রাজধানীর সূত্রাপুরের স্বামীবাগে বিষাক্ত মদ পানে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সেতুর স্ত্রী ও শ্যালিকার মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, রেশমা আক্তার ও তার মামাতো বোন তুসি । একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রেশমার স্বামী সূত্রাপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু হানিফ সেতু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মদ পানে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ বলেছে, এমন খবর তাদের জানা নেই।
গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে স্বামীবাগে মিতালী বিদ্যাপীঠে এক অনুষ্ঠান শেষে এক কে বসে মদ পানের পর দিন ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রেশমা এবং রাত ৩টায় তুসি মারা যান। তাদের দণি মৈশুণ্ডি কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে সূত্রাপুর থানার ডিউটি অফিসার আমিনুল ইসলাম গত রাতে বলেছেন, এমন কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই। সেতু ওই এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। কয়েক দিন ধরেই তাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না।
সেতু মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধরেই গুজব চলছিল। এর মধ্যে পুলিশেরও একজন স্ত্রী রয়েছে বলে গুজব ছড়ায়।
সূত্রাপুর থানা ছাত্রলীগ ১৫ ডিসেম্বর রাতে মিতালী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে বিজয় দিবস উপলে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান খান দীপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়নুল হক মঞ্জু ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান (ক্রিকেট) রাইসুল ইসলাম শাহীন। এতে সভাপতিত্ব করেন আবু হানিফ সেতু। আলোচনা শেষে স্কুলের একটি কে মদ পানের আসর জমে। এ আসরে কয়েকজন বিভিন্ন রকমের মদ এক সাথে মিশিয়ে ককটেল বানিয়ে পান করেন। সকালে রেশমা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় রেশমা মারা যান। বিকেলে তুসি অসুস্থ হলে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৩টায় তিনিও মারা যান। রেশমার স্বামী আবু হানিফ সেতুও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ময়নুল হক মঞ্জু বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বক্তৃতা করে আমি এবং এমপি সাহেব সন্ধ্যার আগেই চলে এসেছি। পরে শুনেছি একটি অঘটন ঘটেছে। একজন মারা যাওয়ার খবর শুনেছি।’
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান (ক্রিকেট) রাইসুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। ছাত্রলীগের ছেলেরা থাকবে এ জন্য গেলাম। গঠনমূলক বক্তৃতা করেছি। এরপর আমি চলে এসেছি। এমপি সাহেবও বক্তৃতা করে চলে গেছেন। ঘটনা শুনে শকড হয়েছি। এই সেতুকে আমি নেতা বানিয়েছি। এখন দল ক্ষমতায় তারা তো আর আমার কথা শুনে না। ছেলেটা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে নেতা নির্বাচনে সব দলই ভুল করে। আমরাও হয়তো করেছি।’
রেশমার বাবা ফারুক বলেন, ‘রেশমা মারা যাওয়ার খবর টেলিফোনে পাই। তবে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। রেশমার শরীফুল নামে এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তার সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর সেতুর সাথে বিয়ে হয়। সেতুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। রেশমা ১৩/ই কেএম দাস লেনে নিজের ‘মা মনি বিউটি পার্লার’পরিচালনা করত। তুসির নয় মাস আগে বিয়ে হয়েছিল।’
তিনি আরো জানান, তার মেয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চার দিন পর স্থানীয় লোকদের নিয়ে বৈঠক করে বিচার সালিস করবেন।
তুসির বাবা দিনমজুর মাসুম মেয়ের মৃত্যুর সংবাদে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি দয়াগঞ্জ বাজারে দিনমজুরি করেন।
ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এ রকম ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ মারা গেলে তাদের লোকজন আমাকে জানালে আমি জানতে পারতাম।’
পুলিশের ওয়ারী জোনের উপকমিশনার গাজী মোজাম্মেল হক জানান, ‘এই বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। এখন জানতে পারলাম। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’