টিপাইমুখ একটি জলবোমা। রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ভূমিকম্প বরাক সুরমা অববাহিকার ২০০ কিলোমিটার এলাকা প্রত্নতত্ত্ব হয়ে যেতে পারে। কালনিরবধি প্রবাহমান ধারা শৃঙ্খলিত করে বাঁধ। ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমুদ্র মন্থন নীতি গ্রহণ করেছে সে-ই নেহেরুর আমল থেকে। ভাটি শেষ হলে উজানও বাঁচে না। টিপাইমুখ একটি গ্রামের নাম। এইখানে এসে বরাক বাঁক নিয়েছে। এইখান থেকে ১ হাজার ৬০০ ফুট দূরে বরাক নদীতে ৫০০ ফুট উঁচু ও ১ হাজার ৬০০ ফুট লম্বা বাঁধ অজগরের মতো হিস হিস করবে। সাপের মুখ থেকে পানি পড়ছে। এই বাঁধের এক্সট্রিম হার্ডকোর ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নাই। আমার আগ্রহের জায়গা হলো এই বাঁধ নির্মাণের রাজনৈতিক দিক। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ভারতের পাত্তা না দেবার নীতির প্রতি নতজানু থাকার যে গোলামির ভাব আমাদের “ সার্বভৌমত্বের” চিরায়ত ধারণাকে শুকিয়ে মারছে –সে-ই দিকে তাকাবার সময় এসে গেছে। ঘাড়ের উপর জল বোমা নিয়ে তো আর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্বপন নিদ্রাকুসুমেও ফুটবে না। ভারতীয় শাসকশ্রেণি তথ্য গোপন করেছে। তিপান্ন অভিন্ন নদীর উপর প্রতিটি বাঁধই আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। কোন কোন হুকুমত, বিধি বিধান হুমকি হয়ে ঘাড়ের উপর থাকে। টিপাইমুখের দিকে যেতে হবে।
খ। সীমান্ত থেকে একশ’ কিলোমিটার উজানে এই বাঁধ সমস্ত প্রাকৃতিক বিন্যাস, প্রাণসম্পদ, আদিবাসীদের জীবনযাপন প্রণালী, স্রোতধারা ( যেমন, টুইভাই নদীর ধারা, হাজার পাহাড়ি ঝরণা, ছড়া ইত্যাদি) সব বিনাশ করবে। টুইভাই ও বরাক টিপাইমুখ গ্রামে এসে পরষ্পরের দীনদশা ঘূচিয়ে মিলনমুখরিত সঙ্গম আজুদায়। স্রোতের দোস্তালি গলাগলি। নদীর মরফোলজির ধারা উজানেই দেখা দেয়। এই মরফোলজির গঠনগাঠন ভূ-প্রকৃতির যে গর্ভে নদী হয়ে উঠার কারণ ধারণ করে সেই মূলের আবেদন উশুল হয় ধারা যতো ভাটি ভাঙে। আগায়। ভাটি ও উজানের সম্পর্ক সমুদ্রে বিলীন হয় না। ধারার ধারাবাহিক সম্পর্কই নদী। ফলে নদীর জন্মস্থান নাই। তা-ই অববাহিকা ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উৎপত্তি-উজানের নিয়ন্ত্রণ সে-ই দেশের বা ভূ-গোলখন্ডের সার্বভৌম নীতি প্রনয়ণের পরিধির অন্তর্ভূক্ত নয়। হতে পারে। কারণ ভাটিও উজানের সম্পর্কের বাইরে নদীর ধারণাই নাই।
গ। টিপাইমুখ টান টান উত্তেজনায় খাসিয়া খাসা তীরের মতো। বাংলাদেশে যারা দেশপ্রেমের বুলিবাগীশ ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক- এই দু’ভাগের মধে দূরত্ব বাড়বে। লক্ষ লক্ষ তরুণ সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছে।যা নিরবধি ও কালাবদি তার উপর বাঁধবন্ধন সে নিজেই তো সইবে না।
ভাটির ভূগোল নদী দিয়ে গেছে কবলামূলে
পঞ্চ মৌলিক দশায় জঙ্গের শর্ত দালিলিক অক্ষরের জংগলে নির্ভুল জ্বলজ্বলে
নিজের নির্বাণ দশায় নির্ঝর খোঁজে
নিজের আগুন অন্যে ন ছড়ায়
আপন আগুনকুন্তলে ন যদি বাঁধে বিকালের সমস্ত খোঁপা
বরাক নদীর বাঁকে
আমরা প্রস্তাব করছি যে বরাক নদীর বাঁকে যাবো;
দীনহীন সুরমার পাড়ে বরাকি বিকালে
রক্তের বরফির মধ্যে দানা দানা ইতিহাস বইবে
টিপাইমুখ টান টান উত্তেজনায় খাসিয়া খাসা তীরের মতো
আমরা প্রস্তাব করছি
যে গর্ভে নদী হয়ে উঠার কারণ ধারণ করে সেই মূলের আবেদন উশুল হয় ধারা যতো ভাটি ভাঙে। আগায়। ভাটি ও উজানের সম্পর্ক সমুদ্রে বিলীন হয় না। ধারার ধারাবাহিক সম্পর্কই নদী। ফলে নদীর জন্মস্থান নাই।
আমরা একশ আশি মাইল বেগে মনিপুরের দিকে যাবো
লাই নাচে লাস্যময়ী হয়ে উঠছে নদী
আমার চোখে সুরমা, তোমার চোখে পাহাড়ি শিশির কণা
আমরা সেই দূর গহীন বনের অন্তস্থলে হাছন রাজার সাথে মণিপুরী নাচি
আমরা প্রস্তাব করছি
কালনিরবধি প্রবাহমান ধারা শৃঙ্খলিত করে বাঁধ। সাপের মুখ থেকে পানি পড়ছে। একটা অজগর পাহাড়ে পাহাড়ে হিস হিস করছে। তিপান্ন অভিন্ন নদীর উপর প্রতিটি বাঁধই আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। কোন কোন হুকুমত, বিধি বিধান হুমকি হয়ে ঘাড়ের উপর থাকে। টিপাইমুখের দিকে যেতে হবে।
তোমাকে দেখে মনে হলো বৈষ্ণবী
কিছুটা বিষ্ণুপ্রিয়ার মতো, কিছুটা আমারই অন্য অধ্যায়
আমরা সে-ই ধরে ধরে হাঁটি
মানুষ দেখি, খাসিয়া খাসা তীর মনিপুরী নাচের মতো এই মাত্র ধনুক ছেড়েছে
আমরা যাবই, যাবে যদি, যাও না ক্যানে, আগুন নিভে গেলে আগুনই তো নিভে।।