বিজ্ঞান মানুষের অনেক অজানাকে জানার সূযোগ করে দিয়েছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। আজকের সভ্যতা পুরোটা দাড়িয়ে আছে বিজ্ঞানের উপর ভর করে। মানুষ চাঁদে গিয়েছে, মঙ্গলে যাবো যাবো করছে, একদিন হয়তো পৌছে যাবে মঙ্গল ছাড়িয়ে আরো দূরের কোন গ্রহে।
তারপরও বিজ্ঞান সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছে ,এটা ভাবারও কোন কারণ নেই।এখনো সমুদ্রতলের আশি ভাগ অজানা রয়ে গেছে, মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে এখনো মানুষ জানেনা। মহাবিশ্বের কোন অজানা প্রান্তে এমন কেউ কি আছে যারা আমাদেরই মত চিন্তা করছে, ভাবছে তাদের মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে!!!!!
একসময় ধারণা ছিল পরমাণু পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকা ,যেটাকে আর ভাঙা যায়না। তারপর দেখা গেল পরমাণুকেও ভাঙা যায়, পাওয়া যায় ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন।এখন দেখা যাচ্ছে ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রনকেও ভাঙা যায়, পাওয়া যায় ফোটন, পজিট্রন ইত্যাদি। তাই বিজ্ঞান আজ যেটাকে অমোঘ সত্য বলে মেনে নিয়েছে , দুইদিন পর দেখা যাবে সেটা সত্যনা, এসেছে নতুন কোন ধারণা।
খুব সহজ এবং পরিচিত একটা জ্যামিতিক সমস্যা দিই। একটা একক দৈর্ঘ্য বিশিস্ট বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ কত? কেউকি নিখুঁত ভাবে বলতে পারবে এটার মান কত? চোখ দিয়ে দেখা যাচ্ছে কিন্তু মাপা যাচ্ছেনা, কি অদ্ভূদ না!!
সসীমের মধ্যে অসীমের একটা চমৎকার উদাহরণ। বিজ্ঞান আরো অনেক কিছুরই উত্তর দিতে পারেনা। মানুষ এখনো জানেনা ভাইরাস উদ্ভিদ না প্রাণী, ইলেক্ট্রন ওয়েভ না পার্টিকল। বিজ্ঞান জানে জীব কোষ তৈরী হয় হাইড্রোকার্বন দিয়ে আর হাইড্রোকার্বন তৈরী হয় কার্বন, হাইড্রোজেন আর কিছু অক্সিজেন ,নাইট্রোজেন দিয়ে। কিন্তু বিজ্ঞান এখনো জীবিত জীব কোষ তৈরী করতে পারেনা। মানুষের জ্ঞানের পরিধি এখনো এতদূর পৌছায়নি।
একটা মানুষের তৈরী রোবট কিন্তু কখনোই বুঝবেনা দুঃখ কি, সূখ কাকে বলে, ভালোবাসা কি ,কস্ট কাকে বলে। কারণ তার জ্ঞানের পরিধি এতদূর বিস্তৃত না, তার পক্ষে কখনোই এগুলো কল্পনা করা সম্ভব নয়, তাকে এত ক্ষমতা দেয়া হয়নি। আর মানুষ পারলেও কখনো রোবটকে এত ক্ষমতা দিবেনা কারণ তাতে করে তার নিজেরই ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।
ধরুন, তেলাপোকারা চিন্তা করলো মানুষ চাঁদে গিয়েছে আমরাও মহাকাশযান বানিয়ে চাঁদে যাব!! এটা কতবড় একটা হাস্যকর চিন্তা যে তেলাপোকারা মহাকাশযান বানিয়ে চাঁদে যাবে। এটার পিছনে কারণটা কি ,কারণটা হলো ওদের এতটা জ্ঞান দেয়া হয়নি যে তারা চাঁদে যাওয়ার কথা চিন্তা করবে। তাদের জ্ঞান খাবার সংগ্রহ করা আর শত্রুর হাত থেকে কিভাবে বাঁচতে হবে এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তেমনি মানুষের জ্ঞানেরও একটা পরিধি আছে, পরিধির বাইরে কল্পনা করার ক্ষমতা মানুষের নেই। আপনি আপনার পরিচিত দশজন মানুষকে ভূতের ছবি আঁকতে দিন, দেখবেন সবারই ভূতের আকৃতি মানুষের মত অথবা চেনা জানা কোন প্রাণীর মতো। এখানেই মানুষের কল্পনার সীমাবদ্ধতা , নিজের চেনা জানার বাইরে কল্পনা করা মানুষের জন্য কঠিন। মানুষের চেনা জানা দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতা এবং সময় এই ডাইমেনসন গুলোর বাইরে হয়তো আছে আরো ডাইমেনসন যা কল্পনা করা মানুষের ক্ষমতার বাইরে। সৃস্টি থাকলে সৃস্টিকর্তা থাকতে হবে, কিন্তু সৃস্টিকর্তার সৃস্টিকর্তা কে এই প্রশ্নের উত্তর বের করাও মানুষের জ্ঞানের পরিধির বাইরে, এতটা ক্ষমতা মানুষকে দেয়া হয়নি। মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষের জ্ঞান, মানুষের তুলনায় তেলাপোকার জ্ঞানের মতোই।
তাই সৃস্টিকর্তা আছেন কোথাও , হয়তো তিনি মুসলমানদের আল্লাহ অথবা হিন্দুদের ভগবান অথবা খৃস্টানদের গড অথবা অন্য কেউ, অজানা কেউ!!!!!!!!!!!!!!!