রাজশাহীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় হিয়াতুন্নেছা ও রাজবাড়ীতে জোবায়ের হোসেন জাহিদ জিপিএ-৫ না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে।
আজ সন্ধ্যায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছীর জোতকার্তিক গ্রামে এ ঘটনা। হিয়াতুন্নেছা উপজেলার জোতকার্তিক বিএন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।আজ সে রেজাল্ট আনতে স্কুলে যায়।এ সময় প্রকাশিত ফলাফলের তালিকায় হিয়তুন্নেছার নাম না থাকায় সে বাড়িতে চলে যায়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিবারের লোকজনের অগোচরে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেয়ে জুবায়ের হোসেন জাহিদ আত্মহত্যা করেছে।
আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় সে নিজ বাড়ির শোবার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।জাহিদ কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের চাঁদমৃগী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে ও মৃগী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।
"মৃগী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, জুবায়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৬৪ পায়। কিন্তু তার সামনে ও পেছনের আসনের দুইজনই জিপিএ ৫ পেয়েছে। নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না হওয়ায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করে।"
উপরের ঘটনা দুটি থেকে শিক্ষা নেয়ার মত অনেক কিছুই আছে।যে বয়সে শিশুকিশোরদের খেলে বেড়ানোর কথা ছিল,সে বয়সেই আমরা ওদের উপর চাপিয়ে দিয়েছি বই এর বস্তা।পাহাড়সম প্রতিযোগিতার বোঝা।আর প্রতিযোগিতায় আশানূরুপ ফলাফল করতে না পারলে সামাজিক অপমানের চাবুক।কিন্তু জীবন তো আর বই এর পাতায় আবদ্ধ কিছু বাঁধাধরা নীতিবাক্য না।জীবন অনেক বড় কিছু।এখানে উথান আছে,পতন আছে।জয় আছে পরাজয় আছে।মাঝে মাঝে জয় আসে,মাঝে মাঝে পরাজয়।কিন্তু পরাজয় মানে তো এই না যে,সব শেষ হয়ে গেল।পরাজয় মানে নতুন জয়ের অণুপ্রেরণা।এইসব কথা বুঝার আগেই ওরা হারিয়ে গেল।হারিয়ে গেল অনেক দূরে,সীমানার বাইরে।ওদের আর এসব কথা বলে লাভ নেই।
কিন্তু আমাদের সমাজের অতি সচেতন অভিভাবকদের অনেক কিছু শেখার আছে,এই ঘটনাগুলো থেকে।শিশুকিশোরদের অবশ্যই লেখাপড়ার কথা বলতে হবে।কিন্তু তার মানে এই না যে,তাদের উপর তা চাপিয়ে দিতে হবে।নিজের পড়ালেখা সে নিজেই করবে।আর যদি না করে তাহলে বুঝতে হবে,সে চাপটা নিতে পারছে না।তাকে সময় দিতে হবে।
আজকে জ়েএসসি পরীক্ষায় শতকরা ৮৪ ভাগ পাস করেছে।পিএসসিতে শতকরা ৯৭ ভাগ।আমারা আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে কথা বলি।পাসের হার দেখলে আসলেই তা ঈর্ষণীয়।কিন্তু এই দুটি কচি প্রাণের ঝরে যাওয়া আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি।তাই ছোটদের উপর সবকিছু চাপিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।ভেবে দেখতে হবে কিসে তার আগ্রহ।যে জিনিসে সে আগ্রহ পায়,তাই তাকে করতে দিতে হবে।তাহলে সে খুশিমনেই সেই কাজ করবে,তাতে সাফল্যও পাবে।চাপিয়ে দিয়ে কিছু করাতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনাই বেশি থাকে।আমদের অভিভাবক মহল যত তাড়াতাড়ি এই সত্য উপলব্ধি করতে পারবে,ততই মঙ্গল।