিল। হয়তবা আরও অনেকের কাছেও। হ্যা, ছোট সহযোগিতা, কিন্তু এর মধ্যে তো আরেকজনের প্রতি চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ। আমি নিজেও তো অপরিচিত কাররোও জন্য সবসময় এভাবে চিন্তা করতে পারিনা। স্বার্থপরতা সবাইকেই গ্রাস করে, একটু হলেও। যাই হোক, ওই ভদ্রলোকের জন্য আসলে ধন্যবাদ উপযুক্ত মনে করছিনা, দোওয়া করছি মন থেকে, যাতে উনি এরকম চিন্তা জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে করতে পারেন। আমরা সবাই যদি এমনভাবে চলতে পারতাম, তাহলে হয়ত পৃথিবীটা অন্যরকম হত।

অন্যের জন্য চিন্তা করে এমন মানুষ অনেক আছে বলেই পৃথিবীটা আজও টিকে আছে, আর থাকবেও, কারন অমন মানুষেরা থাকবেন বলেই।
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীলপরী আর বাঁশিওয়ালা

লিখেছেন নিথর শ্রাবণ শিহাব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৪৮

আষাঢ়ের গল্পের আসর

সন্ধার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে দিনের মত আলো করে। কান ফাটিয়ে দেয়া আওয়াজ। কারেন্ট নেই প্রায় তিন ঘণ্টার ওপর। চার্জারের আলো থাকতে থাকতে রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে ক্ষমার অফারের সাথে শর্তগুলো প্রচার হয়না কেন?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৫১

ইসলামে পাহাড়সম পাপও ক্ষমা পাওয়ার যে সব শর্টকাট অফার আছে, সেগুলোতে ব্ল্যাক হোলের মতো কিছু গভীর, বিশাল এবং ভয়ঙ্কর নোকতা যুক্ত আছে। কোনো এক অজানা, অদ্ভুত কারণে হাজার বছরের ইবাদত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যদি পুড়ি, তবে তোমরাও আমাদের সঙ্গে পুড়বে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৫:০১


২২ বছর ধরে একচ্ছত্র ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল, বিরোধীদের দমন—এরদোয়ানের শাসনযন্ত্র এতদিন অপ্রতিরোধ্য মনে হতো। কিন্তু এবার রাজপথের তরুণরা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তুরস্ক এখন বিদ্রোহের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেংগিস খান: ব্লগের এক আত্মম্ভরী, অহংকারী জঞ্জাল

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:৪৪

ব্লগ জগতে অনেক ধরনের মানুষের দেখা মেলে—কেউ লেখে আনন্দের জন্য, কেউ লেখে ভাবনা শেয়ার করতে, আর কেউ লেখে শুধু নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। কিন্তু তারপর আছে চেংগিস খানের মতো একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া নষ্ট প্রজন্ম

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:৩৬

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ধর্ষিতা বাঙালি নারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অস্ট্রেলীয় ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গণধর্ষণের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন যে, তারা কীভাবে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×