ব্লগার রাজীব হায়দার ওরফে থাবা বাবা,আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন।তা নিয়ে ব্লগ,ফেইসবুকসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।আমি মনে করি,একজন লোক যত বড় নাস্তিকই হোক না কেনো,তার এমন পরিণতি কাম্য না।তবে অবাক হলাম,আরেকটা বিষয় দেখে।ব্লগার থাবা বাবার জানাজা দেয়ার চিন্তা ভাবনা করতেছেন, তার শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয় স্বজনরা।সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত,ভেবে দেখার বিষয় বৈকি।
রাজীব হায়দারের সারা জীবনের লড়াই ছিল ধর্মের বিরুদ্ধে,যদিও তার ভাষায় ধর্মীয় ভন্ডামীর বিরুদ্ধে।কিন্তু কয়েকটা ঘন্টার ব্যবধানে,কেনো তাকেই এইসব ভন্ডামী আর লোক দেখনো নিয়ম কানুন মেনে নিতে হবে??উনি মারা গেছেন বলে??এটা যেমন তার জন্য অবমাননাকর,তেমনি যারা এই জানাজা পড়বেন,তারাও একটা হারাম কাজ করবেন।কারণ মুরতাদের জানাজা পড়া শরীয়তে নিষিদ্ধ।কিন্তু জানাজা নাকি দিতেই হবে,এমনই তার স্বজনদের ইচ্ছা।তারা নিজেদের মনের শান্তির জন্য এই কাজ করতেই পারেন।কিন্তু যদি ভেবে থাকেন,জানাজা দিলেই খেল খতম,তাহলে তাদের জন্য লালনের এই গানটা বরাদ্দ,
"তুমি দিন থাকিতে,দ্বীনের সাধন,কেনো করলে না???
সময় গেলে সাধন হবেনা,সময় গেলে সাধন হবেনা।"
অনেকে বলতেছেন,থাবা বাবা নাকি শহীদ হইছেন।যারা এইসব কথা বলেন,তাদের জ্ঞানের পরিধি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।উনাদের হয়তো জানা নাই,শহীদ হচ্ছে ইসলাম ধর্মে,মৃতদের জন্য দেয়া সর্বোচ্চ সম্মান।আর থাবা বাবার যেখানে ধর্মেরই ঠিক ছিলনা,সেখানে কিসের শহীদ??আর কিসের কি??যদি কোনো একভাবে মরলেই শহীদ হয়ে যায়,তাহলে যারা বেঁচে আছে তারা সবাই কি গাজী নাকি??এদের থিউরী অনুসারে তো তাই মনে হচ্ছে।
থাবা বাবাকে নিয়ে আর কি বলব্ব??থাবা উনার জন্য এটা কথাই বলার আছে।
"হ্যাভ অ্যা নাইস জার্ণি টু হেল,বাট বেস্ট অফ লাক।"