পরম আয়তক্ষেত্র
দিগন্ত ছাই হয়ে যায়, ভস্ত্রার হাঁপানিতে ভস্ম হয়ে যায়;
তবুও মেঘের পটল গ্রামে- যমুনায়- দুধকুমার
গলা জড়িয়ে থাকে রূপকুমার। যেখানে নদীরা সব নামে
বালক বালিকা নদী বড় হয়ে ভাটিতে নাগর।
তাদেরই হাহাকারের গড়ে ওঠে পরিবেশবান্ধব শহর
তাদেরই লাশের কাছে জল বসে কাঁদে; অনাদি অন্তর
কিছুটা মায়াময়¬_ শিশির সন্তর্পণে দুই ফোঁটা জল
চোখ থেকে পড়ে যায় অবহেলায়।
স্মৃতিতে পড়েছে ভাটা,স্রোতের মজদুর নদী, সর্দিসংকটে
ভেজা নদী মোহনার বিছানায় পড়ে আছে সাতদিন
স্রোতজীবি মানুষের কথা বলে যাও; মানুষ যাচ্ছে দেখো
চর থেকে চরাচরে বুকের হাহাকারের মানচিত্র ধরে
মানুষেরা চলে যায় অন্য বেশে, মানুষ হেঁটে হেঁটে মানুষই হয়;
লাঙ্গলের ফলায় – বুকের উপর থাকা চরচরাচরে-
পাশে দেখে শুয়ে আছে তারই ভাই রুপকুমার।
জীবনের কতোকাল কেটে গেছে
পথের দিশায়, পান্থরেখা সব বিলুপ্ত কাঁটাঝোপ জংলায় ।।
আকাশে অক্ষরের মতো সুলিখিত আমারই বিধান
বার বার ফিরে আসে; ভূমিহীন নিদানের কথা
আমরা বলি নাই; আয়ত চোখের সীমায় নিরাকার
ক্ষেত্র সব জায়নামাজে_ পরম আয়ত ক্ষেত্র-
ধরতে হয় কিংবা ধরা পড়ে যেতে হয়।।
জলের অস্থি
প্রতিটি ফুলের গাছ বিষধর সাপ জড়িয়ে রেখেছে
সুবাস সন্দিগ্ধ আমি; প্রতিটি কলাগাছে কাঁদি কাঁদি
সাপ ধরেছে। সাপে কাটা পরি, ঘুড়ির লেজের মতো
উদাসী চুল, ডানা বিষনীল, এই সময় স্ফূটন উদাস
কেউ ফুটি ফুটি, কেউ ফোটে না_ আসমানও অধীর ।।
নকূল বাবুর কাছে শিখি বেদেবেদবিদ্যা প্রাতকালে
পাঠের ছোবলে আমি বসতের বাস্তমূলে লুকাই
নাকের চিমনি দিয়ে দেহের রসুইঘর থেকে রাঁধুনি ধোঁয়া
পৃথিবীকে জানিয়ে দেয় আমারই আস্বাদন প্রক্রিয়া;
আমার শরীরে আছে জলের অস্থি, শ্রীনধরের কদর
শরীরের জলবায়ু সুবর্ণ হয়, যতোটা লুকাই জলে
ততোটাই প্রকাশ; আমার কেবল লাগে তৃপ্তির তিয়াস।।