হুমায়ুন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
১।
প্রার্থনাথরথর এই যে কুমুদকলির মতো ফুটে থাকা হাত
মানুষের মুখের ভাষা তুমি পড়ে নিও, কম্পনতিরতির ঠোঁঠ
সাহিত্যকে যিনি করেছেন আরাফাতের ময়দান, তাঁর জন্য
সওয়াল-জওয়াবের রীতি তুমি ব্যতিক্রম করে দিও;
তাঁরই সংলাপে ফিরিশতার মতো সরল অভিজ্ঞান, আজ
মোনাজাতমিনতিময় এই সব ষোল কোটি হাত, অন্তর্যামী!
জেনে নিও, সংঘবদ্ধ সংলাপ মানুষেরই নিজস্ব আরজু আরতি।।
মানুষের মুখের ভাষার এক বিরাট সংগ্রহশালা, ইচ্ছার
অভিধান, হিমু! আপনি কোথায়? আগেই জানতেন বুঝি
সরল সিধা যৌক্তিক রেখাগুলো এ্যাশারের জ্যামতি
ল্যাঁ পিঁয়অ্যাতের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি, এতো সজল
পাথর থেকে এতোই অম্লান, খুবসুরত মাছুম মাখলুকাত!
হিমু আপনি কোথায়! নুহাশ পল্লীর পাতায় পাতায় আকালের
জোছনা রোববারে একবার মহাজাগতিক ব্যতিক্রম ঘটাবেই
২।
রোববার দিন বাঁশকাটা নিষেধ; রোববার জোস্নার ছুটি
একটুখানি পরে গেলে দেখবে তুমি বকুল ফুলের মালা
হয়ে প্রাণ প্রকৃতি জাগছে জীবন; দেখবে তুমি লজিক বিদ্যা
পদ্ম ফুলে কেমন করে মাধবী হয়; হিমুর কথা মনে পড়ে?
ও যে পাগল মাধুকরী, বিষন্ন এই শহর জুড়ে জ্যোৎস্না
একাই ফেরী করে! মধুক্ষরা রাত্রিসকল কী যে এমন
আজকে সবাই লুকিয়ে যায়; নিজের ভেতর আপন গোপন
রোববার দিন বাঁশের বাঁশী, সপ্তছিদ্রে বয়াতী সুর
কার বরাতে থাকে বলো অমাবস্যায় চাঁদনী জারণ
প্রাণ রসায়ন এণ্টি লজিক বিপ্রতীপের সমান্তরাল
প্রাণ প্রকৃতি, ওহে জীবন, আর কতোকাল থাকবে আড়াল!
৩।
রূপার ঘণ্টা ব্জ্রনাদে, বেজেই চলে বেজেই চলে
ইস্কুল আর দেয় না ছুটি, ওদিকে যে দহন কালে
পুর্ণ আরজ গুজার করি, গুঞ্জরণে গোপন ভাষা
শিখতে শিখতে নাম চিনেছি, পুর্ণ সালাম অরূপ তিথি
দরখাস্ত পেশ করেছি, বাজুক যতোই রূপার ঘন্টা
ইতস্তত ছড়িয়ে আছে আমার কথা হস্তাক্ষরে
ফুল ফুটেছে, দেখতে যাবো, দাও না ছুটি, ছুটার ছূটি
দস্তখতে নাম লিখিনি, নাম যে আমার অরুপ জ্যোতি
যাবোই তো আজ, আমায় রেখে, আমি শূন্য এই ধরাধাম
মাছুম পলির বুকে শুয়ে কিছুটা দিন চাই যে আরাম।।