জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগের একটি 'সংশোধিত' অংশকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সেনা সদর দপ্তর এই দাবিকে 'হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্প' হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার সহকর্মীদের আগ্রহে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে কোনো প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। এই ঘটনার ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যেও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দলের অন্য নেতারা হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের সাথে একমত নন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে তার সাক্ষাতের বিস্তারিত গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি অসতর্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ। সেনাবাহিনী একটি সংবেদনশীল ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান, এবং এর কর্মকাণ্ড ও আলোচনা সাধারণত গোপনীয়তার মধ্যে রাখা প্রয়োজন। এমন তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাদের কাজের মধ্যে গোপনীয়তা ও কূটনৈতিক সতর্কতা অপরিহার্য। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই মন্তব্যের মাধ্যমে শুধুমাত্র সেনাবাহিনীকেই জনগণের সমালোচনার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়নি, বরং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার উপরও প্রশ্ন উঠেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের সবারই সচেতন থাকা উচিত, বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে। দেশের স্বার্থে এমন তথ্য গোপন রাখা উচিত, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই পদক্ষেপ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।
এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দেশের নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সর্বদা গোপন রাখতে হবে। সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করার আগে তার গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। দেশের স্বার্থে, আমাদের সকলকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে। সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি এমন প্রস্তাব দিয়েও থাকেন, তা এইভাবে প্রকাশ না করে ভিন্ন উপায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলে দেশের বর্তমান টালমাটাল অবস্থার প্রেক্ষিতে সেটাই প্রজ্ঞাপূর্ণ হতো বলে প্রতীয়মান হয়।